সরকারপক্ষের অভিযোগ, নির্বাসিত গণতন্ত্রপন্থী নেতা নাথান ল এবং অন্য কয়েকজনের সঙ্গে মিলে বিদেশি সরকার ও সংস্থাগুলিকে চিন ও হংকংয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন ওং। অভিযোগের সময়সীমা ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২৩ নভেম্বর। ওই বছরের ৩০ জুন হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর করেছিল বেজিং।
আদালতে সরকারপক্ষ জানায়, ওং ও নাথান ল ২০১৬ সাল থেকেই আন্তর্জাতিক স্তরে প্রচার চালানোর বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। তাঁদের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক সংগঠন ‘ডেমোসিস্টো’-র মাধ্যমে বিদেশি নেতা, প্রতিষ্ঠান এবং সংবাদমাধ্যমের কাছে হংকংয়ের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নটি তুলে ধরা হত। ২০২০ সালে নিরাপত্তা আইন চালু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে সংগঠনটি ভেঙে দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও সমাজমাধ্যম ও বিদেশি সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে ওংয়ের বিরুদ্ধে।
মামলার নথিতে একটি অনলাইন আবেদনপত্রের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইজরায়েলের একটি বৈদ্যুতিন অনুসন্ধান সংস্থাকে হংকং পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন নাথান ল। সরকারপক্ষের দাবি, ওং সেই উদ্যোগকে সমাজমাধ্যমে সমর্থন করেছিলেন। তাঁদের প্রচারের সঙ্গে আমেরিকার কয়েকজন চিনা ও হংকং আধিকারিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রত্যর্পণ চুক্তি স্থগিত করার মতো পদক্ষেপের যোগ ছিল বলে আদালতে দাবি করা হয়।
ওংয়ের আইনজীবী সাজা কমানোর আবেদন জানিয়ে বলেন, মাত্র ২৪ বছর বয়স থেকে তিনি কারাবন্দি এবং ইতিমধ্যেই প্রায় ছ’বছর বন্দিজীবন কাটিয়েছেন। এই সময়ে নিজের কাজ নিয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তা করেছেন। মুক্তি পেলে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনা করতে চান। তাঁর বর্তমান কারাদণ্ডের মেয়াদ ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
২০২০ সালের একটি বেসরকারি প্রাথমিক নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে অচল করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার দায়ে ওং বর্তমানে চার বছর আট মাসের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এটি জাতীয় নিরাপত্তা আইনে তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলা। কিশোর বয়সেই আন্দোলনে নামা ওং ২০১৪ সালের ‘ছাতা আন্দোলন’-এর অন্যতম মুখ হয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছিলেন।
বেজিং ও হংকং প্রশাসনের বক্তব্য, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় এই আইন অপরিহার্য। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠন ও পশ্চিমি দেশগুলির অভিযোগ, ভিন্নমত দমন এবং হংকংয়ের একদা প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করতেই আইনটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ওংয়ের স্বীকারোক্তি সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করল।