বাংলাস্ফিয়ার: কেন বামপন্থীদের একটা অংশ AI-কে ভবিষ্যৎ হিসেবে মানতে চাইছে না? সম্প্রতি Substack-এ একটা লেখা ভাইরাল হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে “বামপন্থীরা AI থেকে পিছিয়ে পড়ছে।” এই লেখা আবার নতুন করে AI নিয়ে রাজনৈতিক আর সামাজিক বিতর্ক শুরু করেছে। মূল তর্কটা শুধু প্রযুক্তি নিয়ে না—বরং AI আসলে সমাজ, অর্থনীতি আর মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলবে, সেটা নিয়েই মতভেদ। বামপন্থী সমালোচকদের একটা বড় অংশ এই ধারণাটাই মানতে চায় না যে AI নাকি অবশ্যম্ভাবী ভবিষ্যৎ বা সবার জন্য ভালো কিছু। তাদের মতে, AI এত দ্রুত ছড়াচ্ছে কারণ এটা মানুষের জীবন বদলে দেবে বলে না, বরং বড় বড় টেক কোম্পানি আর বিনিয়োগকারীদের লাভ বাড়ানোর জন্য। আরেকটা বড় আপত্তি হলো “AI” শব্দটাই। নামটা শুনলে মনে হয় যেন এটা মানুষের মতো বুঝতে পারে বা চিন্তা করতে পারে। কিন্তু আসলে AI কোনো কিছু “বোঝে” না। এটা শুধু ডেটা আর প্রোগ্রাম করা নিয়ম অনুযায়ী প্যাটার্ন মিলিয়ে উত্তর বানায়। নিজের থেকে চিন্তা বা উপলব্ধি করার ক্ষমতা এর নেই। তবুও খুব দ্রুত AI ঢুকে পড়েছে ফোন, সফটওয়্যার, অফিসের কাজ, আর সোশ্যাল মিডিয়ায়। সমর্থকরা এটাকে ভবিষ্যতের বড় পরিবর্তনের লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এটা মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা থেকে হয়নি—বরং কোম্পানিগুলো জোর করে তাদের প্রোডাক্টে AI ঢুকিয়ে দিয়েছে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও চিন্তা আছে। সমালোচকদের মতে, AI ধীরে ধীরে ক্ষমতা আর টাকা কয়েকটা বড় কোম্পানির হাতেই কেন্দ্রীভূত করছে। কারণ AI চালাতে বিশাল ডেটা, সার্ভার, আর টাকা লাগে—যা শুধু বড় কোম্পানিরাই afford করতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের চাকরির নিরাপত্তাও কমতে পারে। আরেকটা বড় ইস্যু হলো প্রাইভেসি আর ডেটাব্যবহার। AI তৈরি করতে মানুষের লেখা, ছবি, আর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করা হয়—অনেক সময় তাদের অনুমতি বা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই। এর ফলে শিল্পী, লেখক, আর creative মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, তারা প্রযুক্তির বিরুদ্ধে না। ইতিহাসে বামপন্থীরা অনেক প্রযুক্তিকেই সমর্থন করেছে—যেমন public infrastructure, open-source software, renewable energy, আর সবার জন্য সস্তা ইন্টারনেট। তাদের মতে, আসল প্রশ্ন হলো প্রযুক্তি কে নিয়ন্ত্রণ করছে, আর এর লাভ কারা পাচ্ছে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও AI নিয়ে উদ্বেগ আছে। অনেকের মতে, শিল্প শুধু একটা output না—এর মধ্যে মানুষের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা, আর পরিশ্রম থাকে। AI হয়তো ছবি বা লেখা বানাতে পারে, কিন্তু মানুষের সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর সৃষ্টিশীলতার জায়গাটা পুরোপুরি replace করতে পারে না। পরিবেশ নিয়েও চিন্তা আছে। AI চালাতে প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে, বড় বড় ডেটা সেন্টার লাগে। এর ফলে পরিবেশের ওপর চাপ বাড়তে পারে। AI-এর সমর্থকরা বলছেন, এটা productivity বাড়াতে পারে, গবেষণা এগিয়ে নিতে পারে, আর নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এই সম্ভাব্য লাভের পাশাপাশি অসমতা, privacy, আর ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের ঝুঁকিও মাথায় রাখতে হবে। শেষ পর্যন্ত, এই বিতর্কটা শুধু AI নিয়ে না—বরং প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে। প্রযুক্তি কি মানুষের জন্য কাজ করবে, নাকি শুধু বড় কোম্পানির লাভের জন্য—এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সমালোচকদের মতে, প্রযুক্তির বিরোধিতা করা তাদের উদ্দেশ্য না। বরং তারা চাইছে প্রযুক্তি যেন সবার উপকারে আসে, শুধু কিছু প্রাইভেট কোম্পানির লাভের জন্য না।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles