আমেরিকার দাতাদের অর্থে সিজেপি চলছে বলে এক্সে দাবি মার্কিন গায়িকার

ভারতে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কথিত বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, বাক্‌যুদ্ধে জড়ালেন মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেন এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।

এক্সে একটি পোস্টে মিলবেন দাবি করেন, সিজেপি ‘আমেরিকার দাতাদের অর্থে’ চলছে। ভারতের সমস্ত ‘তরুণ দেশপ্রেমিককে’ এগিয়ে এসে দিপকের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মানসিকতার’ বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানোর আহ্বানও জানান তিনি।

পাল্টা জবাবে দিপকে প্রশ্ন তোলেন, নিজের দেশের নাগরিকদের হেয় করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন আমেরিকানদের সমর্থন চাইছেন।

মিলবেনকে উদ্দেশ করে দিপকে বলেন, “ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার বিদেশি নাগরিকদের কে দিয়েছে? নিজেদের সমস্যা সামলানোর যথেষ্ট ক্ষমতা আমাদের রয়েছে। আমাদের দেশের বিষয়ে বাইরের লোকের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।”

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরে অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে বিরোধী দলগুলি এবং সিজেপির বিক্ষোভের মধ্যেই এই তরজা শুরু হয়।

দিপকেকে পাল্টা জবাব দিয়ে মিলবেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকানদের সমর্থনের প্রয়োজন নেই। কারণ, গত ২৫ বছর ধরে ‘ভারতের ১৫০ কোটি সুন্দর মানুষের’ সমর্থন তাঁর সঙ্গে রয়েছে।

মিলবেনের কথায়, “আর প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকানদের সমর্থনের প্রয়োজন নেই। ভারতের ১৫০ কোটি সুন্দর মানুষ তাঁকে সমর্থন করেন এবং গত ২৫ বছর ধরেই করে আসছেন। তিনি ১২ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী, টানা তিন মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৯ সালেও আবার হবেন। এটাই সত্যি।”

দিপকেকে সতর্ক করে মার্কিন গায়িকা আরও দাবি করেন, তাঁর মার্কিন দাতারা “আপনি সফল না হলেই আপনাকে ছুড়ে ফেলে দেবেন”।

মিলবেন বলেন, “আর আপনি সফল হবেনও না, কারণ আইনশৃঙ্খলাহীনতা কখনও জয়ী হয় না। তার চেয়ে আমেরিকায় পাওয়া শিক্ষা এবং নিজের প্রতিভাকে ভালো কাজে লাগান।” দিপকেকে “প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে আলোচনায় বসে ভারতের অগ্রগতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা” নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “যা সঠিক, তা করার সাহস আপনার সত্যিই আছে কি না, তা বোঝা যাবে আপনার পরবর্তী পদক্ষেপে।”

এর আগে ৪১ বছর বয়সি এই গায়িকা দাবি করেছিলেন, দিপকে ও তাঁর দলকে “আমেরিকার এমন কিছু দাতা অর্থ দিচ্ছেন, যাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর নেতৃত্বে আপনাদের ভবিষ্যতের বিরোধী”।

তাঁর বক্তব্য, এখন “চুপ করে থাকার সময় নয়”। ভারতের “সমস্ত সুন্দর তরুণ দেশপ্রেমিককে” উঠে দাঁড়িয়ে ‘বিশৃঙ্খলাকারী’ শক্তিগুলির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানান তিনি।

পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার তরুণ দেশপ্রেমিকেরা, ভয় পেয়ো না। তোমাদের প্রধানমন্ত্রী ২৫ বছর ধরে ভারতের সেবা করছেন, যার মধ্যে ১২ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। টানা তিন মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আমার দেশের বিশৃঙ্খলাকারী শক্তিগুলির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না।”

মিলবেন আরও দাবি করেন, “এই বাছাই করা দাতাদের বিশ্বজুড়ে কাজের একটি নির্দিষ্ট ধরন রয়েছে—রক্ষণশীল বিশ্বনেতাদের নিশানা করা, সংশ্লিষ্ট দেশের আমেরিকায় পড়াশোনা করা কাউকে খুঁজে বের করা, তাঁকে উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করা, দেশে ফেরত পাঠানো এবং বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করার জন্য অর্থ দেওয়া। এঁদের কেউ সফল হননি, কিন্তু সংশ্লিষ্ট দেশের উন্নয়ন ও শাসনব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলেছেন।”

মার্কিন গায়িকার বক্তব্য, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় সব সময় পাল্টা আন্দোলন থাকা উচিত।

তিনি বলেন, “ভারতে এখন একটি নতুন কণ্ঠস্বর উঠে আসার সময়—যাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষা ভারতের মাটিতেই। উঠে দাঁড়ান, সংগঠিত হোন এবং ককরোচ পার্টির বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মানসিকতার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানান… উঠে দাঁড়াও, তরুণ দেশপ্রেমিকেরা! উঠে দাঁড়াও!”

আফ্রিকান-আমেরিকান এই হলিউড অভিনেত্রী ও গায়িকা ভারতের জাতীয় সংগীত এবং ভক্তিগীতি ‘ওম জয় জগদীশ হরে’ গাওয়ার জন্য এ দেশে পরিচিত। ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আমেরিকা সফরের সময় সেখানে একটি অনুষ্ঠানে ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’ গেয়েছিলেন মিলবেন।