মন্ত্রীর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা সব বই নির্বিচারে বাতিল করা হচ্ছে না। প্রতিটি বইয়ের বিষয়বস্তু ও শিক্ষামূল্য পর্যালোচনা করা হবে। তবে তাঁর শিশুতোষ ছড়ার বই ‘এপাং ওপাং ঝপাং’-এর নাম উল্লেখ করে গৌরীশঙ্কর বলেন, এ ধরনের ‘অপ্রয়োজনীয়’ বই সরকারি অর্থে কেনা কিংবা গ্রন্থাগারে রাখা হবে না। পরিবর্তে জ্ঞান, মননশীলতা, জাতীয় সংহতি এবং ‘জাতীয়তাবাদী চিন্তা’ গড়ে তুলতে সহায়ক বইকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই সরকারি বিদ্যালয় ও রাষ্ট্রপরিচালিত সাধারণ গ্রন্থাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালে বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের জন্য তৈরি প্রায় ৫৩৫টি বইয়ের তালিকায় মমতার লেখা ১৯টি বই অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য পৃথকভাবে তৈরি প্রতিটি বইয়ের তালিকাতেই তাঁর রচনা ছিল। বিদ্যালয়গুলিকে বই কেনার জন্য এক লক্ষ টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই খাতে প্রায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল।
তালিকায় ‘দুয়ারে সরকার’, ‘শিশুমন’, ‘কলম’, ‘দুয়ারে সরকার আপনার আমার’, ‘আমাদের দুর্গোৎসব’ এবং ‘গুলদস্তা-এ-শায়েরি’-সহ মমতার একাধিক বই ছিল। বিজেপির অভিযোগ, সাহিত্য বা শিক্ষামূল্যের বদলে লেখকের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই বইগুলি কেনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। সরকারি অর্থ ব্যবহার করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর বইয়ের প্রচার ও বিক্রি বাড়ানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।
গৌরীশঙ্কর ঘোষের মতে, পূর্ববর্তী ব্যবস্থায় এক ধরনের একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব কাজ করেছিল। নতুন সরকার গ্রন্থাগারের বই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঢেলে সাজাবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও চিন্তাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি গ্রন্থাগারগুলির আধুনিকীকরণ, শূন্য পদে কর্মী নিয়োগ এবং বিনামূল্যে পাঠাগার গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।
তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক পক্ষপাত ও বই বর্জনের প্রশ্নও উঠছে। এক সরকারের আমলে শাসকের লেখা বই বাধ্যতামূলক করা যেমন সমালোচিত হয়েছিল, সরকার বদলের পরে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বই সরিয়ে দেওয়াও সমানভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। কোন বই শিক্ষামূলক এবং কোনটি অপ্রয়োজনীয়, তা নির্ধারণে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি থাকবে কি না, সরকার এখনও স্পষ্ট করেনি। ফলে গ্রন্থাগার সংস্কারের ঘোষণার পাশাপাশি বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে বইয়ের তাক বদলে যাওয়ার পুরনো বিতর্কটিও নতুন করে সামনে এসেছে।