বাংলাস্ফিয়ার: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ভারত এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে কোনও ধরনের বৈষম্যের স্থান থাকবে না। তাঁর কথায়, শিক্ষা এমন হতে হবে যা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক বা শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে কাউকে পিছিয়ে পড়তে দেবে না।

শনিবার এক অনুষ্ঠানে এবং পরে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাই ‘বিকশিত ভারত’-এর ভিত্তি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য ও সংবেদনশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। তাঁর মতে, প্রত্যেক শিশুর মর্যাদা, সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।

মোদী বলেন, নতুন শিক্ষানীতির মাধ্যমে কৌতূহলভিত্তিক শিক্ষা, মৌলিক সাক্ষরতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আনন্দময় শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি মনে করেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া নয়; বরং একজন মানুষকে জীবনের জন্য প্রস্তুত করে তোলা।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহ আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়াতে পারে। তবে প্রযুক্তির সুবিধা যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেই বিষয়েও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও আহ্বান জানান, শিশুদের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি না করে তাদের স্বাভাবিক প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করতে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আগ্রহ ও সামর্থ্য আলাদা, তাই সেই অনুযায়ী তাদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়াই শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষায় সমতা এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তা ঘিরে হওয়া আন্দোলনের পর কেন্দ্র সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে এবং আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছে।

মোদীর বক্তব্যে স্পষ্ট, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাঁর মতে, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তবেই ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।