বাংলাস্ফিয়ার: রাজপরিবারের অন্দরে ফের কেলেঙ্কারির ছায়া। নরওয়ের যুবরাজ্ঞী মেট-মারিটের সঙ্গে এবার কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতার কথা প্রকাশ্যে এল। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টাইন সংক্রান্ত যে নথিপত্র প্রকাশ করেছে, তাতে মেট-মারিটের নাম অন্তত ১,০০০ বার উল্লেখ করা হয়েছে। এই নথিতে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দু’জনের মধ্যে বিনিময় হওয়া অসংখ্য ইমেল ও মেসেজ সামনে এসেছে। ইতিমধ্যে চাপের মুখে, তখন তাঁর ‘বিবেচনাশক্তির অভাব’ হয়েছিল বলে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
নরওয়ের সংবাদপত্র ‘ভিজি’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, এপস্টাইন ও মেট-মারিটের সম্পর্কের গভীরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এপস্টাইনের ফাঁস হয়ে যাওয়া নথিতে দেখা গিয়েছে, মেট-মারিট এক ইমেলে এপস্টাইনকে লিখেছিলেন, “তোমার মত ব্যক্তিত্ব আমার ভালো লাগে (You tickle my brain)”। অন্য এক জায়গায় তাঁকে “অত্যন্ত নরম হৃদয়ের” এবং “সুইটহার্ট” বলেও সম্বোধন করেছেন তিনি। ২০১২ সালের এক বার্তায় এপস্টাইনকে ‘Charming’ আখ্যা দেন যুবরাজ্ঞী। এমনকি তাঁর বছর ১৫-র ছেলের কম্পিউটারে ওয়ালপেপার হিসেবে দুই নগ্ন মহিলার ছবি রাখা ঠিক হবে কি না, তা নিয়েও রসিকতা করেছিলেন।
সেই নথি অনুযায়ী, যুবরাজ্ঞী ও এপস্টাইনের মধ্যে প্যারিসে এপস্টাইনের ‘স্ত্রী খোঁজা’ নিয়েও কথা হয়। মেট-মারিট মজা করে লিখেছিলেন, ব্যভিচারের জন্য প্যারিস ভালো জায়গা হলেও স্ত্রী হিসেবে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান মেয়েরাই সেরা। ২০১৩ সালে পাম বিচে এপস্টাইনের বাড়িতেও চারদিন কাটিয়েছিলেন যুবরাজ্ঞী। যদিও শনিবার রাজপ্রাসাদ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে ৫২ বছর বয়সী মেট-মারিট জানিয়েছেন, এপস্টাইনের অতীত বা তাঁর এমন নিকৃষ্ট ক্রিয়াকলাপের বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞাত ছিলেন। তাঁর কথায়, “এপস্টাইনের মতো মানুষ যে একদা আমার পরিচিত ছিল, একথা ভেবে আমি লজ্জিত।”
তবে এর বিপরীতে, এপস্টাইন-ফাইলসে একটি চাঞ্চল্যকর ইমেল সামনে এসেছে। ২০১১ সালে মেট-মারিট এপস্টাইনকে জানিয়েছিলেন যে তিনি তাঁকে ‘গুগল’ করেছেন। ইমেলে তিনি লেখেন, সার্চের ফলাফল “খুব একটা ভালো দেখাচ্ছে না” এবং তার পাশে একটি ‘স্মাইলি ইমোজি’ (Smiling emoji) ব্যবহার করেছিলেন তিনি। তা সত্ত্বেও কেন তিনি যোগাযোগ বজায় রাখলেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ২০১৪ সালে এপস্টাইন রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর পরিচয়কে হাতিয়ার করার চেষ্টা করছেন বুঝে তিনি এই সম্পর্ক ছিন্ন করেন বলে রাজপরিবারের দাবি করেছে।
এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এল যখন যুবরাজ্ঞীর ছেলে মারিয়াস বর্গ হইবি-র ধর্ষণের মামলার বিচার শুরু হতে চলেছে। মারিয়াসের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, লাঞ্ছনা ও মাদক-সহ ৩৮টি অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, মারিয়াস যুবরাজ্ঞীর আগের সম্পর্কের সন্তান, তাঁর কোনো রাজকীয় পদবি নেই এবং তিনি রাজকীয় উত্তরাধিকার বা সাকসেশনের বাইরে। যুবরাজ হাকন জানিয়েছেন, বিচারের সময় মেট-মারিট ব্যক্তিগত সফরে দেশের বাইরে থাকবেন। এপস্টাইনের নিগৃহীতাদের প্রতি যুবরাজ্ঞী সমবেদনা জানিয়েছেন বটে, কিন্তু এই যোগসূত্র যে নরওয়ের রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তিকে বেজায় কলঙ্কিত করল তাতে সন্দেহ নেই।