‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়রের চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন মিটে। সেরিব্রাল পলসি নিয়ে বেঁচে থাকা এই অভিনেতা বিনোদনজগতে প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও অধিকার নিয়ে সরব ছিলেন।
প্রয়াত ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর অভিনেতা আর জে মিটে। সোমবার, ৩৪ বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। অভিনেতার প্রতিনিধিরা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।
টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে মৃত্যু হয় মিটের। ব্রাউনসভিল পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুর পিছনে কোনও অপরাধমূলক ঘটনার যোগ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে না। তবে ঘটনার তদন্ত চলছে। ক্যামেরন কাউন্টির স্থানীয় বিচারক সিন্ডি হিনোহোসা সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, অভিনেতার ময়নাতদন্ত করা হবে।
এক বিবৃতিতে মিটের প্রতিনিধিরা বলেন, “গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, সকলের প্রিয় অভিনেতা, সমাজহিতৈষী এবং প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকারের একনিষ্ঠ প্রবক্তা আর জে মিটের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সেরিব্রাল পলসি নিয়ে নিজের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মিটে তাঁর অভিনীত চরিত্রটিকে বাস্তবসম্মত করে তুলেছিলেন। পাশাপাশি, প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে সচেতনতা এবং অন্তর্ভুক্তির পক্ষে কথা বলার একটি মঞ্চ গড়ে তুলেছিলেন।”
মাত্র ১৫ বছর বয়সে ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ অভিনয় শুরু করেছিলেন মিটে। জনপ্রিয় এই ধারাবাহিকে ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়রের চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ব্রায়ান ক্র্যানস্টন অভিনীত ওয়াল্টার হোয়াইট ছিলেন হাইস্কুলের রসায়নের শিক্ষক, যিনি পরে মাদক সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন। তাঁর ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন মিটে। এএমসি-র বহুল প্রশংসিত ধারাবাহিকটির মোট ৫৬টি পর্বে অভিনয় করেছিলেন তিনি। ‘ব্রেকিং ব্যাড’কে প্রায়ই টেলিভিশনের সর্বকালের অন্যতম সেরা ধারাবাহিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বাস্তব জীবনে সেরিব্রাল পসি ছিল মিটের। ধারাবাহিকে তাঁর অভিনীত ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়রেরও একই শারীরিক অবস্থা ছিল। প্রতিবন্ধী অভিনেতাদের কাজের সুযোগ এবং পর্দায় প্রতিবন্ধী মানুষের বাস্তবসম্মত উপস্থাপনা নিয়ে বরাবরই সরব ছিলেন তিনি।
২০১৫ সালে ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিবন্ধী অভিনেতা হিসেবে প্রতিবন্ধী চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছিলেন মিটে। তাঁর কথায়, “আপনি ঝুঁকিগুলো মেনে নেন। এটাও মেনে নেন যে, আপনাকে এই ধরনের চরিত্রেই অভিনয় করতে হবে। কিন্তু আসল বিষয় হল, চরিত্রগুলো আপনি কীভাবে ফুটিয়ে তুলছেন—মানুষের ভিতরে যে মনের জোর রয়েছে, সেটাই আপনাকে দেখাতে হবে।”
মিটের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকপ্রকাশ করেছেন তাঁর সহ-অভিনেতারা। ধারাবাহিকে জেসি পিঙ্কম্যানের চরিত্রে অভিনয় করা অ্যারন পল এক বিবৃতিতে লেখেন, “আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এই খবরে আমার হৃদয় ভেঙে গিয়েছে। আর জে, বন্ধু, তোমাকে আমি ভালোবাসি। তোমার অভাব অনুভব করব।”
ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়রের আঙ্কল হ্যাঙ্ক শ্রেডারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ডিন নরিস। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “আর জে পর্দায় আমার ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেনি ঠিকই, কিন্তু সেটে ছোট্ট ছেলেটির খেয়াল আমি সবসময় রাখতাম। ও ছিল ভীষণ মিষ্টি একটি ছেলে। ওর অভাব খুব অনুভব করব। এতটাই হৃদয়বিদারক এই খবর যে বিশ্বাস করতে পারছি না। ওর কথা, ওর পরিবারের কথা ভাবছি।”
‘ব্রেকিং ব্যাড’ ছাড়াও ‘সুইচড অ্যাট বার্থ’ এবং ‘দ্য গার্ডিয়ানস অব জাস্টিস’-এর মতো একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন মিটে। মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগেও নিজের নতুন ছবি ‘টকিং টু স্ট্রেঞ্জার্স’-এর প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। ছবিটিকে একটি ‘বিয়োগান্ত প্রেমের কাহিনি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ অনুরাগীরা।