মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারও নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে—এমন তীব্র গুঞ্জন ও উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের রাজনীতি ও প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনেই আঞ্চলিক রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বজায় থাকা ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’র (Neither War Nor Peace) অনিশ্চিত পরিস্থিতি অবিলম্বে সমাপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সর্বোচ্চ নেতার এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে তেহরানের প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি ক্যাবিনেট বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মোজতবা খামেনেইর এই নির্দেশ বাস্তবায়নে তাঁর সরকার সম্পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে সর্বাত্মক পদক্ষেপ করবে। পেজেশকিয়ান সরকারের সমস্ত মন্ত্রী, দপ্তর প্রধান এবং কর্মকর্তাদের যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবং জাতীয় শক্তি বৃদ্ধি করতে পূর্ণ প্রস্তুত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “শত্রুপক্ষ যেন কোনোভাবেই মনে না করে যে তারা ইরানের প্রতিরোধ ও ইচ্ছা শক্তিকে দমিত করতে পারবে বা আমাদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করবে।” ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক আক্রমণের আশঙ্কার মাঝে ইরান তাদের অর্থনৈতিক প্রতিরোধ ও জাতীয় উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর দিকে বিশেষ জোর দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের তরফ থেকে ক্রমাগত হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান যেভাবে তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান সুসংহত করছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক চরম ও নির্ণায়ক মোড়ের দিকে এগোচ্ছে। কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিলেও মোজতবা খামেনেইর এই কড়া বার্তা স্পষ্ট করে দিল যে, কোনো প্রকার অনিশ্চয়তার মধ্যে না থেকে ইরান এবার তাদের নিজেদের শর্তেই লড়াই বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছে।