২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে চ্যালেঞ্জ জানালেন অভিনেতা ইমরান খান। ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর জারি করা নোটিসের বিরুদ্ধে শনিবার বম্বে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন তিনি। অভিনেতার দাবি, কোনও কারণ দর্শানো বা নিজের বক্তব্য পেশের সুযোগ না দিয়েই তাঁকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ স্বেচ্ছাচারী এবং ক্ষমতার চরম অপব্যবহার বলেও অভিযোগ তাঁর।
শনিবারই ইমরানকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছে এফআরআরও। সেখানে বলা হয়েছে, তাঁর ব্যাখ্যা ও তার সমর্থনে জমা দেওয়া নথিপত্র বিবেচনা করে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৭ডি(ই) ধারা অনুযায়ী ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী হিসেবে তাঁর নিবন্ধন বাতিল করা হতে পারে।
ইমরানের হয়ে এমজেডএম লিগ্যালের আইনজীবী জুলফিকার মেমন, পারভেজ মেমন ও চিরাগ নায়েক সোমবার প্রধান বিচারপতি মহেশচন্দ্র ত্রিপাঠীর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে জরুরি শুনানির আবেদন জানাতে পারেন।
কী নিয়ে বিতর্ক?
গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর অভিনেতাকে আটক করেছিল পুলিশ। এর পর বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া অভিযোগ করেন, মার্কিন নাগরিক এবং ওসিআই কার্ডধারী ইমরান আইন লঙ্ঘন করেছেন। পুলিশের পাঠানো এফআইআরের ভিত্তিতে ১৪ অক্টোবর তাঁকে দেশ ছাড়ার নোটিস দেয় এফআরআরও।
আদালতে দায়ের করা আবেদনে ইমরানের দাবি, নোটিসে তাঁকে দেশ ছাড়তে বলার কোনও নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আইনের কোন বিধান তিনি কী ভাবে লঙ্ঘন করেছেন, তা-ও জানানো হয়নি। নোটিসে তাঁকে শুধু মার্কিন নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, কিন্তু ওসিআই কার্ডধারী হিসেবে তাঁর মর্যাদার উল্লেখ নেই।
অভিনেতার বক্তব্য, ওসিআই হিসেবে তাঁর আইনস্বীকৃত মর্যাদা ও ভারতে বসবাসের অধিকার বিবেচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপেক্ষা করাই প্রমাণ করে যে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ বিচারবিবেচনা করেনি।
‘শুনানির সুযোগ মেলেনি’
ইমরানের অভিযোগ, দেশ ছাড়ার নোটিসটি কার্যত একটি চূড়ান্ত আদেশ। অথচ তার আগে কোনও অনুসন্ধান হয়নি, কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়নি এবং নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগও পাননি তিনি। দেশ ছাড়ার জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়াকে তাঁর বক্তব্য শোনার বিকল্প হিসেবে দেখা যায় না বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন অভিনেতা।
প্রতিবাদ কর্মসূচির ক্ষেত্রেও কোনও আইন লঙ্ঘন করেননি বলে দাবি ইমরানের। তাঁর বক্তব্য, জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল স্থানীয় পুলিশের একটি নির্দেশের মাধ্যমে। সেটি ২০২৫ সালের অভিবাসন ও বিদেশি আইনের অধীনে জারি করা কোনও নির্দেশ ছিল না। সংশ্লিষ্ট এলাকাকে কেন্দ্রীয় সরকার সুরক্ষিত বা নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবেও ঘোষণা করেনি। ফলে তাঁর ওসিআই মর্যাদার কোনও শর্ত লঙ্ঘিত হয়নি বলেই দাবি করেছেন তিনি।
ইমরানের আরও দাবি, তিনি ব্যারিকেড দিয়ে ঘেরা এলাকায় ঢোকার চেষ্টাও করেননি। পুলিশ চলে যেতে বলার পর নিজের গাড়ির দিকে ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাঁকে ঘিরে ধরে প্রতিক্রিয়া জানতে চান। তার পরেই পুলিশ তাঁকে আটক করে।
এফআইআরই কি দেশছাড়ার কারণ?
অভিনেতার বক্তব্য, বিদেশিদের ক্ষেত্রে কোনও সমাবেশে যোগ দেওয়া বা প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার উপর এমন কোনও সর্বজনীন নিষেধাজ্ঞা নেই, যা তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। ওসিআই কার্ডধারী হিসেবে তাঁর উপরও এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায় না বলে দাবি করেছেন তিনি।
যে এফআইআরের অভিযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি এবং যার তদন্ত চলছে, সেটিকে দেশ থেকে বহিষ্কারের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন ইমরান।
তিনি আরও জানিয়েছেন, সে দিন তাঁকে আটক করা হলেও সন্ধ্যাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই ঘটনাকে ভিত্তি করে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাসকারী একজনকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া তাঁর মতে, ‘চরম অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ পদক্ষেপ।
নোটিস কার্যকর হলে তাঁর এমন ক্ষতি হবে, যা পরে আর পূরণ করা সম্ভব হবে না বলেও দাবি অভিনেতার। এখন বম্বে হাইকোর্ট এই আবেদনে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর।