নয়াদিল্লি: প্রশ্নপত্রে তথ্যগত ও ভাষাগত ভুল থেকে বিকৃত বইয়ের নাম, এমনকি পুরনো প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি—অভিযোগের সত্যতা মেনে নিয়ে ইউজিসি-নেটের তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা নতুন করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা বা এনটিএ। ইংরেজি, বাণিজ্য ও সমাজবিদ্যার পুনঃপরীক্ষা হবে আগামী ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর। পরীক্ষার্থীদের এর জন্য নতুন করে কোনও ফি দিতে হবে না।

২০২৬ সালের জুন পর্বের ইউজিসি-নেট পরীক্ষা ২২ থেকে ৩০ জুনের মধ্যে মোট ৮৭টি বিষয়ে হয়েছিল। এই পরীক্ষার মাধ্যমে জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগের যোগ্যতা এবং পিএইচডি পাঠক্রমে ভর্তির যোগ্যতা নির্ধারিত হয়।

পরীক্ষার পরেই ইংরেজি, বাণিজ্য ও সমাজবিদ্যার প্রশ্নপত্র নিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ আসে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে এনটিএ। সেই কমিটির অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনটি প্রশ্নপত্রেই ভুলের সংখ্যা অস্বাভাবিক রকম বেশি।

এনটিএ-র বিবৃতি অনুযায়ী, প্রশ্নপত্রে তথ্যগত, মুদ্রণ ও অনুবাদের ভুল ছিল। বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও গবেষকদের নামের বানান ভুল লেখা হয়েছে। একাধিক বইয়ের নাম বিকৃত হয়ে গিয়েছে। প্রশ্নের মূল বাক্য গঠনে অসঙ্গতি, ব্যাকরণের ভুল, লিঙ্গ ও বচনের অমিল এবং যতি চিহ্নের যথেচ্ছ ব্যবহারও ধরা পড়েছে। প্রতিষ্ঠিত ধারণা বোঝাতে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলির কোনও স্বীকৃত প্রচলন নেই। এর পাশাপাশি আগের পরীক্ষায় ব্যবহৃত বহু প্রশ্ন হুবহু পুনরাবৃত্তি করার প্রমাণও পেয়েছে কমিটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুল প্রশ্নগুলি বাদ দিয়ে কিংবা উত্তরপত্র সংক্রান্ত আপত্তি নিষ্পত্তির প্রচলিত ব্যবস্থায় এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রশ্নপত্রের ত্রুটি এতটাই ব্যাপক যে তার ভিত্তিতে ফল প্রকাশ করলে পরীক্ষার্থীদের প্রতি সুবিচার করা হবে না। সেই সুপারিশ মেনেই তিনটি বিষয়ে গোটা পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনটিএ।

নতুন সূচি অনুযায়ী, ইংরেজির পরীক্ষা হবে ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। একই দিন বিকেল ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হবে বাণিজ্য বিষয়ের পরীক্ষা। সমাজবিদ্যার পরীক্ষা নেওয়া হবে ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। পরীক্ষার শহর, কেন্দ্র এবং প্রবেশপত্রের বিষয়ে পরে এনটিএ-র সরকারি ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

তবে বাকি ৮৪টি বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ এই পুনঃপরীক্ষার জন্য আটকে থাকবে না। এনটিএ জানিয়েছে, ওই বিষয়গুলির ফল নির্ধারিত সময়েই প্রকাশ করা হবে। জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ বণ্টন, সহকারী অধ্যাপক হওয়ার যোগ্যতার শংসাপত্র এবং পিএইচডিতে ভর্তির শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলবে স্বাভাবিক সূচি মেনে। প্রশ্নপত্র তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এত বিপুল ভুল অবশ্য এনটিএ-র পরীক্ষা পরিচালনার মান ও নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।