বাংলাস্ফিয়ার: বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে সোমবার কলকাতায় চালু হলো নতুন একটি নাগরিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ‘ভয়েসেস ফর ওয়েটল্যান্ডস’ নামক এই উদ্যোগটি মূলত তৃণমূল স্তরে জলাভূমি সংরক্ষণের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করতে তৈরি করা হয়েছে। ‘দ্য ক্লাইমেট থিঙ্কার’ এবং ‘আসর সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যাডভাইজরস’-এর যৌথ প্রচেষ্টায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
মঞ্চের মূল উদ্দেশ্য, স্যাটেলাইট ম্যাপিংয়ের সাহায্যে, জনপদ থেকে সংগৃহীত নতুন তথ্য নিয়ে আগামীর নীতিগত আলোচনায় সেগুলি পেশ করা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১১.৮ লক্ষ হেক্টর এলাকা জুড়ে ৪,৬২,৫২৩টি জলাভূমি রয়েছে, যা রাজ্যের মোট ভৌগোলিক আয়তনের ১২.৯ শতাংশ। নদী, খাঁড়ি, পুকুর এবং ম্যানগ্রোভ মিলেই এই জলাভূমি অঞ্চলের ৮০ শতাংশের বেশি গঠিত।
পশ্চিমবঙ্গ অসংখ্য বৈচিত্র্যময় জলাভূমির আধার। এর মধ্যে যেমন সুন্দরবন বা পূর্ব কলকাতা জলাভূমির মতো আন্তর্জাতিক তকমা পাওয়া অঞ্চল রয়েছে, তেমনই গ্রাম ও শহরাঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা কয়েক হাজার মানুষের তৈরি পুকুর, বিল ও জলা জমিও রয়েছে। ‘দ্য ক্লাইমেট থিঙ্কার’-এর প্রতিষ্ঠাতা সৃজন হালদার আক্ষেপ করে বলেন, ‘জলাভূমিকে এখনও স্রেফ ‘পতিত জমি’ হিসেবে দেখা থেকে আমরা বেরোতে পারিনি।’
তাঁর মতে, জলাভূমি এক একটি জীবন্ত ব্যবস্থা, যা জীবিকা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর স্পষ্ট দাবি, নীতি নির্ধারণে যদি স্থানীয় মানুষকে সরাসরি যুক্ত না করা যায়, তবে কোনো সংরক্ষণই সফল হবে না। বর্তমানে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দূষণ এবং জবরদখলের ফলে বাংলার জলাভূমিগুলি অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।
এই মঞ্চ গবেষক, শিক্ষক, সচেতন নাগরিক ও নীতি নির্ধারকদের এক সুতোয় বাঁধতে সাহায্য করবে বলে বিশেষজ্ঞদের আশা। ‘আসর’-এর সন্দীপ ঘোষ জানান, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য যেকোনো রকম সংঘাত এড়িয়ে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র খোঁজা। জলাভূমি সংরক্ষণ কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত নয়। তাঁদের উদ্দেশ্য, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাজ্যের জলাভূমিগুলিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা।