বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফের শোনা গেল ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান। তবে এ বার বিক্ষোভের নিশানায় শুধু ভারত নয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারও। শুক্রবার ঢাকার শাহবাগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP)। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করলেন, বাংলাদেশে একটি স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর নতুন করে স্বৈরতন্ত্রের উত্থান হচ্ছে।

ঢাকার জাতীয় জাদুঘরের সামনে NCP-র ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন বলে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে ফের একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

সমাবেশ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের পদত্যাগ দাবি করে NCP। নাহিদের অভিযোগ, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, নিরাপত্তাহীনতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সঙ্কট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। এই ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রীকে নিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।

পদত্যাগ না করা হলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও মিছিলের কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন NCP-র আহ্বায়ক। সেই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘেরাও করে দাবি আদায়ের কথাও বলেন তিনি।

ভারত প্রসঙ্গেও সরব নাহিদ

সমাবেশে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গও তোলেন নাহিদ। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যু, পার্বত্য অঞ্চলের অস্থিরতা এবং ভারতের অসম ও পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে তিনি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন। দিল্লিতে মসজিদ ভাঙার পরিকল্পনা নিয়েও অভিযোগ তোলেন NCP নেতা। তবে এই অভিযোগগুলির পক্ষে সমাবেশে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

জাপান সফরের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে ভারতকে একটি ‘অবৈধ করিডর’ দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগও করেন নাহিদ। তাঁর দাবি, এমন কোনও ব্যবস্থা বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবেন না। পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ন্যায্য শর্তে চুক্তি নবীকরণের দাবি জানান তিনি। বাংলাদেশের প্রাপ্য জল নিশ্চিত না হলে ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেন।

সংবিধান সংস্কার নিয়েও দাবি

NCP-র সমাবেশ থেকে সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত একপাক্ষিক কমিটি বাতিল করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানানো হয়। মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী আইন বাতিল এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করার দাবিও তোলা হয়।

৩০ অক্টোবরের এই সমাবেশ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিরোধী আন্দোলনের ইঙ্গিত দিল। ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগানের পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে NCP-র সরাসরি আক্রমণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। আগামী দিনে এই দাবিগুলিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন কতটা বিস্তৃত হয়, এখন সেদিকেই থাকবে নজর।