প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কোটি কোটি ভক্তের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তাই কোনও পক্ষকে আগাম দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা না করে তথ্যভিত্তিক তদন্তই একমাত্র পথ। আদালত জানায়, “আমাদের এখন একমাত্র লক্ষ্য তদন্তকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”
এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদানের একটি অংশের হিসাব নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দানের অর্থের ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং কিছু আর্থিক লেনদেন সন্দেহজনক। যদিও সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, সমস্ত হিসাব নির্ধারিত নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট মনে করছে, একটি স্বাধীন ফরেনসিক অডিটই প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে পারে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ফরেনসিক অডিটর ব্যাংক লেনদেন, হিসাবের খাতা, ডিজিটাল রেকর্ড এবং দানের অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করবেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নথি ও ইলেকট্রনিক তথ্যও খতিয়ে দেখা হবে।
শুনানির সময় আদালত আরও জানায়, তদন্ত কোনওভাবেই প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়। তদন্তকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আদালত স্পষ্ট করে দেয়, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ নিয়ে জনসমক্ষে অযথা জল্পনা বা সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে পারে। বিশেষত বিপুল অঙ্কের জনদানের ক্ষেত্রে হিসাবরক্ষার মান এবং জবাবদিহি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারির পথ খুলে দিতে পারে এই পদক্ষেপ।
এখন ফরেনসিক অডিটরের রিপোর্টই এই মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে। রিপোর্ট জমা পড়ার পর সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় পরবর্তী নির্দেশ দেবে এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, ধর্মীয় আবেগের বিষয় হলেও আর্থিক স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।