তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, সম্পর্ক এবং অকপট মন্তব্য—এই সব কিছু নিয়েই জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ কর্ণ’। সঞ্চালক কর্ণ জোহরের প্রশ্নের উত্তরে কখনও মজার ছলে বলা কথা, কখনও অন্য তারকাকে নিয়ে মন্তব্য, আবার কখনও ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্বীকারোক্তি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রশ্মিকা মন্দানা ও বিজয় দেবরকোন্ডাকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে শুরু হওয়া আলোচনা সেই পুরনো বিতর্কগুলিকেই নতুন করে সামনে এনেছে।
রশ্মিকা-বিজয়ের সম্পর্ক নিয়ে চর্চা
‘কফি উইথ কর্ণ’-এর সাম্প্রতিক পর্বে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রশ্মিকা জানান, বিজয়কে বিয়েতে রাজি করাতে তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে বোঝাতে হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একবার বিমানবন্দরে বিজয়কে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তিনি। বিজয় জানিয়েছিলেন, জীবনের এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁরা দু’জনেই সময় নিয়ে এগোতে চেয়েছিলেন।
এই কথোপকথনের পর সমাজমাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য ও মিম ছড়িয়ে পড়ে। কেউ রশ্মিকার ভালবাসার প্রকাশ নিয়ে আলোচনা করেন, আবার কেউ বিজয়ের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে এই প্রতিক্রিয়াগুলি মূলত নেটাগরিকদের ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা—সাক্ষাৎকারের কথোপকথন থেকে তাঁদের সম্পর্কের প্রকৃতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।
বিতর্কের মধ্যে ভুয়ো তথ্য, বিকৃত ছবি ও অনলাইন হেনস্থার অভিযোগ তুলে বিজয়-রশ্মিকার পক্ষ থেকে হায়দরাবাদের সাইবার অপরাধ দমন শাখার দ্বারস্থ হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
দীপিকার মন্তব্যে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক
এই ধরনের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিংহ ‘কফি উইথ কর্ণ’-এ তাঁদের সম্পর্কের শুরুর দিক নিয়ে কথা বলেছিলেন। দীপিকা জানান, তাঁদের সম্পর্কের প্রথম পর্যায়ে তাঁরা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কে থাকলেও তা অবিলম্বে একান্ত বা একনিষ্ঠ সম্পর্কে পরিণত হয়নি। এই বক্তব্যের পর দর্শকদের একাংশের মধ্যে সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি ও বিশ্বস্ততা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
অন্য একটি পর্বে প্রাক্তন প্রেমিক রণবীর কপূরকে কোন পণ্যের বিজ্ঞাপনে দেখা যেতে পারে, সেই প্রশ্নের উত্তরে দীপিকা নিরোধের বিজ্ঞাপনের কথা বলেছিলেন। রসিকতার ছলে দেওয়া সেই উত্তরও সমালোচনার মুখে পড়ে।
হার্দিক পাণ্ড্য ও কেএল রাহুলের মন্তব্য
২০১৯ সালে হার্দিক পাণ্ড্য ও কেএল রাহুলের উপস্থিতি ‘কফি উইথ কর্ণ’-এর অন্যতম আলোচিত বিতর্কের জন্ম দেয়। অনুষ্ঠানে মহিলাদের নিয়ে হার্দিকের কিছু মন্তব্যকে নারীবিদ্বেষী ও যৌনতাপূর্ণ বলে সমালোচনা করা হয়েছিল। বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে ক্রিকেটমহলেও।
পরে হার্দিক প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) দুই ক্রিকেটারকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠায় এবং তাঁদের সাময়িক ভাবে নির্বাসিতও করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট পর্বটি সম্প্রচারমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্বজনপোষণ নিয়ে কর্ণকে কটাক্ষ কঙ্গনার
২০১৭ সালে সইফ আলি খানের সঙ্গে অনুষ্ঠানে এসে কঙ্গনা রানাউত সরাসরি কর্ণ জোহরকে বলিউডে স্বজনপোষণের অন্যতম মুখ বলে কটাক্ষ করেন। বহিরাগত শিল্পীদের প্রতি চলচ্চিত্রজগতের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
কঙ্গনার মন্তব্যের পর বলিউডে তারকা-সন্তানদের সুযোগ পাওয়া, পরিচিতির সুবিধা এবং নতুন শিল্পীদের লড়াই নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়। বিষয়টি শুধু একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের কথোপকথনে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বলিউডের কাজের পরিবেশ নিয়েও বৃহত্তর আলোচনা শুরু হয়েছিল।
ঐশ্বর্যা ও প্রিয়ঙ্কাকে নিয়েও মন্তব্য
২০১৪ সালে ইমরান হাশমি ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনের নাম শুনে ‘প্লাস্টিক’ শব্দটি বলেছিলেন। তাঁর এই মন্তব্য চেহারা ও সৌন্দর্য নিয়ে অসম্মানজনক বলে সমালোচিত হয়। পরে ইমরান জানান, দ্রুত উত্তর দেওয়ার প্রতিযোগিতায় জেতার তাগিদে তিনি ওই কথা বলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মন্তব্যটি নিয়ে অনুশোচনাও প্রকাশ করেন।
প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার উচ্চারণ নিয়েও করীনা কপূর খানের প্রশ্ন ঘিরে আলোচনা হয়েছিল। প্রিয়ঙ্কা পাল্টা মন্তব্য করায় দুই অভিনেত্রীর কথার লড়াই সংবাদমাধ্যমে জায়গা পায়। পরে অবশ্য তাঁদের সম্পর্কের বরফ গলে এবং একসঙ্গে অনুষ্ঠানেও দেখা যায়।
সলমন খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্যও অনুষ্ঠানের আলোচিত মুহূর্তগুলির মধ্যে রয়েছে। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে তাঁর বক্তব্য দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছিল।
‘কফি উইথ কর্ণ’-এর এই ঘটনাগুলি দেখায়, তারকাদের অকপট কথোপকথন কী ভাবে অনুষ্ঠানের বাইরেও দীর্ঘস্থায়ী আলোচনার জন্ম দিতে পারে। তবে কোনও মন্তব্যের সমালোচনা, নেটাগরিকদের অনুমান এবং যাচাই করা তথ্য—এই তিনটির মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।