বাংলাস্ফিয়ার: অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদানের অর্থ কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা নিয়ে নির্দিষ্ট বিধি প্রণয়নের কথা বিবেচনা করছে সুপ্রিম কোর্ট। মন্দিরের অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই কথা জানিয়েছেন।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, এই মামলায় তদন্তের পাশাপাশি কয়েকটি সংস্কারমূলক নির্দেশ দেওয়াও প্রয়োজন। অনুদানের অর্থ কীভাবে রাখা হবে, তার হিসাব কীভাবে পরিচালিত হবে এবং পুরো ব্যবস্থায় কতটা স্বচ্ছতা থাকা উচিত—আদালত সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে।
অভিযোগের তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিটকে তদন্ত শেষ করে বিষয়টিকে যৌক্তিক পরিণতিতে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার কাছে জানতে চান, তদন্ত শেষ করতে সিটের আরও কত সময় প্রয়োজন। মেহতা জানান, অন্তত আরও তিন সপ্তাহ লাগবে। আদালত সেই সময় মঞ্জুর করে তদন্ত সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেয়।
তুষার মেহতা আদালতকে জানান, উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যে মহাপরিদর্শক প্রাথমিক তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন, সুপ্রিম কোর্ট গঠিত সিটের নেতৃত্বও তিনিই দিচ্ছেন। আদালতের ইচ্ছা অনুযায়ী তদন্তকারী দলে একজন ফরেনসিক হিসাব পরীক্ষককেও যুক্ত করা হয়েছে। এই বিশেষজ্ঞ অনুদানের হিসাব, অর্থের লেনদেন এবং সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়ম পরীক্ষা করবেন।
সলিসিটর জেনারেল আরও জানান, তদন্ত চলছে এবং ইতিমধ্যে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ওই প্রতিবেদন আদালতের নথিবিভাগে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এক আবেদনকারীর আইনজীবী দাবি করেন, বর্তমান মন্দির ট্রাস্ট বহাল থাকলে তদন্ত নিরপেক্ষ হবে না। তাই ট্রাস্ট ভেঙে দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, সিট ট্রাস্টের অধীনে কাজ করছে না। সেটি সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট গঠন করেছে এবং আদালতের কাছেই দায়বদ্ধ। ফলে তদন্তকারী দলকে আদালতেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন আবেদনকারীদের দেওয়ার দাবি উঠলে তুষার মেহতা বলেন, চলমান ফৌজদারি তদন্তের নথি বাইরের কারও সঙ্গে ভাগ করা যায় না। আবেদনকারীর আইনজীবী পাল্টা বলেন, তাঁরা বাইরের লোক নন; দেশের মানুষের হয়ে আবেদন করেছেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ অনুদান দিয়েছেন এবং এই মামলায় ক্ষতিগ্রস্তের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। মেহতা অবশ্য ব্যাখ্যা করেন, ফৌজদারি আইনের দৃষ্টিতে ‘বাইরের ব্যক্তি’ বলতে তিনি তদন্তের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত নন—এমন ব্যক্তিকেই বোঝাতে চেয়েছেন।
তবে সুপ্রিম কোর্ট আবেদনকারী এবং অন্য কোনও সৎ ও জনস্বার্থে উদ্বুদ্ধ ব্যক্তিকে তদন্তের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এই পরামর্শ সলিসিটর জেনারেলের দপ্তরে জমা দেওয়া যাবে। তাঁর দপ্তর সেগুলি সিটের কাছে পাঠাবে। ফলে তদন্তের পাশাপাশি মন্দিরের বিপুল অনুদান পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা তৈরির পথও খুলে দিল সর্বোচ্চ আদালত।