‘চাঁদ তারা’ নির্মিত হয়েছে কিংবদন্তি গায়িকা তারামতি এবং গোলকোন্ডার সুলতান আবদুল্লা কুতুব শাহের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। ইতিহাস, কিংবদন্তি, প্রেম, সঙ্গীত এবং হায়দরাবাদের বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে মিলিয়ে ছবির কাহিনি সাজিয়েছেন বেগ। পরিচালনার পাশাপাশি সুলতান আবদুল্লা কুতুব শাহের চরিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। তারামতির ভূমিকায় রয়েছেন রঞ্জনা শ্রীবাস্তব।
ছবির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অনুপম খের, মোহন আগাশে, লাকি আলি, বসুন্ধরা দাস এবং কার্তিক রাজাকে। ছবিটির প্রযোজনা করেছে কাদির আলি বেগ থিয়েটার ফাউন্ডেশন। সহ-প্রযোজনায় রয়েছে তেলঙ্গানা পর্যটন দফতর। চলতি বছরের মে মাসে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির আন্তর্জাতিক ঝলক এবং প্রচারপত্র প্রকাশ করা হয়েছিল। তার পর টরন্টোর বিপণন বিভাগে জায়গা পাওয়া ছবিটির আন্তর্জাতিক যাত্রায় পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তারামতিকে ঘিরে হায়দরাবাদে নানা লোককথা প্রচলিত। কথিত আছে, তাঁর কণ্ঠস্বর এতটাই শক্তিশালী ও মধুর ছিল যে গোলকোন্ডা দুর্গে বসেও সুলতান তাঁর গান শুনতে পেতেন। যদিও ইতিহাসের সঙ্গে এই কিংবদন্তির সবটা মেলানো কঠিন, তারামতির স্বাধীনচেতা শিল্পীসত্তা এবং সুলতানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই হায়দরাবাদের সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ। বেগের ছবিটি সেই স্মৃতিকেই চলচ্চিত্রের ভাষায় পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করেছে।
মহম্মদ আলি বেগ দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যনির্ভর নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর একাধিক নাটকে হায়দরাবাদের বিস্মৃত ইতিহাস, স্থাপত্য এবং সাংস্কৃতিক বহুত্ব উঠে এসেছে। ‘চাঁদ তারা’-তেও পোশাক, অলঙ্কার, বাদ্যযন্ত্র, রাগসঙ্গীত এবং অন্দরসজ্জায় সংশ্লিষ্ট সময়কে যথাসম্ভব প্রামাণ্যভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এই গবেষণার ক্ষেত্রে বাবা তথা কিংবদন্তি নাট্যব্যক্তিত্ব কাদির আলি বেগের সংগ্রহ ও কাজ তাঁকে বিশেষভাবে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক।
টরন্টোর বিপণন বিভাগে প্রদর্শন ছবিটির বাণিজ্যিক ও উৎসব-ভ্রমণের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। এখানে আন্তর্জাতিক পরিবেশকের নজরে পড়লে ‘চাঁদ তারা’ বিভিন্ন দেশে মুক্তি কিংবা অন্য চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের সুযোগ পেতে পারে। বেগের লক্ষ্যও হায়দরাবাদের ইতিহাসকে নিছক রাজদরবারের জাঁকজমক হিসেবে নয়, কবিতা, সঙ্গীত ও সহাবস্থানের এক জীবন্ত ঐতিহ্য হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা।