বাংলাস্ফিয়ার: গান্ধী পরিবারকে সরাসরি নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “কংগ্রেস নিজেদের কতটা অধঃপতন ঘটাবে, সেটা সম্পূর্ণ তাদের ব্যাপার। তা নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু একটি পরিবারকে বারবার ব্যর্থতার কলঙ্ক থেকে বাঁচাতে কংগ্রেস ভারতের সাফল্য, শক্তি ও অগ্রগতিকেই কাঠগড়ায় তুলছে। আঙুর এতটাই টক লাগছে যে, কংগ্রেস এখন গোটা আঙুরলতাটাই কেটে ফেলতে নেমেছে। আসলে এই পরিবার তাদের দলের বোঝা হয়ে উঠেছে। দলের প্রবীণ নেতারাও সেটা বোঝেন। ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় আমাদের সে কথা বলেও থাকেন। কিন্তু অপমান গিলে তাঁরা চুপ করে থাকেন।”

মোদী বলেন, “কংগ্রেসের এই আচরণ সরকারের সৎ সমালোচকদেরও ক্ষতি করছে। গণতন্ত্রকে এর জন্য বড় মূল্য দিতে হচ্ছে। সৎ সমালোচকেরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যাঁরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকারের সমালোচনা করতে চান, কংগ্রেসের হইচইয়ে তাঁদের কণ্ঠস্বর চাপা পড়ে যাচ্ছে। প্রকৃত সমালোচকদের কথা শোনা যাচ্ছে না। যাঁরা সত্যিই গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থ নিয়ে চিন্তিত, তাঁরা সরকারের কট্টর বিরোধী হলেও কংগ্রেসের চিৎকার-চেঁচামেচির মধ্যে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন না।”

তাঁর বক্তব্য, “সংসদেও আমরা এটা দেখেছি। বিরোধী দলগুলিতে বহু প্রতিভাবান তরুণ সাংসদ রয়েছেন। তাঁরা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে চান, সরকারের সমালোচনা করতে চান। কিন্তু অন্যেরা যাতে সুযোগ না পান, সে জন্য কংগ্রেস সংসদের কাজে বাধা দেয়। কারণ, কংগ্রেস কেবল একজনকেই প্রচারের আলোয় রাখতে চায়। এ ভাবে বিরোধী পক্ষের তরুণ সাংসদদের প্রতি কংগ্রেস গুরুতর অবিচার করছে।”

মোদী আরও বলেন, “সরকারের ত্রুটিগুলি তুলে ধরতে এবং ব্যবস্থার প্রকৃত সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলনগুলি স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে ওঠে—গণতন্ত্রে যার প্রয়োজন অবশ্যই রয়েছে—সেগুলিও কংগ্রেস নষ্ট করে দেয়। কংগ্রেস এমন এক পরজীবী হয়ে উঠেছে, যে অন্য কাউকে এগোতে দিতে চায় না। ‘দিমাগি নকশালরা’ কংগ্রেসের চিন্তাভাবনাকে এমনভাবে কবজা করেছে যে, দলটি নিজের ভাবনাচিন্তার ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলেছে। যারা জঙ্গলে ধ্বংসলীলা চালাত, তারা এখন কংগ্রেসে ঢুকে দেশকে ধ্বংস করতে চাইছে।”

পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে বিশ্বব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “বিশ্বব্যবস্থা কেন বদলাচ্ছে, সেটা আমাদের বুঝতে হবে। এই পরিবর্তন স্বাভাবিক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বিশ্ব উপলব্ধি করেছিল, সংলাপ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপুঞ্জ দীর্ঘদিন তার ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু তার পরে নতুন নতুন শক্তির উত্থান ঘটেছে এবং চ্যালেঞ্জগুলি আরও জটিল হয়েছে।”

তিনি বলেন, “সেই সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রধান আসনে যে দেশগুলির জায়গা ছিল না, তারা ধীরে ধীরে নিজেদের ভূমিকা পালনের জন্য এগিয়ে এসেছে। কিন্তু বিশ্বব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলি একই গতিতে বদলায়নি।”

মোদী জানান, নতুন কণ্ঠস্বরগুলি এখন তাদের ন্যায্য স্থান চাইছে। প্রচলিত ব্যবস্থা ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখন বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা ও সংঘাতের নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। আর সমুদ্রপথগুলি হয়ে উঠছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্র।”

এই মন্তব্যে পরোক্ষে আমেরিকার শুল্ক আরোপ এবং পশ্চিম এশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাতের প্রসঙ্গ উঠে আসে। এসব সংঘাতের মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে।

মোদীর মতে, বর্তমান চ্যালেঞ্জ শুধু একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার উত্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবর্তিত বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেওয়া, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও কার্যকর করে তোলা এবং দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব আরও জোরদার করাও জরুরি।

তিনি বলেন, “ঠিক এই জায়গাতেই ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।”