লগইনসদস্যতালেখক
হোম›ভারত›“অন্য কেউ বিরোধী দলনেতা হলে সমস্যা কোথায়?” — শোভনদেবের মামলায় হাই কোর্টের প্রশ্ন
ভারত

“অন্য কেউ বিরোধী দলনেতা হলে সমস্যা কোথায়?” — শোভনদেবের মামলায় হাই কোর্টের প্রশ্ন

হাইলাইটস: বিরোধী দলনেতা পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতি চ্যালেঞ্জ করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদন শুনল কলকাতা হাই কোর্ট। শুনানিতে আদালত প্রশ্ন তোলে, “অন্য কেউ বিরোধী দলনেতা হলে সমস্যাটা কোথায়?” আদালতের পর্যবেক্ষণ, আপাতত…

“অন্য কেউ বিরোধী দলনেতা হলে সমস্যা কোথায়?” — শোভনদেবের মামলায় হাই কোর্টের প্রশ্ন

হাইলাইটস:

  • বিরোধী দলনেতা পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতি চ্যালেঞ্জ করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদন শুনল কলকাতা হাই কোর্ট।
  • শুনানিতে আদালত প্রশ্ন তোলে, “অন্য কেউ বিরোধী দলনেতা হলে সমস্যাটা কোথায়?”
  • আদালতের পর্যবেক্ষণ, আপাতত পদে কে থাকছেন, তার ফলে কী অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, তা আবেদনকারীকে দেখাতে হবে।
  • স্পিকারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মূল মামলার শুনানি এখনও বাকি।

বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সংঘাত এবার আদালতের পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে নতুন মাত্রা পেল। তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় যে আবেদন করে বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি চ্যালেঞ্জ করেছেন, সেই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্ট প্রশ্ন তুলেছে, “অন্য কেউ বিরোধী দলনেতা হলে সমস্যাটা কোথায়?”

এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ আদালত মূলত জানতে চেয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ না দিলে আবেদনকারীর কী ধরনের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। আদালতের মতে, শুধু পদটি অন্য কারও কাছে চলে যাওয়া যথেষ্ট কারণ নয়; এর ফলে আইনগত বা সাংবিধানিকভাবে কী ক্ষতি হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে।

ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে সোভানদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু পরে দলভাঙনের আবহে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের একটি অংশ আলাদা অবস্থান নেয়। স্পিকার রথীন্দ্র বসু শেষ পর্যন্ত ঋতব্রতকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে শোভনদেব আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁর যুক্তি, বিরোধী দলনেতা মনোনয়নের অধিকার রাজনৈতিক দলের, বিধানসভায় কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নয়। এছাড়া ঋতব্রত দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া আইনসঙ্গত নয় বলেও দাবি করা হয়।

অন্যদিকে স্পিকারের পক্ষে আদালতে সওয়াল করা হয় যে, বিধানসভার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তের একটি বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা রয়েছে। দল থেকে বহিষ্কার হওয়া মানেই কোনও সদস্যের বিধায়ক পদ খারিজ হয়ে যাওয়া নয়। ফলে বিধানসভার ভেতরে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের প্রশ্ন বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও স্পিকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি জানতে চান, শোভনদেবের পক্ষে জমা পড়া প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাত দিন সময় লাগল কেন এবং একই দলের দু’টি আলাদা দাবি সামনে এলে স্পিকারের দায়িত্ব কী হওয়া উচিত। সেই শুনানিতে আদালত স্পিকারের ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের যুক্তি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে।

তবে সর্বশেষ শুনানিতে আদালতের মূল জোর ছিল অন্তর্বর্তীকালীন রিলিফের প্রশ্নে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট, আদালত আপাতত পদাধিকারীর পরিচয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মামলার আইনগত ভিত্তিকে। অর্থাৎ, চূড়ান্ত রায়ে স্পিকারের সিদ্ধান্ত বৈধ কি না, সেটাই হবে আসল প্রশ্ন; আপাতত ঋতব্রত বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে কী এমন ক্ষতি হচ্ছে, তা আদালত জানতে চেয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পর্যবেক্ষণ বিদ্রোহী শিবিরের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও মামলার নিষ্পত্তি এখনও অনেক দূরে। কারণ আদালত এখনও স্পিকারের সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত মত দেয়নি। বরং সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শুনে পরে রায় দেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

এই মামলা শুধু বিরোধী দলনেতা পদ নিয়েই নয়; তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ভাঙন, দলীয় নেতৃত্বের কর্তৃত্ব এবং বিধানসভার স্পিকারের ক্ষমতার সীমা— সব কিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে। ফলে আদালতের চূড়ান্ত রায় পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

এখন নজর পরবর্তী শুনানির দিকে। আদালত শেষ পর্যন্ত কি স্পিকারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে, নাকি শোভনদেবের দাবিকে স্বীকৃতি দেবে— সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে বিধানসভার বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা।

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক