প্রশান্ত মহাসাগরে একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করল চীন। চীনা নৌবাহিনীর বক্তব্য, দেশটির একটি কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত সমুদ্রাঞ্চলে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। এমন এক সময়ে এই পরীক্ষা হল, যখন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের সামরিক তৎপরতা নিয়ে আগেই বাড়ছিল জল্পনা।
চীনা নৌবাহিনীর মুখপাত্র ওয়াং শুয়েমেং জানান, সোমবার দুপুর ১২টা ১ মিনিটে গণমুক্তি ফৌজের নৌবাহিনীর একটি কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে প্রশিক্ষণমূলক অনুকরণী ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ভুলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছেছে এবং গোটা পরীক্ষাই সফল হয়েছে।
বেইজিংয়ের দাবি, এটি তাদের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিরই একটি নিয়মিত অংশ। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে আগেভাগে পরীক্ষার বিষয়ে জানানো হয়েছিল বলেও জানিয়েছে চীনা নৌবাহিনী। ফলে সমুদ্রপথে চলাচল বা আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কোনও অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি তৈরি হয়নি বলে তাদের দাবি।
তবে এই পরীক্ষার কৌশলগত তাৎপর্য নিয়েই এখন জোর আলোচনা। সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ান প্রণালী, দক্ষিণ চীন সাগর এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমশ বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চীনের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধক্ষমতার প্রদর্শন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে একই দিনে শুরু হওয়া চীন-রাশিয়ার বার্ষিক যৌথ নৌ-মহড়া। পূর্ব চীনের কিংদাও উপকূলে অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে দুই দেশের যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, সামরিক বিমান এবং নৌ-অভিযানে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইউনিট। সমুদ্রযুদ্ধের একাধিক কৌশলগত অনুশীলনও হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং একই দিনে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়ার সূচনা নিছক কাকতালীয় নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার আবহে বেইজিং যে নিজের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতার বার্তা দিতে চাইছে, এই দুই পদক্ষেপকে সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।