গত ২৬ আগস্ট নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও কাদার প্রবল স্রোত আছড়ে পড়ে। অসমের ওই শ্রমিকেরা আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। তাঁদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিপর্যয়ের আগে পাহাড়ি উপত্যকা জুড়ে প্রচণ্ড শব্দ শোনা যায়। তার পরেই কাদা, পাথর ও জলের বিরাট ঢল নেমে এসে জনপদ ও নির্মাণকেন্দ্রগুলিকে মুহূর্তের মধ্যে তছনছ করে দেয়।
প্রাণে বেঁচে ফেরা পঙ্কজ বর্মন বলেন, “শব্দটা ছিল ভয়ঙ্কর। আমরা বুঝেছিলাম, বিরাট কিছু একটা ঘটেছে। কিছু না ভেবেই দৌড়তে শুরু করি।” নিরাপদ জায়গার সন্ধানে তাঁরা একটি পাহাড়ের উঁচু অংশে উঠে যান। সেখানেই প্রায় দু’দিন আটকে ছিলেন। সঙ্গে খাবার ছিল না, পান করার মতো পরিষ্কার জলও মেলেনি।
হোজাই জেলার বাসিন্দা গৌতম দাস জানিয়েছেন, দু’দিন পরে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার তাঁদের দেখতে পায়। প্রথমে আকাশ থেকে জল ও বিস্কুট পৌঁছে দেওয়া হয়। আরও দু’দিন পরে তাঁদের উদ্ধার করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হয়। গৌতম বলেন, “প্রবল স্রোত আমার খুব কাছ দিয়ে চলে গিয়েছিল। কোনও রকমে পালাতে পেরেছি। মৃত্যুকে এত কাছ থেকে দেখেছি—বেঁচে ফেরাটা নিছক সৌভাগ্য।”
গৌতম দাস ও পঙ্কজ বর্মন ছাড়াও ফিরে আসা অন্য ছ’জন হলেন গোপালচন্দ্র দেবনাথ, সমর বেজবরুয়া, সর্বিশন মারাক, সানেশ্বর নার্জারি, সিলভা মারাক এবং এলিপসন সাংমা। দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রার পরে রবিবার সন্ধ্যায় তাঁরা অসমে পৌঁছন। পঙ্কজের কথায়, “শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরছি—এটাই সবচেয়ে বড় কথা।”
উদ্ধার হওয়া শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, আপার ত্রিশূলী-১ প্রকল্পে অসমের মোট ১৩ জন কাজ করছিলেন। তাঁদের মধ্যে নগাঁও, নলবাড়ি ও কার্বি আংলং জেলার পাঁচ শ্রমিক ২৬ আগস্টের পর থেকে নিখোঁজ। তবে অসম সরকারের সহায়তা নম্বরে আরও তিন নিখোঁজ শ্রমিকের পরিবারের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেই হিসাবে রাজ্যটির মোট আট বাসিন্দা এখনও সন্ধানহীন। তাঁদের কারও সঙ্গেই সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি।
বিপর্যয়ের পরে নেপালে আটকে পড়া অথবা নিখোঁজ অসমবাসীর খোঁজ পেতে রাজ্য সরকার বিশেষ সহায়তা নম্বর চালু করে। উদ্ধার হওয়া আট শ্রমিক ওই নম্বরেই যোগাযোগ করেছিলেন। এখন নিখোঁজদের সন্ধান এবং দুর্গম বিপর্যস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানোর দিকে তাকিয়ে রয়েছে তাঁদের পরিবার।