বাংলাস্ফিয়ার: কলকাতা হাইকোর্ট তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে একটি তোলাবাজি মামলায় আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে তদন্ত চললেও আপাতত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। বিচারপতি জানান, নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে অনুব্রত মণ্ডল তদন্তে সহযোগিতা করবেন এবং প্রয়োজনে তদন্তকারী সংস্থার ডাকে হাজিরা দেবেন।

মামলাটি দায়ের হয়েছিল অভিযোগের ভিত্তিতে যে, স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডলের নাম জড়ানো হলেও তাঁর আইনজীবীদের দাবি, অভিযোগটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। সেই কারণেই গ্রেফতারের আশঙ্কায় তিনি আগাম জামিনের আবেদন করেন।

শুনানির সময় রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা জানান, অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ বাকি রয়েছে। তবে আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, এই পর্যায়ে আবেদনকারীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি আদালতের সামনে তুলে ধরা যায়নি। সেই কারণেই আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, আগাম জামিন মানে তদন্ত থেকে অব্যাহতি নয়। অনুব্রত মণ্ডলকে তদন্তকারী অফিসারের ডাকে হাজিরা দিতে হবে, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং কোনও সাক্ষীকে প্রভাবিত করা বা প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা যাবে না। এই শর্ত ভঙ্গ হলে তদন্তকারী সংস্থা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে জামিন বাতিলের আবেদন করতে পারবে।

সিবিআইয়ের গরু পাচার মামলায় দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্তি পান অনুব্রত মণ্ডল। এরপর একাধিক মামলায় তাঁর নাম সামনে এসেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি অত্যন্ত গুরুতর এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই বারবার দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।

হাইকোর্টের এই নির্দেশে আপাতত গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকে স্বস্তি পেলেও অনুব্রত মণ্ডলের আইনি লড়াই শেষ হচ্ছে না। তোলাবাজির অভিযোগে তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করেই মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তে সহযোগিতা করা এবং আরোপিত সমস্ত শর্ত মেনে চলাই এখন অনুব্রত মণ্ডলের জন্য বাধ্যতামূলক।