লগইনসদস্যতালেখক
হোম›সর্বশেষ›স্বাস্থ্য শিবিরের পর পা হারানোর অভিযোগ, অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলা
সর্বশেষ

স্বাস্থ্য শিবিরের পর পা হারানোর অভিযোগ, অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলা

বাংলাস্ফিয়ার: একটি স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসা নেওয়ার পর এক মহিলার একটি পা কেটে বাদ দিতে হয়েছে— এমন অভিযোগকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওই মহিলা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয়…

স্বাস্থ্য শিবিরের পর পা হারানোর অভিযোগ, অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলা

বাংলাস্ফিয়ার: একটি স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসা নেওয়ার পর এক মহিলার একটি পা কেটে বাদ দিতে হয়েছে— এমন অভিযোগকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওই মহিলা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় একটি স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসা ও ইনজেকশন নেওয়ার পরই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে তাঁর একটি পা কেটে বাদ দিতে বাধ্য হন। এই ঘটনায় অভিষেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও হস্তক্ষেপ করেছেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রের খবর, আক্রান্ত মহিলার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য শিবিরটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, সেখানে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল কি না, চিকিৎসা প্রদানকারীদের যোগ্যতা কী ছিল এবং স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না।

পরিবারের দাবি, সামান্য শারীরিক সমস্যার জন্য ওই মহিলা শিবিরে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকেই তাঁর পায়ে অসহ্য যন্ত্রণা, ফোলা এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হলেও অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁকে বড় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, সংক্রমণ এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে প্রাণ বাঁচাতে একটি পা কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই।

মহিলার অভিযোগ, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হলে হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্য শিবিরে অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁকে আজীবনের জন্য পঙ্গুত্বের মুখে পড়তে হয়েছে।

এই অভিযোগ সামনে আসতেই স্বাস্থ্য দপ্তর নড়েচড়ে বসে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘটনার রিপোর্ট তলব করেন এবং জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আক্রান্ত মহিলার চিকিৎসার সমস্ত নথি, স্বাস্থ্য শিবিরের অনুমোদন, সেখানে ব্যবহৃত ওষুধ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, প্রাথমিকভাবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হচ্ছে না। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, হাসপাতালের রিপোর্ট এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদি চিকিৎসায় গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গের প্রমাণ মেলে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশও সমান্তরালভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তকারীরা স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করছেন। শিবিরে ব্যবহৃত চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধের উৎস সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামতও নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও গাফিলতির সম্পর্ক নেই। মহিলার শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাই নির্ধারণ করতে পারবেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছনোর আবেদনও জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য শিবিরগুলির নিরাপত্তা, চিকিৎসার মান এবং পর্যাপ্ত নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবির পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চিকিৎসা-প্রোটোকল, জীবাণুমুক্ত পরিবেশ, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার উপস্থিতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও চিকিৎসাজনিত জটিলতার জন্য একক কোনও কারণকে দায়ী করার আগে চিকিৎসা-সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য, সংক্রমণের প্রকৃতি, রোগীর পূর্ববর্তী শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তাই তদন্তের ফলই এই ঘটনায় প্রকৃত দায় নির্ধারণ করবে।

এখন নজর তদন্তের দিকে। স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রশাসনিক অনুসন্ধান এবং পুলিশের ফৌজদারি তদন্ত— দুই প্রক্রিয়ার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে এই বহুচর্চিত মামলার ভবিষ্যৎ এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক