প্রচলিত ক্রিসপার-ক্যাস৯ ডিএনএর দুই সুতোই কাটতে পারে। সেই ছেদ মেরামতের সময় বড় অংশ মুছে যাওয়া, ক্রোমোজোম ভাঙা বা অনিচ্ছাকৃত পুনর্বিন্যাসের ঝুঁকি থাকে। ভিত্তি-সম্পাদক সম্পূর্ণ দ্বিসূত্র ছেদ না করে একটি রাসায়নিক অক্ষর বদলায়। ব্যবহৃত অ্যাডেনিন সম্পাদক ডিএনএর এ–টি জোড়কে জি–সি জোড়ে রূপান্তর করতে পারে। গবেষকেরা পিসিএসকে৯ জিনে কার্যকারিতা থামানোর সংকেত তৈরির চেষ্টা করেছেন।
ফলাফলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সম্পাদকের সরবরাহ-পদ্ধতি। বার্তাবাহী আরএনএ হিসেবে সম্পাদক প্রবেশ করালে তার কাজ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ৪৪টির মধ্যে ৩৮টি ভ্রূণ এক থেকে চার কোষের পর্যায়ে থেমে যায়। নির্দেশক আরএনএ না দিলেও অনেক ভ্রূণ থামায় গবেষকেরা বুঝেছেন, লক্ষ্যস্থলের সম্পাদনা নয়, সম্পাদকের দীর্ঘস্থায়ী রাসায়নিক ক্রিয়াই বিষক্রিয়ার প্রধান কারণ হতে পারে।
এর বিপরীতে, আগে থেকে তৈরি সম্পাদক-প্রোটিন এবং নির্দেশক আরএনএ একসঙ্গে অল্প সময়ের জন্য প্রবেশ করালে সম্পাদনা কার্যকর থেকেছে এবং অনেক ভ্রূণ ব্লাস্টোসিস্ট পর্যায় পর্যন্ত স্বাভাবিক ভাবে বিকশিত হয়েছে। স্বল্পস্থায়ী প্রোটিন দ্রুত ভেঙে যাওয়ায় অনিচ্ছাকৃত ক্রিয়ার সময় কমে যায়। এই তুলনা ভবিষ্যৎ দেহকোষ-ভিত্তিক চিকিৎসাতেও গুরুত্বপূর্ণ—শুধু কোন সম্পাদক ব্যবহার করা হচ্ছে নয়, কতক্ষণ কোষে সক্রিয় থাকছে, সেটিও নিরাপত্তা নির্ধারণ করে।
তবু পদ্ধতিটি নির্ভুল হয়নি। কিছু ভ্রূণে সব কোষে একই পরিবর্তন ঘটেনি, যাকে মোজাইকতা বলা হয়। লক্ষ্যস্থলের বাইরে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন, সম্পাদকের নিজস্ব বিষক্রিয়া এবং বিরল ক্রোমোজোমগত সমস্যা পাওয়া গেছে। গবেষণার সহলেখক অড্রোনে লাপিনাইতে নিজেই এই সীমাবদ্ধতাগুলিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন। কোনও ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপন করা হয়নি এবং গবেষণাটি উত্তরাধিকারযোগ্য জিন-চিকিৎসার অনুমোদন দেয় না।
বিশ্লেষণ: পিসিএসকে৯ নির্বাচন করায় নৈতিক প্রশ্নটি আরও তীক্ষ্ণ। উচ্চ কোলেস্টেরলের চিকিৎসায় খাদ্যাভ্যাস, ওষুধ এবং প্রাপ্তবয়স্কের যকৃতকোষে পরীক্ষামূলক জিন-সম্পাদনার পথ রয়েছে। এমন সমস্যার জন্য ভ্রূণের প্রতিটি কোষ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মে স্থায়ী পরিবর্তন ঘটানোর চিকিৎসাগত প্রয়োজন অত্যন্ত দুর্বল। পরীক্ষাটি তাই রোগমুক্ত ‘নকশা করা শিশু’র দিকে সরাসরি পদক্ষেপ নয়; নিরাপত্তার সীমা দেখার পরীক্ষাগারভিত্তিক কাজ।
একই পরিবর্তন ভবিষ্যৎ সন্তানের মধ্যেও যেতে পারে বলে ভুলের ফল ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বিরল অনিচ্ছাকৃত সম্পাদনা ছোট পরীক্ষায় ধরা না-ও পড়তে পারে এবং তার প্রভাব বহু বছর পরে প্রকাশ পেতে পারে। গবেষণাটি ভিত্তি-সম্পাদনা যে দ্বিসূত্র ছেদের কিছু বিপদ কমাতে পারে, তা দেখিয়েছে; পাশাপাশি নতুন ধরনের বিষক্রিয়াও প্রকাশ করেছে।
সবচেয়ে সংযত সিদ্ধান্ত হল, মানবভ্রূণে এক অক্ষর বদলানো প্রযুক্তিগত ভাবে আগের চেয়ে দক্ষ হয়েছে, নিরাপদ প্রজনন-চিকিৎসা হয়ে ওঠেনি। গবেষণার মূল্য এখানেই—সাফল্যের বিজ্ঞাপনের সঙ্গে ব্যর্থ ৩৮টি ভ্রূণ, মোজাইকতা ও ক্রোমোজোমের বিরল সমস্যা একই নথিতে রাখা হয়েছে।