ডাচেস অব সাসেক্স মেগানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ২০১৯ সালে পাঠানো একটি চিঠি সামলানোর ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্ভাব্য গাফিলতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এ বার পুলিশের স্বাধীন নজরদারি সংস্থা ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট অফিস ফর পুলিশ কনডাক্ট’ (আইওপিসি)-র দ্বারস্থ হয়েছে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ নিজেই।

চিঠিতে মেগানের বাবা টমাস মার্কলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ফিলিপিন্সের সঙ্গে যুক্ত শিশুদের যৌন নির্যাতনের ছবি-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। তবে মার্কল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

চিঠিটি তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর লেখা বলে দাবি করা হয়েছে। মেট জানিয়েছে, সাত বছর আগে সেটি ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্সের ব্যক্তিগত দফতরে পাঠানো হয়েছিল। সে সময় তাঁরা দু’জনেই রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করতেন।

দ্য গার্ডিয়ান জানতে পেরেছে, দীর্ঘ ওই চিঠিতে আমেরিকা, ফিলিপিন্স ও তাইল্যান্ডে মার্কলের কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছিল। মেটের বক্তব্য, অভিযোগ অনুযায়ী সম্ভাব্য বেআইনি কাজগুলি বিদেশে ঘটেছিল বলেই তারা সেগুলি নিয়ে তদন্ত করেনি।

তবে পুলিশের সামনে এখন বড় প্রশ্ন, চিঠিতে উল্লিখিত অভিযোগগুলির বিস্তারিত তথ্য কেন বিদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে জানানো হয়নি। মেট স্বীকার করেছে, সেই সময় তারা চিঠিটি সংশ্লিষ্ট কোনও বিদেশি সংস্থার কাছে পাঠায়নি। এই সিদ্ধান্ত-সহ গোটা বিষয়টি এ বার আইওপিসি-র কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ান আরও জানতে পেরেছে, মেট এখন চিঠির বিস্তারিত তথ্য আমেরিকার এফবিআই, ফিলিপিন্সের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং তাইল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাচ্ছে। গত মে মাস পর্যন্ত মার্কল ফিলিপিন্সে থাকতেন।

বর্তমানে আমেরিকায় থাকা মার্কল অর্থের বিনিময়ে যৌনসম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। তবে আইনত নিষিদ্ধ কোনও সামগ্রী নিজের কাছে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শনিবার ফিলিপিন্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনভিক রেমুলা দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, সমস্ত ইঙ্গিত থেকে মনে হচ্ছে মার্কল সম্ভবত “অত্যন্ত জঘন্য ধরনের যৌন অপরাধী”। তাঁর বক্তব্য, পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক তদন্তেই “নিশ্চিত চিত্র” পাওয়া যাবে।

ফিলিপিন্সের সরকারি আধিকারিক ও তদন্তকারীরা কিছু ডিজিটাল ছবি পরীক্ষা করছেন। দাবি করা হয়েছে, ছবিগুলি ডাচেস অব সাসেক্সের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছিন্ন তাঁর বাবার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ওই দেশে তাঁর আগের বাড়িতে সেগুলি পাওয়া গিয়েছে।

মেগানের সৎভাই, যাঁর নামও টমাস, গত সপ্তাহে ফিলিপিন্সের কর্তৃপক্ষকে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ছবি পাওয়া গিয়েছে বলে জানান।

চিঠিটি এবং সেটি সামলানোর ক্ষেত্রে মেটের কথিত ব্যর্থতার বিষয়টি এক সপ্তাহ আগে প্রকাশ্যে আসে। তবে মার্কলের প্রাক্তন স্ত্রীর লেখা বলে দাবি করা ওই অভিযোগপত্রের কোনও কপি নিজেদের নথিতে খুঁজে পায়নি মেট।

মেটের প্রোটেকশন কমান্ডের প্রধান কমান্ডার অ্যাডাম স্লোনেকি জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে চিঠিটি ‘ফিক্সেটিভ থ্রেটস অ্যাসেসমেন্ট সেন্টার’-এ পাঠানো হয়েছিল। তাঁর কথায়, “চিঠির লেখক জানিয়েছিলেন, ডাচেস অব সাসেক্সের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতেই তিনি লিখছেন। যদিও চিঠিতে নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কোনও নির্দিষ্ট তথ্য ছিল না, তাতে যুক্তরাজ্যের বাইরে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা কয়েকটি অপরাধের উল্লেখ ছিল।

“চিঠিটি মূল্যায়নের পরে বিষয়টি তাঁদের নজরে আনার জন্য ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্সের দফতরে পাঠানো হয়। কিন্তু চিঠিতে উল্লিখিত অভিযোগগুলির বিস্তারিত তথ্য অন্য কোনও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানো হয়নি।”

স্লোনেকি আরও বলেন, “অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে না জানানোর সিদ্ধান্ত এবং চিঠিটি ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্সের দফতরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত—এই দুই বিষয়ই আমরা স্বেচ্ছায় ইন্ডিপেন্ডেন্ট অফিস ফর পুলিশ কনডাক্টের কাছে পাঠিয়েছি।”

সাত বছর আগে কীভাবে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছিল, তা আরও ভাল ভাবে বুঝতে মেট ডাচেস অব সাসেক্সের কাছে থাকা চিঠির কপিটি চেয়েছিল। কারণ, নিজেদের নথিপত্রে ২০১৯ সালের ওই সতর্কবার্তার কোনও কপি খুঁজে পায়নি পুলিশ। মেগান সেই কপি পাঠিয়েছেন।

আইওপিসি-র এক মুখপাত্র বলেন, “মেট পুলিশ স্বেচ্ছায় তাদের ভূমিকা পর্যালোচনার জন্য একটি বিষয় আমাদের কাছে পাঠিয়েছে। ২০১৯ সালে তাদের পাওয়া একটি চিঠি, যাতে অপরাধের অভিযোগ ছিল, সেটি কীভাবে সামলানো হয়েছিল—বিষয়টি তার সঙ্গে সম্পর্কিত। পরবর্তী কোনও পদক্ষেপ প্রয়োজন কি না, তা ঠিক করার আগে আমরা এখন বিষয়টি মূল্যায়ন করছি।”

সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে নজরদারি সংস্থার নিজস্ব স্বাধীন তদন্ত শুরু করা অথবা তদন্তের জন্য বিষয়টি মেটের কাছেই ফেরত পাঠানো।

মেটের উপর চাপ কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করছে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ছবি-সংক্রান্ত অভিযোগগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ফিলিপিন্সের তদন্তকারীদের ফরেনসিক মূল্যায়নের উপর। অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তাধীন—তাই সেগুলিকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।