বাবা বাড়ি ফিরে আসতে বলছিলেন। কিন্তু ছেলে ফিরতে রাজি হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার নয়ডার একটি বহুতলে গুরুগ্রামের এক যুবকের মৃত্যুর তদন্তে তাঁদের এই কথোপকথন গুরুত্ব পেয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে আর্থিক সমস্যা এবং মানসিক চাপের ইঙ্গিত মিলেছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। তবে মৃত্যুর কারণ ও তার আগের ঘটনাক্রম সম্পর্কে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি পুলিশ। আত্মহত্যার সন্দেহে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৃতের নাম সম্ভব জৈন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বয়স ২৯ বছর এবং বাড়ি গুরুগ্রামের মানেসর এলাকায়। তিনি নয়ডার একটি আবাসনে স্বল্পমেয়াদি থাকার জন্য অনলাইনে বুকিং করেছিলেন। শুক্রবার বিকেলে সেখানে ওঠেন। শনিবার বেলা এগারোটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। নয়ডার পুলিশ আধিকারিক মনীষা সিং জানিয়েছেন, বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ পুলিশ খবর পায়।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় তিন দিন আগে বাড়ি ছেড়েছিলেন সম্ভব। তার পরে বিভিন্ন হোটেলে থেকেছেন। এই সময় বাবার সঙ্গে তাঁর বার্তার আদানপ্রদান হয়েছিল। সেক্টর ১২৬ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সুমনেশ কুমার জানিয়েছেন, অর্থসংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে বাবা ও ছেলের কথোপকথন পাওয়া গিয়েছে। তাতে বাবা তাঁকে বাড়ি ফিরতে বলছিলেন, কিন্তু তিনি অসম্মতি জানিয়েছিলেন। এই তথ্য থেকেই আর্থিক চাপের বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে ওই কথোপকথনের সম্পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। আর্থিক সমস্যার প্রকৃতি কী ছিল, কত দিনের সমস্যা, কিংবা তার সঙ্গে অন্য কোনও পরিস্থিতি যুক্ত ছিল কি না, প্রকাশিত তথ্য থেকে তা স্পষ্ট নয়। ফলে বাবার সঙ্গে কয়েকটি বার্তার ভিত্তিতে মৃত্যুর একমাত্র কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তদন্তকারীরা তাঁর সাম্প্রতিক গতিবিধি, বিভিন্ন জায়গায় থাকা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য মিলিয়ে দেখছেন।
ঘটনার সময় কাছাকাছি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কাজ করছিলেন কয়েকজন কর্মী। তাঁদের মধ্যে একজন যুবককে বিপজ্জনক অবস্থায় দেখে সাহায্যের চেষ্টা করেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সহকর্মীরাও এগিয়ে এসেছিলেন, কিন্তু তাঁকে বাঁচানো যায়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ। তাঁরা কী দেখেছেন এবং কখন কী ঘটেছিল, সেই বিবরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের দল। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরাও নমুনা ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়ার পরে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। আবাসন এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই তদন্ত এগোচ্ছে। যুবকের মৃত্যুর আগে ও পরে ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল, তা বোঝার ক্ষেত্রে এই ফুটেজ এবং সাক্ষ্য কাজে লাগবে।
ঘটনার পর কিছু প্রতিবেদনে যুবকের মানসিক অবস্থার উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ বা পুলিশের প্রাথমিক অনুমান চিকিৎসাগত রোগনির্ণয়ের সমতুল্য নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্য, আত্মহত্যার সঙ্গে সাধারণত একাধিক জটিল ও পরস্পরসম্পর্কিত বিষয় যুক্ত থাকে। আর্থিক সংকট, সম্পর্কের সমস্যা, একাকিত্ব কিংবা তীব্র মানসিক যন্ত্রণা ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কোনও একটি ঘটনা বা সমস্যাকে একমাত্র ব্যাখ্যা হিসেবে তুলে ধরলে সেই জটিলতা আড়ালে চলে যায়।
নয়ডার এই ঘটনায় তাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হল তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং অনুমানকে আলাদা রাখা। বাবার বাড়ি ফেরার অনুরোধ তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ থাকার তথ্য দেয়; তা থেকে পরিবারের দায় বা যুবকের সম্পূর্ণ মানসিক অবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত টানা যায় না। পুলিশি অনুসন্ধান, ময়নাতদন্ত এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনাটি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। আপাতত তদন্ত চলছে এবং আর্থিক টানাপোড়েন তার একটি অনুসন্ধানযোগ্য দিক।
মানসিক সংকটে সহায়তা পাওয়া যায়। টেলি-মানসের 14416 নম্বরে বিনামূল্যে দিনরাত মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা মেলে। নিজের বা পরিচিত কারও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ হলে বিশ্বস্ত মানুষ ও পেশাদার সহায়তার সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।