বাংলাস্ফিয়ার: সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রমের ভিডিও বা অডিও ক্লিপ আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া সামাজিক মাধ্যম বা অন্য কোনও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার করা যাবে না—এই মর্মে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মামলার শুনানির ছোট ছোট অংশ কেটে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এর ফলে আদালতের পর্যবেক্ষণ বা বিচারকদের মন্তব্য প্রায়ই প্রসঙ্গচ্যুতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট মামলায় সরাসরি সম্প্রচার বা রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও, সেই ফুটেজের ব্যবহার সম্পূর্ণ স্বাধীন নয়। আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনও ব্যক্তি, সংবাদমাধ্যম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সেই ভিডিও সম্পাদনা করে, অংশবিশেষ কেটে বা প্রসঙ্গ বদলে প্রকাশ করতে পারবে না।

আদালতের মতে, শুনানির কয়েক সেকেন্ডের ক্লিপ ভাইরাল হয়ে গেলে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে অসম্পূর্ণ বা ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। বিচারকদের কোনও প্রশ্ন বা মৌখিক মন্তব্যকে চূড়ান্ত রায় বলে প্রচার করা হলে তা আদালতের মর্যাদা এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে। বিচারপতিরা স্পষ্ট করেছেন, শুনানির সময় করা মন্তব্য ও প্রশ্ন অনেক সময় যুক্তি যাচাইয়ের অংশমাত্র; এগুলিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানো অনুচিত।

নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আদালতের ভিডিও ফুটেজের কপিরাইট ও ব্যবহারের অধিকার সুপ্রিম কোর্টের কাছেই থাকবে। শিক্ষা, গবেষণা বা সংবাদ পরিবেশনের মতো বৈধ উদ্দেশ্যে ফুটেজ ব্যবহারের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আদালতের নির্ধারিত নিয়ম মেনে অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক ব্যবহার, সামাজিক মাধ্যমে প্রচার বা বিকৃত আকারে প্রকাশ নিষিদ্ধ।

আদালত আরও বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে শুনানির ভিডিও পরিবর্তন, ভুয়ো বক্তব্য সংযোজন, বিভ্রান্তিকর শিরোনাম দিয়ে প্রচার বা বিভ্রান্তিকর সম্পাদনার ঘটনাও ভবিষ্যতে কঠোরভাবে দেখা হবে। এ ধরনের অপব্যবহার বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এবং আদালত অবমাননার প্রশ্নও উঠতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখা, অন্যদিকে আদালতের কার্যক্রমকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন থেকে রক্ষা করা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য আনতেই সুপ্রিম কোর্ট এই পদক্ষেপ করেছে। ডিজিটাল যুগে আদালতের শুনানির ছোট ছোট ক্লিপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে জনমত প্রভাবিত করার আশঙ্কা থাকায়, এই নির্দেশিকাকে বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।