কেজরিওয়ালের অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে পড়ে ইথানল-ভিত্তিক জ্বালানির নীতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইথানল কেনার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে এবং সেই কারণেই দেশে ই২০ পেট্রলের ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই নীতির পিছনে একটি ‘গোপন উদ্দেশ্য’ রয়েছে এবং সরকার প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরছে না।
আপ প্রধান জানান, গত মাসে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে ই২০ নীতি নিয়ে আলোচনার জন্য সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই চিঠির কোনও উত্তর না পাওয়ায় তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নাগরিকদের স্বাক্ষর-সম্বলিত আবেদনপত্র পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন।
কেজরিওয়ালের অন্যতম দাবি, দেশের সব পেট্রল পাম্পে যেন একসঙ্গে বিশুদ্ধ পেট্রল এবং ই২০—দুই ধরনের জ্বালানি বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়। তাঁর যুক্তি, সব গাড়ি এখনও ই২০-উপযোগী নয়। ফলে সাধারণ মানুষকে বিকল্পের সুযোগ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি, ইথানল-মিশ্রিত পেট্রলের দামও কমানোর দাবি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, ইথানল তুলনামূলকভাবে সস্তা হওয়া সত্ত্বেও ভোক্তাদের সেই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ই২০ নীতি নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে এবং বহু গাড়ির মালিক আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘদিন এই জ্বালানি ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের আরও স্বচ্ছ অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
কেজরিওয়ালের বক্তব্য, এটি কোনও রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং কোটি কোটি গাড়ির মালিকের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় প্রশ্ন। তিনি বলেন, সরকার যদি মানুষের উদ্বেগের জবাব না দেয়, তবে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে আপ।
অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকার এর আগে জানিয়েছে, ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্দেশ্য হল অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমানো, কৃষকদের জন্য নতুন বাজার তৈরি করা এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাস করা। সরকার দাবি করে, ধাপে ধাপে ই২০-উপযোগী যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে ই২০ পেট্রলকে ঘিরে কেন্দ্র ও আপের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। একই সঙ্গে জ্বালানি নীতি, ভোক্তাদের স্বার্থ এবং জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ নিয়ে নতুন বিতর্কও সামনে এসেছে।