বাংলাস্ফিয়ার: মেলানিয়া নিজেকে একটি অন্তরঙ্গ ডকুমেন্টারি প্রতিকৃতি হিসেবে উপস্থাপন করলেও, সমালোচকদের দৃষ্টিতে এটি মূলত অনুসন্ধানের চেয়ে ভাবমূর্তি নিয়ন্ত্রণের একটি সুচারুভাবে পরিকল্পিত প্রয়াস। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের সময়কালকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ছবিটি পর্দার আড়ালের জীবনের প্রতিশ্রুতি দিলেও, মনস্তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক কিংবা আবেগগত গভীরতা প্রায় অনুপস্থিত। সমালোচকেরা বারবার ছবিটির ঝকঝকে বাহ্যিক রূপের কথা উল্লেখ করেছেন—সংযত নীরবতা, সুচিন্তিত অভ্যন্তরীণ পরিসর এবং আচারসর্বস্ব প্রস্তুতি—যা প্রকাশের বদলে এক ধরনের দূরত্বই তৈরি করে। ক্ষমতা, দ্বন্দ্ব বা জনসমালোচনাকে প্রশ্ন করার বদলে ডকুমেন্টারিটি শ্রদ্ধার পথ বেছে নেয়, ফলে তার বিষয়বস্তু রহস্যময় ও অপ্রকাশিতই থেকে যায়। এর ফলে মেলানিয়া ডকুমেন্টারি ও প্রচারমূলক মাধ্যমের মধ্যকার সীমারেখা মুছে দেয়, এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক চলচ্চিত্রে রচয়িতা, প্রবেশাধিকার ও সত্যের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে আনে। ছবিটির শীতল সমালোচনামূলক গ্রহণযোগ্যতা একটি বৃহত্তর প্রত্যাশার কথাই জানায়—ক্ষমতাশালী ব্যক্তিত্বকে নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারির কাজ কেবল পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধ থাকা নয়; তাকে প্রশ্ন করতে হবে, অনুসন্ধান করতে হবে এবং দর্শককে অস্বস্তিতে ফেলতেও সাহসী হতে হবে।
মেলানিয়া ছবিটির রিভিউ প্রকাশ্যে এসেছে, আর সেগুলো রীতিমতো নির্মম। একবার চোখ বোলানো যাক। দ্য গার্ডিয়ান ছবিটিকে ৫-এ ১ তারকা দিয়েছে এবং লিখেছে, “মেলানিয়ার দুই ঘণ্টা যেন খাঁটি, শেষ না-হওয়া নরক।” সমালোচক জ্যান ব্রুকসের ভাষায়, “এটি হতাশাজনক, প্রাণহীন এবং আশ্চর্যজনকভাবে কিছুই প্রকাশ করে না।” দ্য আটলান্টিক ছবিটিকে সরাসরি “একটি লজ্জা” বলে অভিহিত করেছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর নিক হিল্টনও ৫-এ ১ তারকা দিয়ে লিখেছেন, “এই ভয়াবহ প্রোপাগান্ডা ছবিতে ফার্স্ট লেডি এক আত্মমুগ্ধ, ভ্রুকুটি করা শূন্যতা—যার ভেতরে একেবারেই কিছু নেই।” তিনি আরও তীব্র ব্যঙ্গ করে ছবিটিকে ব্রিটিশ কিশোরদের ভ্যাপ ধোঁয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন: “মেলানিয়াকে ফাঁপা বলা মানে সেই ফুলে-ফেঁপে থাকা ভ্যাপ ধোঁয়াকেই অপমান করা, যা ব্রিটিশ কিশোরদের চারপাশে ভেসে থাকে।”

ভ্যারাইটি-র প্রধান সংবাদদাতা ড্যানিয়েল ডি’অ্যাডারিও বলেন, “মেলানিয়া মূলত এমন একটি ছবি, যেখানে এক নারীকে ঘরে ঢুকতে ও বেরোতে দেখা যায়।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই ছবিটিকে ট্রাম্প ইউনিভার্সিটি, ট্রাম্প স্টেকস, আইন সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে নানা আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং পরিবারের টাকা কামানোর অন্যান্য সব উদ্যোগের পাশে রাখাই যায়—সবই এই পরিবারের এক পয়সা কামানোর আগ্রহের প্রমাণ।” দ্য ডেইলি বিস্ট-এর কেভিন ফেলন একে বলেছেন “চলচ্চিত্র নির্মাণের এক অবিশ্বাস্য জঘন্য নিদর্শন।” তিনি ব্যঙ্গ করে প্রশ্ন তুলেছেন, “যে হলে আমি সাহস করে মেলানিয়া ডকুমেন্টারির প্রথম দিনের প্রথম শো দেখতে গিয়েছিলাম, সেখানে কেন কেউ বাইরে দাঁড়িয়ে ‘I Survived the Melania Movie’ লেখা স্মারক টি-শার্ট বিক্রি করছিল না? কিংবা অন্তত একটা ছোট্ট মগ?”
দ্য ডিসাইডার-এর জেসি হাসেঙ্গার ছবিটিকে আখ্যা দিয়েছেন, “একটি অসৎ ডকুমেন্টারি, যা ফার্স্ট লেডির খ্যাতিকে তারকা-গুণ ভেবে ভুল করে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি যোগ করেন, “এটা আসলে এলোমেলো ফুটেজের স্তূপ ছাড়া কিছুই নয়।” বিজনেস ইনসাইডার-এর পিটার কাফকা একে বলেছেন, “একঘেয়ে ছবির ছদ্মবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি উপহার।” তাঁর মন্তব্য, “এমনকি কট্টর ট্রাম্প সমর্থকরাও ফার্স্ট লেডিকে নিয়ে বানানো এই ডকুমেন্টারিতে বিরক্ত হয়ে যেতে পারেন।” আর সবশেষে, বাজফিড-এর (নিজস্ব) নাতাশা জোকিচ একে সোজাসাপটা ভাষায় বলেছেন, “আমি জীবনে যত ছবি দেখেছি, এর চেয়ে খারাপ আর কোনোটা নয়।”
সবচেয়ে তীব্রভাবে বিষয়টি সংক্ষেপে ধরা পড়ে এই কথায়: “গত রাতে আমি রান্নাঘরের কাউন্টারে একটি খালি ছোলার ক্যান ফেলে রেখেছিলাম। ত্রিশ মিনিট পরে ফিরে এসে দেখি, ছোট ছোট কালো পোকায় ক্যানটা ভরে গেছে এবং তারা সিঙ্কের ওপর হামাগুড়ি দিচ্ছে। মেলানিয়া ছবির আর এক মিনিট দেখার চেয়ে আমি সেই মুহূর্তটা শতবার নতুন করে বাঁচতে রাজি।”