নবীন পট্টনায়ক বলেন, “স্কুল ও গণশিক্ষামন্ত্রী নিত্যানন্দ গন্ডের পদত্যাগ করা উচিত। আমাদের রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রকাশিত নতুন পাঠ্যবইয়ে অসংখ্য ভুল রয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান যেভাবে নৈতিক দায় স্বীকার করে ইস্তফা দিয়েছেন, নিত্যানন্দ গন্ডেরও সেই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা উচিত। গত দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে বিজেডি এই দাবিই জানিয়ে আসছে।”
বিজেডির অভিযোগ, নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রকাশিত একাধিক পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞান-সহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্যগত ভুল, বানান বিভ্রাট এবং সম্পাদনার ত্রুটি রয়েছে। এসব ভুল ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্ত করছে এবং রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিরোধীদের দাবি, এত বড় ধরনের গাফিলতি শিক্ষা দফতরের নজরদারির অভাব এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রমাণ।
বিজেডি নেতৃত্বের অভিযোগ, বিষয়টি সামনে আসার পরও সরকার দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ না নিয়ে ঘটনাটিকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছে। তাদের মতে, শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই ধরনের অবহেলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দলও এই ইস্যুতে সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে। তারা পাঠ্যবইয়ের সমস্ত ভুল দ্রুত সংশোধন, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সাড়া দেয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যেখানে ভুল রয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় সংশোধনের ব্যবস্থা করা হবে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, শুধুমাত্র সংশোধনের আশ্বাস যথেষ্ট নয়; এই ঘটনার জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে নবীন পট্টনায়কের এই মন্তব্য ওড়িশার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিজেডির দাবি, শিক্ষাক্ষেত্রে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে দায়িত্ব নির্ধারণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। পাঠ্যবই বিতর্ককে ঘিরে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে সরকার-বিরোধী সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।