ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে কলকাতার নিউ টাউনের ইকো পার্কে তাঁর ১২৫ ফুট উচ্চতার প্রস্তাবিত মূর্তির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভূমিপুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পকে বিজেপি কেবল একটি স্মারক নির্মাণ হিসেবে নয়, বরং শ্যামাপ্রসাদের ভাবনা ও আদর্শের পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবেই তুলে ধরেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব, বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক।
প্রস্তাবিত মূর্তির উচ্চতা হবে ১২৫ ফুট। নির্মাণ শেষ হলে এটি দেশের মধ্যে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সর্বোচ্চ মূর্তি হবে বলে দাবি বিজেপির। দলের বক্তব্য, নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর জাতীয়তাবাদী দর্শন, শিক্ষাবিদ হিসেবে অবদান এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ভূমিপুজোর পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তাঁর দাবি, দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রশ্নে শ্যামাপ্রসাদের অবস্থান ছিল ঐতিহাসিক এবং জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ সংহতির দাবিতে তাঁর আন্দোলন পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেছিল।
শাহ আরও বলেন, শ্যামাপ্রসাদ শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা নন; তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংসদীয় গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর এবং জাতীয় স্বার্থে আপসহীন নেতা। সেই উত্তরাধিকারকে স্থায়ীভাবে স্মরণীয় করতেই এই বৃহৎ প্রকল্পের সূচনা।
অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাংলার অন্যতম কৃতী সন্তান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়ার পথে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাঁর মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিসরে শ্যামাপ্রসাদের অবদানকে আরও বেশি মানুষের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
ইকো পার্কের অনুষ্ঠান শেষে অমিত শাহ ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন। পরে বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ১২৫তম জন্মবার্ষিকীর স্মরণসভাতেও যোগ দেন। পাশাপাশি বিজেপির সাংগঠনিক কর্মসূচি ও আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ারও কথা ছিল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কর্মসূচি শুধু একটি স্মারক নির্মাণের সূচনা নয়, বরং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উত্তরাধিকারকে সামনে রেখে বাংলায় বিজেপির রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানকে আরও জোরালো করার কৌশলের অংশ। তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী এক বছর ধরে একাধিক স্মারক কর্মসূচিরও পরিকল্পনা করেছে দল।