বাংলাস্ফিয়ার: প্রথম বার জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার সংগ্রহের ছাড়পত্র পেল জিয়ো প্ল্যাটফর্মস। রিলায়্যান্সের এই সংস্থার প্রস্তাবিত প্রাথমিক শেয়ার ইস্যু বা আইপিও ভারতের শেয়ার বাজারের সবচেয়ে নজরকাড়া ঘটনাগুলির অন্যতম। এখনও পর্যন্ত এটিই দেশের বৃহত্তম আইপিও হতে পারে।
এই ইস্যুতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২৭ কোটি নতুন শেয়ার ছাড়া হবে। বিনিয়োগকারীদের চাহিদা যাচাই করে ‘বুক বিল্ডিং’ পদ্ধতিতে শেয়ারের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হবে। সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ২৭,৫০০ কোটি টাকা ঋণ শোধে ব্যবহার করা হবে। বাকি অর্থ সংস্থার সাধারণ প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করা হবে। তবে সেই খাতে খরচ মোট সংগৃহীত অর্থের ২৫ শতাংশের বেশি হবে না।
জিয়ো প্ল্যাটফর্মসে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের অংশীদারি ৬৬.৪৩ শতাংশ। মার্ক জ়াকারবার্গ প্রতিষ্ঠিত মার্কিন সংস্থা মেটা প্ল্যাটফর্মসের হাতে রয়েছে ৯.৯৮ শতাংশ এবং গুগলের হাতে ৭.৭৩ শতাংশ শেয়ার।
শেয়ার ইস্যুর খসড়া বিবরণী অনুযায়ী, নিট ইস্যুর অন্তত ৩৫ শতাংশ সাধারণ খুচরো বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দের জন্য রাখা হবে।
জিয়োর আইপিও পরিকল্পনা ঘোষণার ফলে আগামী কয়েক মাসে দু’টি বিশাল শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে বাজার থেকে মোট ৬৭ হাজার কোটি টাকার বেশি তোলা হতে পারে। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জও আইপিও-র নথি জমা দিয়েছে। ভারতের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সেবি শীঘ্রই তাদের প্রস্তাবে ছাড়পত্র দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাজারের অনুমান, বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের ইস্যুতে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা উঠতে পারে।
ভারতের টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে জিয়োর প্রভাবশালী অবস্থান এবং দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল পরিষেবার পরিসরের কারণেই সংস্থাটির শেয়ার বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা নিয়ে এত আগ্রহ। ২০১৬ সালে পরিষেবা চালুর পর থেকে কম দামে পরিষেবা, ব্যাপক হারে ফোরজি ও ফাইভজি-র প্রসার এবং পরিকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রের চেহারা বদলে দিয়েছে জিয়ো।
সারা ভারতে জিয়োর গ্রাহকসংখ্যা ৫২ কোটি ৪০ লক্ষের বেশি। ফাইভজি পরিষেবায় সংস্থার অগ্রণী অবস্থান নতুন গ্রাহকদের আকৃষ্ট করছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত জিয়োর ফাইভজি গ্রাহকসংখ্যা পৌঁছেছে ২৬ কোটি ৮০ লক্ষে। সংস্থার বক্তব্য, গ্রাহকদের পরিষেবা ব্যবহারের মাত্রাও জোরালো রয়েছে। তাদের মোট বেতার তথ্য আদানপ্রদানের ৫৫ শতাংশই এখন ফাইভজি-র মাধ্যমে হচ্ছে।
২০২০ সালে মেটা, গুগল ও ইন্টেলের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থা জিয়ো প্ল্যাটফর্মসে কয়েকশো কোটি ডলার বিনিয়োগ করার পর থেকেই তার শেয়ার বাজারে প্রবেশ নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়। ওই বিনিয়োগের সময় সংস্থাটির যে মূল্যায়ন করা হয়েছিল, তাতে জিয়ো ভারতের সবচেয়ে মূল্যবান অ-তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির সারিতে উঠে আসে। ২০২০ সালে মেটা ৫৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে জিয়োর ৯.৯৮ শতাংশ অংশীদারি কিনেছিল।
ভারতের বড় আইপিওগুলির মধ্যে হুন্ডাই ২০২৪ সালের অক্টোবরে ২৭,৮৭০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। এর মাধ্যমে তারা ২০২২ সালে ভারতীয় জীবন বিমা নিগমের ২১,০০৮ কোটি টাকার শেয়ার ইস্যুকে ছাপিয়ে যায়। উল্লেখযোগ্য অন্য ইস্যুগুলির মধ্যে রয়েছে ২০২১ সালে পেটিএমের ১৮,৩০০ কোটি টাকা এবং ২০১০ সালে কোল ইন্ডিয়ার ১৫,৪৭৫ কোটি টাকার আইপিও। ২০০৮ সালে রিলায়্যান্স পাওয়ার তার আইপিও-র মাধ্যমে প্রায় ১১,৫০০ কোটি টাকা তুলেছিল।