বাংলাস্ফিয়ার: ৯ অক্টোবর কর্নাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের বিবৃতি অনুযায়ী, ১৬ জুন থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে ফর্ম ৭-এ জমা পড়েছে ১,১০,৬৫৪টি আবেদন। অথচ সরকারি পোর্টালে দেখা যাচ্ছে মাত্র ৮১,৮২২টির তথ্য। এর আগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, জনসাধারণের যাচাইয়ের জন্য ফর্ম ৭-এর সমস্ত আবেদনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
কর্নাটকে চলতি বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যে ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত জমা পড়া প্রায় ২৯ হাজার ফর্ম ৭ আবেদনের বিস্তারিত তথ্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কিংবা ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি। মূলত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্যই এই আবেদনগুলি জমা পড়েছে।
অথচ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল, জনসাধারণ যাতে যাচাই করতে পারেন, সে জন্য ফর্ম ৭-এর সমস্ত আবেদনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ভি. অন্বু কুমারের দফতর থেকে ৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১৬ জুন থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে ফর্ম ৭-এ মোট ১,১০,৬৫৪টি আবেদন জমা পড়েছে। ১৬ জুনই এসআইআর শুরুর আগের ভোটার তালিকায় পরিবর্তন স্থগিত করা হয়েছিল।
কিন্তু ‘দ্য হিন্দু’র অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে, ওই সময়সীমার জন্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে মাত্র ৮১,৮২২টি ফর্ম ৭ আবেদনের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বাকি ২৮,৮৩২টি আবেদন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিবৃতিতে উল্লিখিত মোট আবেদনের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি। এই আবেদনগুলির তথ্য প্রকাশিত না হওয়ায়, কোন কোন বিধানসভা কেন্দ্রে, কারা এবং কাদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য সেগুলি জমা দিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়।
বাবালেশ্বর ও ভালকির মতো বিধানসভা কেন্দ্রে কিছু ব্যক্তি বহু ভোটারের বিরুদ্ধে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ফর্ম ৭ আবেদন জমা দিয়েছেন বলে এর আগে ‘দ্য হিন্দু’ জানিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার ও তাঁর মন্ত্রিসভার সহকর্মীরা প্রতিবাদ জানানোর পরে কর্নাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে জেলা নির্বাচনী দফতরগুলিকে নির্দেশ দেন।
২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট এসআইআরের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “ফর্ম ৯, ১০, ১১, ১১এ এবং ১১বি-তে দাখিল করা দাবি ও আপত্তির তালিকাও কর্নাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে, যাতে সাধারণ মানুষ তালিকা দেখে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকের কাছে আপত্তি জানাতে পারেন।”
নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতিদিন জমা পড়া ফর্ম ৭ আবেদনগুলির তথ্য একত্র করে ফর্ম ১০-এ নথিভুক্ত করতে হয়। ফর্ম ১০ হল নির্বাচন কমিশনের তথ্য জানানোর আরেকটি নির্দিষ্ট ছক। সেটি ওয়েবসাইটে আপলোড করার কথা। পোর্টালে থাকা সমস্ত ফর্ম ১০-এর তথ্য বিশ্লেষণ করেই এই ফারাক ধরা পড়েছে।
শুধু আবেদনগুলির তথ্য অনুপস্থিত থাকার সমস্যাই নয়, ফর্ম ৭-এর আবেদনসংখ্যা নিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের নিজস্ব প্রেস বিজ্ঞপ্তিগুলিতেও পরস্পরবিরোধী এবং বিস্তর ফারাক থাকা পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে।
২৪ আগস্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ১৬ জুন থেকে ২৩ আগস্টের মধ্যে ফর্ম ৭-এ ৬৭,৩০৭টি আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু ১১ সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতে ১৬ জুন থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমা পড়া আবেদনের সংখ্যা দেখানো হয় ৩৪,৬৩১—আগে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে ৩২,৬৭৬টি কম।
আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৬ জুন থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফর্ম ৭-এ ৪১,৭৯২টি আবেদন জমা পড়েছে। এই সংখ্যাও ২৩ আগস্ট পর্যন্ত দেওয়া হিসাবের চেয়ে ২৫,৫১৫টি কম।
এমনকি দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা শেষ হওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ২৪ সেপ্টেম্বরেও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের হিসাবে মোট আবেদন ছিল ৬১,১৩০টি। সেটিও ২৩ আগস্টের হিসাবের চেয়ে ৬,১৭৭টি কম।
এর পর থেকে অবশ্য আবেদনসংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ৯ অক্টোবরের বিবৃতি অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর পর্যন্ত তা পৌঁছেছে ১,১০,৬৫৪-তে।