ভারত–আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ‘অত্যন্ত কাছাকাছি’ পৌঁছে গিয়েছে বলে জানালেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। ভারত সফর চলাকালীন দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে দুই দেশ।

কোন বিষয়গুলিতে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি রুবিও। তাঁর কথায়, “কোন কোন জায়গায় বিষয়টি আটকে রয়েছে, সেই বিশদে আমি যেতে চাই না। শুধু বলতে পারি, চুক্তি হাতের নাগালেই রয়েছে। বাকি বিষয়গুলিকে আমি নিছক খুঁটিনাটি বলব না, তবে সেগুলি ভাষা সংক্রান্ত। মূলত নির্দিষ্ট কিছু শব্দ এবং শব্দবন্ধের অর্থ কী হবে, এখন আলোচনা সেই জায়গায় এসে ঠেকেছে।”

রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানিকারী দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আমেরিকা। গত সপ্তাহে অবশ্য সেই শুল্ক থেকে ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভারত–আমেরিকার অর্থনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে রুবিও বলেন, “প্রভাব পড়তেই পারে। এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সে কারণেই বিষয়টি সামলাতে হবে। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সামলাতে হবে। আর ঠিক সে কারণেই আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অবশ্যই এমন কিছু করতে চাই না। এই শুল্কগুলির কোনওটিই ভারতকে শাস্তি দেওয়া বা ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে আরোপ করা হয়নি।”

মার্কিন প্রশাসনের ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়েও একই সুর শোনা যায় রুবিওর কথায়। তিনি বলেন, “গত ২০ বছর ধরে অভিবাসন ব্যবস্থা অবহেলিত হয়েছে। সেই ব্যবস্থার নিয়মকানুন কার্যকরই করা হচ্ছিল না। আমরা সেটাই সংশোধনের চেষ্টা করছি। এর নিশানা ভারত নয়।”

মার্কিন বিদেশসচিব হিসেবে তাঁর প্রায় দু’বছরের অভিজ্ঞতার দিকে ফিরে তাকিয়ে রুবিও বলেন, ভারত–আমেরিকার সম্পর্ক ‘ইতিবাচক’ থেকেছে। ভারতের সঙ্গে ‘অত্যন্ত দৃঢ় সহযোগিতা’র উদাহরণ হিসেবে তিনি কোয়াডের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, এই মঞ্চে এখন “ভাবনাগুলিকে সত্যিই কাজে রূপ দেওয়া শুরু হচ্ছে”।

চিনের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন নরম মনোভাব নিচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নে এই ধারণা খারিজ করেন রুবিও। তিনি বলেন, “‘নরম’ শব্দটি যথাযথ নয়। এই প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি হল, চিনের সঙ্গে সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার কৌশলগত স্থিতিশীলতা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করা।”

তাঁর মতে, আমেরিকা ও চিনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ হলে তা “বিশ্ব অর্থনীতির পক্ষে বিপর্যয়কর” হবে এবং “ভারতের উপরও প্রভাব ফেলবে”।

পাকিস্তানের সেনাকর্তাদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক নিয়ে ভারতের উদ্বেগ দূর করারও চেষ্টা করেন মার্কিন বিদেশসচিব। তিনি বলেন, “ভারতের প্রত্যেকের এই বিষয়ে আশ্বস্ত থাকা উচিত যে, শুধু পাকিস্তান নয়, বিশ্বের অন্য কোনও দেশের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি করে গড়ে উঠবে না। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে আমরা সে ভাবে দেখি না।”