বাংলাস্ফিয়ার: সৌদি আরবে সিতি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তাঁর পরিণতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে পরিবার। তাঁর বাবা ফজল মিয়া বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানিয়েছেন, মেয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার এই বিপর্যয়কর খবর আসার আগে একসময় সিতি নিয়মিত বাড়িতে টাকা পাঠাতেন।
ফজল বলেন, “প্রথম পাঁচ মাস ও বাড়িতে টাকা পাঠিয়েছিল। একদিন ফোন করে জানায়, ওকে জেলে পাঠানো হয়েছে।”
মামলার প্রসঙ্গে তিনি জানান, সিতি তাঁদের বলেছিলেন, সৌদি আরবে অন্য কয়েকজন নারী কর্মীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর তাঁকে ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর এক বছর সিতির সঙ্গে পরিবারের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ফজল জানান, পরে সিতি প্রতি মাসে পরিবারের সদস্যদের ফোন করতে শুরু করেন। কিন্তু মামলা, বিচারপ্রক্রিয়া কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে ঘোষিত সাজা সম্পর্কে কখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ফজল বলেন, “শেষ দিকের একবার ফোনে ও বলেছিল, দু’মাসের মধ্যে হয়তো জেল থেকে ছাড়া পাবে। মাত্র ১৫ দিন আগেও জেল থেকে আমাদের ফোন করেছিল। তখনও নিজের সাজা সম্পর্কে কিছু বলেনি।”
পরিবারের দাবি, দু’দিন আগে তাঁরা সিতির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর শুনেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাননি।
এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি জানিয়েছে, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার বিষয়টি তারা জানে। তবে তাঁদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
মেয়ের পরিণতি ঘিরে অনিশ্চয়তার কথা বলতে গিয়ে ফজল বলেন, “আমার মেয়ের কী হয়েছে, আমরা জানি না। ও বেঁচে আছে, না মারা গিয়েছে, তা-ও জানি না। আমরা শুধু লোকমুখে নানা কথা শুনছি।”
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কার একটি মসজিদের ভিতরে অশালীন কাজে লিপ্ত হওয়ার দায়ে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে এক পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁদের পরিচয় জানিয়েছে নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির এবং সিতি আখতার হিসেবে। সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, দু’জনই বাংলাদেশের নাগরিক।