মুম্বই থেকে নবী মুম্বইয়ে আন্তর্জাতিক উড়ান সরানোর পরিকল্পনা স্থগিত আদানিদের, নতুন সময়সীমা ২০২৭-এর ২৮ মার্চ

মুম্বই থেকে নবী মুম্বইয়ে আন্তর্জাতিক উড়ান সরানোর পরিকল্পনা আপাতত পিছিয়ে দিল আদানি গোষ্ঠী। আসন্ন শীতকালীন উড়ানসূচিতে কোনও উড়ান স্থানান্তর করা হবে না। পরিবর্তে, ২০২৭ সালের ২৮ মার্চ থেকে শুরু হতে চলা গ্রীষ্মকালীন উড়ানসূচি থেকে এই পরিকল্পনা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক উড়ানের ৩০ শতাংশ স্লট নবী মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব ঘিরে আদানি গোষ্ঠী ও বিদেশি বিমান সংস্থাগুলির মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরেই টানাপড়েন চলছিল। বিমান ওঠানামার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের বরাদ্দকেই বলা হয় ‘স্লট’। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের হস্তক্ষেপে মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, দু’পক্ষের বৈঠকে আপাতত স্থানান্তর পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আদানি এয়ারপোর্টস হোল্ডিংস লিমিটেডের ডিরেক্টর জিৎ আদানি এবং সিইও অরুণ বনশলের সঙ্গে বৈঠকের পরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, বিমান সংস্থাগুলিকে পরিষেবায় বিঘ্ন যথাসম্ভব কম রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগে থেকে বরাদ্দ স্লটের নিয়ম মেনে চলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, শীতকালীন উড়ানসূচিতে কোনও স্লটের পরিবর্তন হবে না।

আদানি গোষ্ঠীর দাবি, ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকালীন উড়ানসূচি থেকে পরিকল্পনাটি কার্যকর করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলির সমর্থনের আশ্বাস মিলেছে।

তবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে প্রস্তাবটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরমে উঠেছিল। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলি অভিযোগ করেছিল, তাদের উপরে কার্যত জোর করে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। বিশ্বের বিমান সংস্থাগুলির প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) তাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছিল। বিদ্যমান স্লট কমানোর পরিবর্তে বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজা এবং বিমান সংস্থাগুলিকে স্থানান্তরের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার দাবিও জানিয়েছিল তারা।

আইএটিএ-র আশঙ্কা ছিল, পরিকল্পনাটি যথাযথভাবে কার্যকর না হলে ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বইয়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ব্যাহত হতে পারে। ফলে শুধু বিমানবন্দর বদলের প্রশ্ন নয়, যাত্রী পরিষেবা ও আন্তর্জাতিক সংযোগ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

বিরোধের সূত্রপাত মুম্বই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেডের (এমআইএএল) একটি প্রস্তাব থেকে। টার্মিনাল ১-এর পুনর্নির্মাণের কথা মাথায় রেখে সংস্থাটি ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে প্রতিটি বিমান সংস্থার যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমানের মোট ওঠানামার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নবী মুম্বই বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুম্বই বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১ থেকে কিছু অন্তর্দেশীয় উড়ান টার্মিনাল ২-এ সরিয়ে নেওয়ার কথা। অন্য দিকে, টার্মিনাল ২-এর আন্তর্জাতিক উড়ান স্থানান্তরিত হওয়ার কথা নবী মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। কিন্তু এই পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবই বিমান সংস্থাগুলির আপত্তির মুখে পড়ে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত আসরে নামে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার নির্দেশ দেয় মন্ত্রক। মঙ্গলবারের বৈঠকের পরে আপাতত সেই সংঘাত কিছুটা প্রশমিত হল। তবে আগামী গ্রীষ্মকালীন উড়ানসূচি থেকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয় কি না, এখন নজর সেদিকেই।