জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস্ বাংলা’-র ঘর মানেই প্রতিদিন নতুন নাটক, বিতর্ক এবং সম্পর্কের সমীকরণ বদল। তবে সম্প্রতি এই শো-এর দুই প্রতিযোগী— ছোটপর্দার অভিনেত্রী নন্দিনী দত্ত এবং রাজবীর দের সম্পর্ক নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে। শোয়ের শুরু থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠতা ও রোমান্টিক রসায়ন দর্শকদের একাংশের নজর কেড়েছিল। ভক্তরা তাঁদের ভালোবেসে ‘রাজনন্দিনী’ নামও দিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার জেরে তাঁদের সেই সম্পর্কে যেমন টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তেমনই দর্শকের একাংশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নন্দিনী।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি একটি পর্বে নন্দিনীর দেওয়া একটি বিশেষ আংটি হারিয়ে ফেলেন রাজবীর। আর এই ছোট বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি চরমে ওঠে। অভিনেত্রীর অভিযোগ ছিল, আংটিটি খুঁজে পাওয়ার জন্য রাজবীরের মধ্যে কোনো তৎপরতা বা আগ্রহ দেখা যায়নি। এর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন শোয়ের অপর প্রতিযোগী সৃজলা গুহের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন নন্দিনী। একটি টাস্ক চলাকালীন সৃজলার হাত লেগে নন্দিনীর পোশাক কিছুটা সরে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বিবাদ। সৃজলা পরে ক্ষমা চাইবেন বললেও তা মেনে নিতে নারাজ ছিলেন নন্দিনী এবং তিনি সৃজলার পারিবারিক শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
পরিস্থিতি শান্ত করতে সেই সময় রাজবীর মধ্যস্থতা করতে গেলে উল্টে নন্দিনীর মেজাজের শিকার হন তিনি নিজেই। রিয়্যালিটি শোয়ের অন্দরে রাজবীরকে নন্দিনী মারধর করেছেন এবং শারীরিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালিয়েছেন— এমন অভিযোগ তুলেছেন দর্শকের একটি বড় অংশ। এমনকি হাতাহাতির উপক্রম হওয়ায় রাজবীর নিজেই নন্দিনীকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন বলে দেখা গিয়েছে।
এই ঘটনার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র তোলপাড়। রাজবীরের ভক্তদের স্পষ্ট দাবি, এই ধরনের অপমানজনক ও বিষাক্ত সম্পর্ক থেকে রাজবীরের অবিলম্বে বেরিয়ে আসা উচিত। পাশাপাশি, রিয়্যালিটি শোয়ের নিয়ম অনুযায়ী শারীরিক হিংসা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কেন নির্মাতারা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, সেই প্রশ্নও তুলছেন অনেকে। অতীতে এই জুটির রোমান্স দর্শকদের মন জয় করলেও, বর্তমান পরিস্থিতি বলছে তাঁদের এই সম্পর্কে ফাটল ধরার সময় এসে গেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে ‘বিগ বস্ বাংলা’-র ঘরে এই সম্পর্কের সমীকরণ কোন মোড় নেয়।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।