লগইনসদস্যতালেখক
হোম›সংস্কৃতি›ইস্ট অব ইডেন’-এর ঝলকে দুর্ধর্ষ ফ্লোরেন্স পিউ, রহস্যে মোড়া স্টাইনবেকের মহাকাব্য
সংস্কৃতি

ইস্ট অব ইডেন’-এর ঝলকে দুর্ধর্ষ ফ্লোরেন্স পিউ, রহস্যে মোড়া স্টাইনবেকের মহাকাব্য

জন স্টাইনবেকের কালজয়ী উপন্যাস ইস্ট অব ইডেন অবলম্বনে নির্মিত নেটফ্লিক্সের নতুন সীমিত ধারাবাহিকের পূর্ণাঙ্গ ঝলক প্রকাশ্যে এল। সাত পর্বের এই ধারাবাহিকে ক্যাথি এমসের ভূমিকায় রয়েছেন ফ্লোরেন্স পিউ। অন্ধকার, নিষ্ঠুরতা ও…

ইস্ট অব ইডেন’-এর ঝলকে দুর্ধর্ষ ফ্লোরেন্স পিউ, রহস্যে মোড়া স্টাইনবেকের মহাকাব্য

জন স্টাইনবেকের কালজয়ী উপন্যাস ইস্ট অব ইডেন অবলম্বনে নির্মিত নেটফ্লিক্সের নতুন সীমিত ধারাবাহিকের পূর্ণাঙ্গ ঝলক প্রকাশ্যে এল। সাত পর্বের এই ধারাবাহিকে ক্যাথি এমসের ভূমিকায় রয়েছেন ফ্লোরেন্স পিউ। অন্ধকার, নিষ্ঠুরতা ও রহস্যের আবহে সাজানো ঝলকের প্রায় প্রতিটি দৃশ্যেই তাঁর দুর্ধর্ষ উপস্থিতি নজর কাড়ে।

“আমি বিশ্বাস করি, মানুষের ঘরেই কখনও কখনও দানব জন্ম নেয়”—স্টাইনবেকের উপন্যাস থেকে নেওয়া এই বাক্য দিয়েই ঝলকের সূচনা। ক্যাথির কণ্ঠে শোনা যায়, একটি শিশু বাহ্যিকভাবে নিখুঁত হয়েও জন্মাতে পারে দয়া ও বিবেক ছাড়াই। কথাগুলি যেন একই সঙ্গে তার আত্মপরিচয় এবং দর্শকের প্রতি সতর্কবার্তা। ক্যাথি কি জন্মগতভাবেই অশুভ, না কি তার নিষ্ঠুরতার পিছনে রয়েছে অতীতের কোনও গভীর ক্ষত—ঝলক সেই প্রশ্নটিই রহস্যে মুড়ে রাখে।

১৯৫২ সালে প্রকাশিত স্টাইনবেকের উপন্যাসটি ট্রাস্ক ও হ্যামিল্টন পরিবারের কয়েক প্রজন্মের কাহিনি। আমেরিকার গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনালগ্ন পর্যন্ত বিস্তৃত এই আখ্যানের ভিতরে রয়েছে পরিবার, উত্তরাধিকার, পাপ, বিশ্বাসঘাতকতা এবং স্বাধীনভাবে ভাল-মন্দ বেছে নেওয়ার দ্বন্দ্ব। বাইবেলের আদম ও ইভ কিংবা কেইন ও আবেলের কাহিনির প্রতিধ্বনিও রয়েছে উপন্যাসে।

নতুন ধারাবাহিকটি লিখেছেন এবং কার্যনির্বাহী প্রযোজনার দায়িত্ব সামলেছেন জোই কাজান। তাঁর সঙ্গে ইস্ট অব ইডেন-এর সম্পর্কটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জোইয়ের ঠাকুরদা এলিয়া কাজান ১৯৫৫ সালে উপন্যাসটির চলচ্চিত্ররূপ দিয়েছিলেন, যেখানে অভিনয় করেছিলেন জেমস ডিন। সেই ছবিতে মূলত উপন্যাসের শেষাংশ গুরুত্ব পেয়েছিল। জোই কাজানের সাত পর্বের সংস্করণে বিস্তৃত পারিবারিক আখ্যানের পাশাপাশি ক্যাথি এমসকে রাখা হয়েছে কাহিনির কেন্দ্রে। স্টাইনবেকের মূল রচনা এবং লেখার সময় সম্পাদকের উদ্দেশে লেখা তাঁর চিঠিগুলিকেও চিত্রনাট্যের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন কাজান।

ফ্লোরেন্স পিউয়ের পাশাপাশি অ্যাডাম ট্রাস্কের চরিত্রে রয়েছেন ক্রিস্টোফার অ্যাবট এবং চার্লসের ভূমিকায় মাইক ফাইস্ট। অ্যাডামের দুই যমজ ছেলে ক্যাল ও অ্যারনের চরিত্রে যথাক্রমে জোসেফ জাডা ও জো অ্যান্ডার্স। স্যামুয়েল হ্যামিল্টনের ভূমিকায় দেখা যাবে কিয়ারান হাইন্ডসকে। অন্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন মার্থা প্লিম্পটন, ট্রেসি লেটস এবং হুন লি।

ঝলকে পারিবারিক সম্পর্কের উষ্ণতার পাশেই দেখা যায় ঈর্ষা, প্রতারণা, হিংসা ও মানসিক বিপর্যয়ের আভাস। তবে অন্ধকারের মধ্যেও একটি আশার কথা শোনায় হুন লির চরিত্র লি—মানুষের ভবিষ্যৎ তার অতীতের হাতে স্থির হয়ে যায় না; শেষ পর্যন্ত নিজের কাজের দায় তাকেই নিতে হয়।

মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি এবং অন্তরঙ্গ মানবিক নাটকের মিশেলে তৈরি ইস্ট অব ইডেন-এর সাতটি পর্বই নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাবে ১ অক্টোবর। এই সংস্করণে স্টাইনবেকের পরিচিত কাহিনিকে দেখা হবে তার সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত নারী ক্যাথি এমসের চোখ দিয়ে।

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক