সুপারহিট কন্নড় ছবি ‘প্রেমদা উরালি’র হাত ধরে রাতারাতি বদলে গিয়েছে কর্নাটকের হাসানের এক নিরিবিলি মন্দিরের ছবি। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটক ও সপরিবার দর্শনার্থীদের ঢল নামছে মালে মল্লেশ্বর মন্দিরে। আর তাতেই এলাকায় তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। অভিযোগ, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতরে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা থেকে শুরু করে মদ্যপান—চলছে নানা বেআইনি কাজও। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই এলাকাটি সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে বন দফতর।
আগামী বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক হাসানাম্বা মন্দিরের মেলা। সেই উপলক্ষে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ভিড় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় প্রশাসনের। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানীয় জল ও গাড়ি রাখার জায়গার মতো প্রাথমিক পরিষেবার ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না, তা জানতে বন দফতরের কাছে সমীক্ষা-রিপোর্ট চেয়েছিল জেলা প্রশাসন।
হাসানের সহকারী বন সংরক্ষক মোহন ভি এস বলেন, “আমরা জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি, সংরক্ষিত বনের ভিতরে এ ধরনের পরিকাঠামো তৈরি করা অসম্ভব। সেখানে গাড়ি রাখার অনুমতি দেওয়া বা এত বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হতে দিলে চিতাবাঘ ও ভালুকের হামলার গুরুতর ঝুঁকি থাকবে। সেই কারণেই আমরা এলাকাটি সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছি।”
ইতিমধ্যেই মালে মল্লেশ্বর থেকে সিগে গুড্ডা যাওয়ার রাস্তাটিও বন্ধ করে দিয়েছে বন দফতর। রাস্তাটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে পড়েছে। ওই আধিকারিকের কথায়, “বনাঞ্চলে মদ্যপান, আবর্জনা ফেলা এবং অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপের ঘটনা ঘটেছে। আপাতত ওই রাস্তায় গাড়ি ও সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”
হাসানের তহসিলদার গীতা সি জি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই দর্শনার্থীর সংখ্যা আচমকা বেড়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “বনাঞ্চলে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়া নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রচুর অভিযোগ এসেছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য আমরা রিপোর্ট জমা দিয়েছি।”
অথচ ছবিটি মুক্তির আগে গোটা সপ্তাহে মন্দিরে দর্শনার্থীর সংখ্যা মেরেকেটে ২০০ থেকে ৩০০-র মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত। সিনেমার জনপ্রিয়তায় সেই নির্জন পরিবেশ এখন কার্যত অতীত।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছিল ‘প্রেমদা উরালি’। প্রথম দিন মাত্র ৬০টি শো দিয়ে যাত্রা শুরু করা ছবিটির ব্যবসা ইতিমধ্যেই ১২০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্যের দাবি। অথচ ছবিটি তৈরিতে খরচ হয়েছিল মাত্র আড়াই কোটি টাকা।