বাংলাস্ফিয়ার: আপনি নিজে কিংবা আপনার পরিচিত কেউ হয়তো এই পুরো মাস মদ্যপান থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন—যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সোবার অক্টোবর’। অথবা হয়তো আলোচনা করছেন, জানুয়ারিতে একই ভাবে মদ্যপান বন্ধ রেখে ‘ড্রাই জানুয়ারি’ পালন করবেন।
কেউ কেউ হঠাৎ খেয়ালের বশে এই চ্যালেঞ্জ নেন, কী হতে পারে সে সম্পর্কে বিশেষ কিছু না জেনেই। অন্যদের আশা, এতে রক্তচাপ কমবে, উদ্বেগ হ্রাস পাবে কিংবা সামগ্রিক ভাবে মদের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কটাই বদলাবে। আবার কেউ কেবল জানতে চান, প্রতিদিনের ওয়াইন বা বিয়ার ছাড়া তাঁদের কেমন লাগে।
কিন্তু এক মাস মদ্যপান বন্ধ রাখলে স্বাস্থ্যের সত্যিই কতটা উপকার হতে পারে? চিকিৎসকেরা বলছেন, পরিবর্তন যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য হতে পারে। কিছু সুফল—যেমন ভাল ঘুম—দ্রুতই চোখে পড়তে পারে। কয়েক সপ্তাহ মদ্যপান থেকে বিরতি নিলে কী কী ঘটতে পারে, সে বিষয়ে বিজ্ঞান কী বলছে, দেখে নেওয়া যাক।
কী কী পরিবর্তন আশা করতে পারেন
শুরুতেই একটি জরুরি কথা: আপনি যদি খুব বেশি মদ্যপান করেন কিংবা শারীরিক ভাবে অ্যালকোহলের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তা হলে হঠাৎ বন্ধ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এতে মদ ছাড়ার ফলে দেখা দিতে পারে এমন বিপজ্জনক উপসর্গ এড়ানো সম্ভব। এই নির্ভরতা কাটানোর পরিকল্পনা করতে এবং প্রয়োজনে মদ ছাড়ার জন্য আরও সহায়তা পেতেও চিকিৎসক সাহায্য করতে পারেন।
ঘুম ভাল হবে
অ্যালকোহল আপনাকে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু রাতের পরের দিকে ঘন ঘন ঘুম ভাঙবে, জানাচ্ছেন ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ মেডিক্যাল সেন্টারের স্নায়ুরোগবিদ্যার সহযোগী অধ্যাপক জোয়ানা ফং-ইসারিয়াওংসে। তাঁর কথায়, অ্যালকোহল ঘুমে ব্যাঘাত ঘটালে পরের দিন তার প্রভাব পড়ে মনোযোগ, প্রতিক্রিয়া জানানোর গতি এবং মেজাজের উপর।
মদ্যপান থেকে বিরতি নিলে সম্ভবত ঘুমে ব্যাঘাত কম হবে এবং সকালে উঠে নিজেকে বেশি বিশ্রামপ্রাপ্ত মনে হবে। চিকিৎসক অ্যালেক্সিস লাপিয়েত্রা বলেন, “শরীরে অ্যালকোহল না থাকা অবস্থায় যখনই ঘুমোতে যাবেন, সাধারণত সেই রাতের বিশ্রাম ভাল হবে।” তিনি আরডব্লিউজে বার্নাবাস হেলথ ইনস্টিটিউট ফর প্রিভেনশন অ্যান্ড রিকভারির মেডিক্যাল ডিরেক্টর।
টাফটস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের জনস্বাস্থ্য ও কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল সিগেল জানাচ্ছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই এই সুফল দেখা দিতে শুরু করতে পারে।
পেশির ক্ষয় মেরামত থেকে হরমোনের নিয়ন্ত্রণ, স্মৃতিশক্তি, বিপাকক্রিয়া এবং হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতা—শরীরের বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ঘুম সহায়তা করে। তাই সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের জন্য রাতে ভাল ঘুম অত্যন্ত জরুরি।
যকৃতের কার্যক্ষমতার উন্নতি
লাপিয়েত্রা বলেন, “অ্যালকোহল ভেঙে ফেলার দায়িত্ব যকৃতের। সেই প্রক্রিয়ায় অ্যাসিট্যালডিহাইড নামে একটি বিষাক্ত উপজাত তৈরি হয়। এটি যকৃতের কোষের ক্ষতি করে এবং সেখানে চর্বি জমায়। তার ফলে প্রদাহ হয়। পরে ক্ষতচিহ্নের মতো শক্ত কলা তৈরি হতে পারে, যাকে সিরোসিস বলা হয়।”
তাঁর কথায়, “বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে বা অল্প মদ্যপান, এবং মাঝখানে মদ না খাওয়ার দিন থাকলে, যকৃতের পরিমাপযোগ্য ক্ষতি হয় না।” তবে যাঁরা আরও ঘন ঘন মদ্যপান করেন অথবা যাঁদের বাড়তি কিছু ঝুঁকি রয়েছে—যেমন নারী, স্থূলতা বা ডায়াবেটিস রয়েছে এমন ব্যক্তি, কিংবা যাঁদের আগে থেকেই ফ্যাটি লিভার আছে—তাঁদের তুলনামূলক কম অ্যালকোহলেও যকৃতের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
লাপিয়েত্রা বলেন, “প্রচলিত হিসাবে বিপদের সীমা দৈনিক প্রায় ৩০ গ্রাম অ্যালকোহল, অর্থাৎ মোটামুটি দু’টি ‘স্ট্যান্ডার্ড ড্রিঙ্ক’। তা পেরিয়ে দিনে চার থেকে পাঁচ ড্রিঙ্কের দিকে গেলে সিরোসিসের ঝুঁকি অত্যন্ত দ্রুত বাড়তে থাকে।” কত ঘন ঘন মদ্যপান করছেন, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, সপ্তাহে মাত্র দু’এক দিন মদ্যপানের তুলনায় প্রতিদিন মদ্যপান করলে সিরোসিসের ঝুঁকি বেশি হয়।
অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকলে যকৃত কিছুটা বিশ্রাম পায় এবং নানা ভাবে তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে। যেমন, যকৃতে চর্বি জমার সমস্যা বা ফ্যাটি লিভার অনেক ক্ষেত্রেই মদ্যপান বন্ধ করলে পুরোপুরি সেরে যেতে পারে, জানাচ্ছেন লাপিয়েত্রা।
এ বছরের গোড়ায় প্রকাশিত একটি ছোট গবেষণায় ১৫ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক তিন দিনের একটি সংগীত উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তাঁরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩টি স্ট্যান্ডার্ড ড্রিঙ্ক পান করেন। তাঁদের যকৃতের চর্বি ১৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। যকৃতের অন্যান্য পরিবর্তনের পাশাপাশি তাঁদের ছ’জনের ফ্যাটি লিভার হয়। কিন্তু টানা ১০ দিন মদ্যপান না করার পরে যকৃতের সমস্ত পরিবর্তন আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে যকৃতের যে সব উৎসেচকের মাত্রা বেড়ে যায়, তা কমতে পারে। এটি যকৃতের কার্যক্ষমতার উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।
মন-মেজাজের উন্নতি
অ্যালকোহল এন্ডরফিন নিঃসরণ ঘটায় এবং মস্তিষ্কের পুরস্কারবোধের ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে। কিন্তু এটি আসলে স্নায়ুতন্ত্রের ক্রিয়া মন্থরকারী একটি পদার্থ—অর্থাৎ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কাজের গতি কমিয়ে দেয়। এই দুই প্রভাবই আপনার অনুভূতি, চিন্তাভাবনা এবং আচরণকে প্রভাবিত করে।
সিগেল বলেন, “মদ্যপান করলে অল্প সময়ের জন্য মন ভাল লাগতে পারে, এ কথা সত্যি। কিন্তু সমস্যা হল, সেই প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয় না। অ্যালকোহলের প্রভাব কেটে গেলে সাধারণত মন-মেজাজের অবস্থা মদ খাওয়ার আগের অবস্থার চেয়েও খারাপ হয়ে যায়।” সেই কারণেই মদ্যপানের পরে—বিশেষ করে পরের দিন, যখন তাৎক্ষণিক প্রভাব কেটে গিয়েছে—আপনার মন খারাপ, বিষণ্ণতা বা উদ্বেগ হতে পারে।
সিগেলের কথায়, মদ্যপান থেকে বিরত থাকলে বারবার মন ভাল হওয়া এবং পরে ভেঙে পড়ার এই চক্র এড়ানো যায়। অনুভূতির জগতে আরও নিয়ন্ত্রণ ও স্থিরতা ফিরে পেতে সাহায্য করে তা।
তবে মদ্যপান থেকে পাওয়া ডোপামিনের তাৎক্ষণিক উদ্দীপনা না মেলায় প্রথম দিকে কারও কারও সাময়িক ভাবে আরও খারাপ লাগতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা অতিরিক্ত মদ্যপান করেন এবং যাঁদের মস্তিষ্ক একই পরিমাণ আনন্দ পেতে আরও বেশি অ্যালকোহলের প্রয়োজনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এমন হতে পারে। মদ বন্ধ করলে নানা অনুভূতিও সামনে আসতে পারে—যেমন একঘেয়েমি, কিংবা মদ ছাড়াই কোনও কিছু নিয়ে উৎসাহিত হতে অসুবিধা। বিশেষ করে একাকিত্ব চাপা দিতে, সামাজিক মেলামেশার অস্বস্তি সামলাতে কিংবা দীর্ঘ দিনের শেষে নিজেকে পুরস্কার দিতে যাঁরা মদের সাহায্য নেন, তাঁদের এমন হতে পারে।
এটি সামলাতে সিগেলের পরামর্শ, মদ্যপানের জায়গায় এমন কিছু খুঁজে নিন যা আপনাকে আনন্দ দেয়। আগ্রহ অনুযায়ী তা একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হবে। ব্যায়াম, গান শোনা বা বাজানো, লেখালিখি, বই পড়া, প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানো, ধ্যান, ছবি আঁকা বা হাতের কাজ—এ সবই হতে পারে বিকল্প। এ ক্ষেত্রেও খুব অসুবিধা হলে বুঝতে হবে, পেশাদারের সাহায্য আপনার উপকারে আসতে পারে।
রক্তচাপের উন্নতি
স্বল্প সময়ের জন্য অ্যালকোহল রক্তচাপ কমাতে পারে, কারণ এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কাজের গতি কমিয়ে দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিন নিয়মিত মদ্যপান করলে রক্তচাপ উল্টে বেড়ে যেতে পারে। ‘হাইপারটেনশন’ পত্রিকায় প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি গবেষণার ফল অনুযায়ী, প্রতিদিন মাত্র এক ড্রিঙ্কও রক্তচাপ বাড়াতে পারে। বেশি মদ্যপানে রক্তচাপ আরও বেশি বেড়েছে।
সাময়িক ভাবে মদ্যপান বন্ধ রাখলে রক্তচাপের উন্নতি চোখে পড়তে পারে। বিশেষ করে আপনি যদি ঘন ঘন বা বেশি পরিমাণে মদ্যপান করেন, কিংবা আগে থেকে উচ্চ রক্তচাপ থাকে।
সিগেল বলেন, “বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, এক মাস মদ্যপান বন্ধ রাখলে তাঁদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য হতে পারে।”
আরও দীর্ঘ সময় মদ থেকে দূরে থাকার উৎসাহ
সিগেলের মতে, যাঁরা স্থায়ী ভাবে মদ্যপান কমাতে বা পুরোপুরি ছাড়তে চান, তাঁদের জন্য মদ ছাড়া একটি মাস নতুন ভাবে শুরু করার কার্যকর সুযোগ হতে পারে। কারণ, এক মাস মদ না খেয়ে ভাল ঘুম এবং স্বাস্থ্যের অন্যান্য উন্নতি অনুভব করলে আরও দীর্ঘ সময় মদ থেকে দূরে থাকতে, অথবা অন্তত ভবিষ্যতে মদ্যপান কমাতে উৎসাহ মিলতে পারে।
চোখে পড়ার মতো শারীরিক সুফলের বাইরেও ‘সোবার অক্টোবর’ বা ‘ড্রাই জানুয়ারি’র মতো উদ্যোগ কিছু মানুষকে বুঝতে সাহায্য করে যে, মদ ছাড়াও সামাজিক জীবনে আনন্দ পাওয়া সম্ভব।
সিগেল বলেন, “এক বার মানুষ এটা বুঝে গেলে, সামাজিক মেলামেশার কেন্দ্রে মদকে রাখার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা তাঁদের পক্ষে সহজ হয়।”
কিছু পরিবর্তন মাত্র এক মাসে হয় না
কিছু স্বাস্থ্যগত সুফল পেতে আরও দীর্ঘ সময় মদ্যপান থেকে বিরত থাকার প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা বেশি মদ্যপান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে।
লাপিয়েত্রা বলেন, “কারও যকৃতের উৎসেচকের মাত্রা সামান্য বেড়ে থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার উন্নতি হতে পারে, এমনকি স্বাভাবিকও হয়ে যেতে পারে। কিন্তু কেউ দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মদ্যপান করে থাকলে, যকৃতে তৈরি হওয়া ক্ষতচিহ্নযুক্ত কলার অবস্থার উন্নতি হতে কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। কিছু ক্ষতি হয়তো পুরোপুরি সারানো সম্ভবও নয়।”
ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমাতেও সাধারণত আরও বেশি সময় লাগে। অ্যালকোহল ক্যানসার সৃষ্টিকারী পদার্থ। এটি বৃহদন্ত্র ও মলাশয়ের ক্যানসার এবং স্তন ক্যানসার-সহ নানা ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। সিগেল জানাচ্ছেন, মাত্র এক মাস মদ্যপান বন্ধ রাখলে ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমবে না। তবে যত বেশি দিন মদ থেকে দূরে থাকবেন, ততই অ্যালকোহলের সংস্পর্শ কমবে এবং সময়ের সঙ্গে ঝুঁকিও কমতে থাকবে।
সিগেল বলেন, “আমরা আগে ভাবতাম, পরিমিত মদ্যপান করলে স্বাস্থ্যের উপর কোনও প্রভাব পড়ে না। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা দেখাচ্ছে, কথাটা ঠিক নয়। অল্প পরিমাণ অ্যালকোহলেও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে শুরু করে।”
আবার মদ্যপান শুরু করলে কী হবে
লাপিয়েত্রা জানাচ্ছেন, এক মাস বিরতির পরে আবার মদ্যপান শুরু করলে উপরে বলা অনেক সুফলই সম্ভবত হারিয়ে যাবে। যেমন, নভেম্বর পড়তেই পুরনো অভ্যাসে ফিরলে আবার ঘুমের সমস্যা শুরু হতে পারে অথবা উদ্বেগ বাড়তে পারে।
তবে তার অর্থ এই নয় যে, এক মাস মদ থেকে দূরে থাকা অর্থহীন। এই বিরতিকে আপনি মদের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে ভাবার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন। মদ না খাওয়ার মাসটিতে কী কী পরিবর্তন অনুভব করেছেন, কেমন ছিলেন—তা নিয়ে সময় করে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন লাপিয়েত্রা।
তাঁর কথায়, “যাঁরা খুবই কম মদ্যপান করেন, তাঁদের জীবনে আমূল বদলে দেওয়ার মতো কোনও পরিবর্তন আসবে কি না, আমি জানি না। কিন্তু যাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গে মদ জড়িয়ে রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এক মাসের বিরতি সত্যিই চোখ খুলে দিতে পারে। মন-মেজাজ, ঘুম এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যে মদ ঠিক কী ভূমিকা পালন করছে, তা তাঁরা বুঝতে পারেন।”