বাংলাস্ফিয়ার: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনায় সতর্ক ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর নাগাদ উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশার উপকূলের দিকে এগোতে পারে আবহাওয়া ব্যবস্থাটি। ওই সময় স্থলভাগে আঘাতের সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও কোথায়, কখন এবং কতটা শক্তি নিয়ে তা উপকূল অতিক্রম করবে, এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে সম্ভাব্য গতিপথকে চূড়ান্ত পূর্বাভাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের ২৩ অক্টোবরের বুলেটিন অনুযায়ী, পূর্বমধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছে। ২৪ অক্টোবর সেটি আরও সংগঠিত হয়ে ডিপ্রেশনে এবং ২৫ অক্টোবর গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর পশ্চিম ও উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে ২৬ অক্টোবর সকালে পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী দু’দিনে আরও শক্তি বাড়িয়ে উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে সেটি।
সমুদ্রের উপর হাওয়ার বেগও ধাপে ধাপে বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। ২৬ অক্টোবর সকালে পশ্চিমমধ্য ও সংলগ্ন পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘণ্টায় ৭০–৮০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে, দমকায় যা ৯০ কিলোমিটারে পৌঁছতে পারে। এই বেগ সমুদ্রের উপর সম্ভাব্য পরিস্থিতির পূর্বাভাস; স্থলভাগে আঘাতের সময়কার চূড়ান্ত গতিবেগ নয়। উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছনোর সঙ্গে পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৃষ্টির ক্ষেত্রেও সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ২৭ ও ২৮ অক্টোবর এবং ওড়িশায় ২৮ অক্টোবর বিচ্ছিন্ন জায়গায় অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ওড়িশায় ২৭ ও ২৯ অক্টোবরও কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ঝড়ের পাশাপাশি বৃষ্টিজনিত দুর্যোগের আশঙ্কাও থাকছে।
ওড়িশার রাজস্ব ও বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন, পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে এবং জেলাগুলিকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও জরুরি পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। প্রস্তুতি পর্যালোচনায় মুখ্যসচিব, বিশেষ ত্রাণ কমিশনার এবং ১৬টি জেলার জেলাশাসকদের নিয়ে বৈঠকের কথাও জানানো হয়েছে। প্রশাসনের আবেদন, মানুষ যেন আতঙ্কিত না হন। ভুবনেশ্বর আবহাওয়া কেন্দ্রের অধিকর্তা মনোরমা মহান্তির বক্তব্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার নাম হবে ‘অর্ণব’। তবে নামের সম্ভাব্য ঘোষণা এবং ঘূর্ণিঝড়ের প্রকৃত জন্ম এক বিষয় নয়।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে আপাতত কলকাতার আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস তুলনামূলক স্বস্তির। ২৪ অক্টোবর সকালের বুলেটিনে কলকাতায় ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত মূলত শুষ্ক আবহাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ২৭ অক্টোবর দু’এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে। ২৮ অক্টোবর থেকে আরও বেশি জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনাতেও একই ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ২৭ অক্টোবর কয়েকটি জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে; পরের দিন বৃষ্টির বিস্তার বাড়তে পারে। অর্থাৎ, দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও এই পূর্বাভাস থেকে সরাসরি ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার সিদ্ধান্ত টানা যায় না। কলকাতায় প্রবল ঝড়ের নিশ্চিত সতর্কতাও এই বুলেটিনে নেই।
সমুদ্রে থাকা মৎস্যজীবীদের ২৪ অক্টোবর সকালের মধ্যে উপকূলে ফিরতে বলেছে আবহাওয়া দফতর। নির্দিষ্ট সমুদ্রাঞ্চলে এবং ২৭–২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ–ওড়িশা উপকূলের কাছে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এখন নজর নিম্নচাপটি বাস্তবে কত দ্রুত শক্তি বাড়ায় এবং পরবর্তী সরকারি বুলেটিনে তার গতিপথ কীভাবে নির্ধারিত হয়, সেদিকেই। ২৮ অক্টোবরকে সম্ভাব্য সময় ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও নির্দিষ্ট কোনও শহরকে এখনই আঘাতের কেন্দ্র বলে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। পরবর্তী পর্যবেক্ষণে ঝড়ের কেন্দ্র, গতিবেগ এবং উপকূল অতিক্রমের সম্ভাব্য সময় স্পষ্ট হলে প্রস্তুতির ধরনও নির্দিষ্ট করা সম্ভব হবে। পূর্বাভাস বদলালে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকাও বদলাতে পারে। তাই উপকূলবাসীর কাছে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ ও হালনাগাদ সরকারি সতর্কবার্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।