দোষী সাব্যস্ত হলেও ২০২৭-এর প্রেসিডেন্ট ভোটে লড়ার ঘোষণা

হাইলাইটস:

  • ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা মেরিন লে পেনের।
  • ইইউ তহবিল আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করল আপিল আদালত।
  • এক বছরের ইলেকট্রনিক গোড়ালি-ব্যান্ডসহ নজরদারির সাজা বহাল।
  • সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করায় আপাতত শাস্তি কার্যকর হবে না।
  • লে পেনের দাবি, তিনি নির্দোষ এবং নির্বাচনী প্রচারে কোনও বাধা হবে না।

আইনি ধাক্কার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা দিলেন ফ্রান্সের কট্টর-ডানপন্থী নেতা মেরিন লে পেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তহবিল আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরই তিনি ঘোষণা করলেন, ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন।

মঙ্গলবার রাতে টিএফ১-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৫৭ বছর বয়সি লে পেন বলেন, “আজ রাতেই আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী।”

কী বলেছে আদালত?

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ফ্রান্সের আপিল আদালত লে পেনের বিরুদ্ধে আগের রায় বহাল রাখে। আদালতের মতে, ২০০৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ২৮ লক্ষ ইউরোরও বেশি তহবিল ভুয়ো চাকরির মাধ্যমে দলীয় কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

রায়ে তিন বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দুই বছরের সাজা স্থগিত থাকবে। বাকি এক বছর ইলেকট্রনিক গোড়ালি-ব্যান্ড পরে নজরদারির মধ্যে কাটাতে হবে।

আপিলেই মিলল স্বস্তি

তবে লে পেন জানিয়েছেন, তিনি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত ‘কুর দ্য কাসাসিওঁ’-এ আপিল করবেন। সেই কারণে আপাতত এই সাজা কার্যকর হবে না। ফলে নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁকে ইলেকট্রনিক গোড়ালি-ব্যান্ড পরতে হবে না।

তাঁর দাবি, “আমরা নিজেদের নির্দোষ বলেই মনে করি। শেষ কথা বলবেন দেশের ভোটাররা।”

বিরোধীদের তোপ

লে পেনের এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

বামপন্থী নেতা মানোঁ অব্রি কটাক্ষ করে বলেন, “এতে প্রমাণিত হল, ন্যাশনাল র‍্যালি চোর ও মিথ্যাবাদীদের দল।”

অন্যদিকে, সমাজতান্ত্রিক দলের প্রধান অলিভিয়ে ফোর-এর মন্তব্য, একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর আদর্শ হওয়া উচিত। তাঁর কথায়, “এখন মেরিন লে পেনের বিচার করবে তাঁর নিজের বিবেক।”

২০২৭-এর লড়াই জমে উঠছে

গত মার্চে নিম্ন আদালত লে পেনকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে লড়ার অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। তবে আপিল আদালত সেই নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে ১৫ মাস করেছে। সেই সময়সীমা ইতিমধ্যেই শেষ হওয়ায় তিনি ফের নির্বাচনে লড়ার যোগ্যতা ফিরে পেয়েছেন। পাশাপাশি তাঁকে এক লক্ষ ইউরো জরিমানাও করা হয়েছে।

২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এমানুয়েল মাক্রোঁ-র কাছে পরাজিত হলেও ৪১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন লে পেন। সংবিধান অনুযায়ী, মাক্রোঁ আর তৃতীয়বার প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে ২০২৭ সালের নির্বাচনকে ফ্রান্সের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।