হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাল ভারত। রবিবার একটি জাহাজে ড্রোন আঘাত হানার পর নিখোঁজ হয়েছেন দুই ভারতীয় নাবিক। অন্য একটি জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত করার পর আগুন ধরে যায়। যদিও দ্বিতীয় জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদ রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের উপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি তুলেছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপদ ও বাধাহীন নৌচলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

রবিবার এমটি পেট্রো ডলফিন নামে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন আঘাত হানে। জাহাজটিতে ছিলেন ১১ জন ভারতীয় নাবিক। তাঁদের মধ্যে দু’জনের কোনও খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধান ও উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারতীয় দূতাবাস। তবে তাঁদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

অন্যদিকে, পৃথক ঘটনায় আক্রান্ত হয় এমটি ভালথেরা। জাহাজটিতে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত করার পর আগুন ধরে যায়। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ওই জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদ রয়েছেন। তবে কী ধরনের বস্তু জাহাজটিতে আঘাত করেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুটি ঘটনায় হামলার ধরন আলাদা হলেও, বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে মাসকাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। ওমানের কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চলছে। বিশেষ করে নিখোঁজ দুই ভারতীয় নাবিকের সন্ধান এবং আক্রান্ত জাহাজগুলিতে থাকা ভারতীয় কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। বাণিজ্যিক জাহাজের উপর একের পর এক হামলার ঘটনা গভীর উদ্বেগের। নয়াদিল্লির আশঙ্কা, এমন হামলা ইতিমধ্যেই অস্থির হয়ে থাকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই অবিলম্বে উত্তেজনা কমিয়ে সংঘাত থামানোর আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

নয়াদিল্লির বার্তা স্পষ্ট—সংঘাতের সমাধান খুঁজতে হবে আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে। সামুদ্রিক বাণিজ্যে যুক্ত অসামরিক জাহাজ এবং সেখানে কর্মরত নাবিকদের নিশানা করা চলবে না। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাণিজ্যিক জাহাজ, নাবিক এবং অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা বন্ধ করতে হবে।”

শুধু নাবিকদের নিরাপত্তাই নয়, আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌচলাচল বজায় রাখার উপরও জোর দিয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক আইন মেনে সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপদ ও বাধাহীন প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। সংঘাতের আবহে এই জলপথে কোনও বিঘ্ন তৈরি হলে তার প্রভাব বাণিজ্যিক জাহাজের কর্মীদের পাশাপাশি বৃহত্তর সামুদ্রিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে।

তবে এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত বিবরণে কোনও নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীকে হামলার জন্য দায়ী করা হয়নি। পেট্রো ডলফিনে ড্রোন আঘাত হানার খবর মিললেও, ভালথেরায় আঘাতকারী বস্তুটির পরিচয় অজানা। ফলে দুটি হামলার পিছনে একই পক্ষের হাত রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্যও নেই। ভারতের প্রতিক্রিয়ার মূল বিষয় আপাতত হামলার নিন্দা, নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধান এবং উত্তেজনা প্রশমন।

দুটি জাহাজেই ১১ জন করে ভারতীয় নাবিক ছিলেন। কিন্তু তাঁদের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। ভালথেরার নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলেও, পেট্রো ডলফিনের দুই নাবিকের নিখোঁজ থাকার খবর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তাঁদের সন্ধান পাওয়া এবং দ্রুত উদ্ধার করা এখন সবচেয়ে জরুরি।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার অভিঘাত যে বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত সাধারণ মানুষের জীবনেও সরাসরি এসে পড়ছে, এই ঘটনাগুলি ফের তা সামনে আনল। একদিকে নিখোঁজ দুই নাবিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা, অন্যদিকে আক্রান্ত জাহাজের কর্মীদের সুরক্ষা—দুই দিকেই নজর রাখছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আগেই হামলা বন্ধ করে আলোচনার পথ খুলতে হবে। কারণ, আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তার প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিষয় মানুষের জীবন।