লগইনসদস্যতালেখক
হোম›সর্বশেষ›পড়ুয়া মৃত্যুর পাঁচ দিন পর কড়া বার্তা আইআইটি-র
সর্বশেষ

পড়ুয়া মৃত্যুর পাঁচ দিন পর কড়া বার্তা আইআইটি-র

ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটালে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সতর্ক করলেন দিল্লি আইআইটির অধিকর্তা রঙ্গন বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩১ বছরের স্নাতকোত্তর পড়ুয়া ঋষিকেশ কুমারের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা…

পড়ুয়া মৃত্যুর পাঁচ দিন পর কড়া বার্তা আইআইটি-র

ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটালে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সতর্ক করলেন দিল্লি আইআইটির অধিকর্তা রঙ্গন বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩১ বছরের স্নাতকোত্তর পড়ুয়া ঋষিকেশ কুমারের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা পাঁচ দিন ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে মধ্যরাতে বিক্ষোভের পরেই এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

পড়ুয়াদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় অধিকর্তা বলেন, ‘‘সে রাতে সাড়ে দশটা থেকে সাড়ে বারোটা পর্যন্ত এক দল বিক্ষোভকারী তাঁদের আন্দোলন ক্যাম্পাসের আবাসিক এলাকায় নিয়ে যান। শিক্ষকদের আবাসনের সামনে সরাসরি বিক্ষোভ দেখান এবং স্লোগানে অশোভন, অপমানজনক ও হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করেন।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এই ধরনের আচরণ শিক্ষক এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত পরিসর ও শান্তি বিঘ্নিত করে। তাঁদের পরিবারের মধ্যে ছোট শিশু ও নির্ভরশীল প্রবীণেরাও রয়েছেন। আবাসিক এলাকা, পঠনপাঠন এবং শিক্ষাসংক্রান্ত ও অন্যান্য কার্যকলাপ-সহ ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ কাজকর্মে যাঁরা ব্যাঘাত ঘটাবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।’’

ঋষিকেশের মৃত্যুর ঘটনায় কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা-ও একই বার্তায় জানিয়েছেন অধিকর্তা। তিনি লেখেন, ‘‘বহিরাগত সদস্যদের নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ তহবিল থেকে পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন মিলেছে। শিক্ষক, পড়ুয়া ও কর্মীদের স্বেচ্ছা অনুদান নিয়ে পৃথক একটি তহবিলও গঠন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানের বাইরের একজন অভিযোগ নিষ্পত্তি আধিকারিক নিয়োগ করা হবে। আমরা সদিচ্ছার সঙ্গে ছাত্র প্রতিনিধি এবং অন্য পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’’

প্রবেশপথে কড়াকড়ি, পড়ুয়াদের ক্ষোভ

তীব্র ছাত্রবিক্ষোভ এবং প্রশাসনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান টানাপড়েনের মধ্যেই ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় পরিচয় যাচাইয়ে হঠাৎ কড়াকড়ি শুরু হয়েছে।

শনিবার ক্যাম্পাসের একটি ভবনের ছয়তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে ঋষিকেশ আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ।

আন্দোলনরত পড়ুয়ারা ঋষিকেশের মৃত্যুর স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ডিন, ছাত্রকল্যাণের সহযোগী ডিন, ছাত্রাবাস পরিচালনার সহযোগী ডিন এবং পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রধানের পদত্যাগ চেয়েছেন তাঁরা। ঋষিকেশের পরিবারকে অন্তত এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও উঠেছে। পড়ুয়াদের দাবি, ২০২৩ সাল থেকে এই নিয়ে ক্যাম্পাসে আট জন আত্মহত্যা করেছেন।

একই দিনে পড়ুয়াদের পাঠানো পৃথক বার্তায় নিরাপত্তাপ্রধান লেখেন, ‘‘প্রাঙ্গণে প্রবেশ বা বেরোনোর সময় সকলকে সতর্কভাবে প্রবেশপথ ব্যবহার করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’’

এই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গবেষক পড়ুয়া বলেন, ‘‘সত্যি বলতে, আগে বন্ধুদের এমনিই ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হত। কিন্তু এখন আমাদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে… আগে কখনও এমন হয়নি।’’

‘নিজেকে টিকিয়ে রাখুন, আন্দোলন ও আশাকে বাঁচিয়ে রাখুন’

শুক্রবার আন্দোলন পঞ্চম দিনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আসন্ন ছুটিতে বিক্ষোভের গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কার জন্যও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন পড়ুয়ারা।

পড়ুয়াদের মধ্যে প্রচারিত একটি অভ্যন্তরীণ বার্তায় বলা হয়, ‘‘যাঁরা একটানা এখানে বিক্ষোভে শামিল রয়েছেন, তাঁরা যথেষ্ট ক্লান্ত। কিন্তু যতক্ষণ কেউ না কেউ আসছেন, আন্দোলন সম্পূর্ণ স্তিমিত হয়ে যাচ্ছে না, ততক্ষণ ছুটি শেষ হলে তা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।’’

বার্তাটিতে আরও বলা হয়, ‘‘আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হলেই সাধারণত সাফল্য আসে। আন্দোলনকারীদের ক্লান্ত হয়ে পড়ার অপেক্ষায় সময় কাটানো প্রশাসনের পক্ষে কার্যকর কৌশল।’’ বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে পড়াশোনার কাজ বাদ পড়ায় পড়ুয়ারা ইতিমধ্যেই তার ফল ভুগছেন বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের সামনে থাকা বাধাগুলির প্রসঙ্গে ওই পড়ুয়া লেখেন, ‘‘এ সব যেন আপনাদের দমিয়ে দিতে না পারে, এই আন্দোলন নিয়ে আপনাদের আশা যেন হারিয়ে না যায়… নিজেকে টিকিয়ে রাখুন, আন্দোলনকে বাঁচিয়ে রাখুন, আশাকে বাঁচিয়ে রাখুন।’’

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক