বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দীপকে জানান, ‘সংসদ চলো’ অভিযানের দিন ছিল তাঁর অনশনের তৃতীয় দিন। ওই দিন বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সৌরভ ও আশুতোষকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সেখানে অপেক্ষা করিয়ে রাখা হলেও মূল বৈঠকটি মাত্র দশ মিনিট স্থায়ী হয়।
এদিকে যন্তর মন্তরে জমায়েত হওয়া আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ক্রমশ ফুরিয়ে আসছিল। তাঁরা সংসদের দিকে অভিযান শুরু করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। দীপকের দাবি, দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল পরিচালনা করার জন্য তিনি বারবার জনতাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু অনশনে দুর্বল হয়ে পড়ায় তাঁর পক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে জমায়েতকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
সেই সময়ে সৌরভ ও আশুতোষকে বারবার ফোন করেও তিনি পাননি। তাঁদের ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। দীপকের কথায়, তিনি তখন চিৎকার করে জানতে চাইছিলেন, “তোমরা কোথায়?” পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে দুই সহকর্মীর উপর তিনি “ভীষণ রেগে” গিয়েছিলেন।
পরবর্তী সময়ে ওই দিনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আন্দোলনকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে পুলিশের বলপ্রয়োগের সময় সিজেপি নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে যথেষ্ট সক্রিয় ছিল না বলেও সমালোচনা হয়। সেই প্রসঙ্গে দীপকে স্বীকার করেছেন, সুযোগ পেলে তিনি একটি সিদ্ধান্ত বদলাতেন—সৌরভ ও আশুতোষকে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যেতে দিতেন না।
তাঁর বক্তব্য, অনশন কীভাবে করতে হয়, কোন কাজগুলি এড়িয়ে চলতে হয়, সে সম্পর্কে তাঁর কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। প্রথম দু’দিনও তিনি নিয়মিত জনতার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁদের মধ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ফলে তৃতীয় দিনে তাঁর শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। সকালে তিনি অজ্ঞানও হয়ে গিয়েছিলেন। হাঁটার ক্ষমতা না থাকায় শেষ পর্যন্ত একটি ট্রাকে উঠতে হয় তাঁকে। সৌরভ ও আশুতোষ যন্তর মন্তরে উপস্থিত থাকলে জনতাকে সামলানো এবং মিছিল পরিচালনা করা অনেক সহজ হতো বলে তাঁর দাবি।
সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন, ২০ জুলাই, সিজেপি ওই অভিযান করেছিল। নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ৩৭ দিন ধরে আন্দোলন চলেছিল। যন্তর মন্তর থেকে সংসদমুখী মিছিল ছড়িয়ে পড়ে রাইসিনা রোড, জনপথ, কনট প্লেস ও ইন্ডিয়া গেট অঞ্চলে। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষও হয়। ২৫ জুলাই প্রধান পদত্যাগ করার পরে আন্দোলন প্রত্যাহার করে সিজেপি।