হাবড়া: স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর, ঘরবন্দি করে রাখা, এমনকি মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার মতো কদর্য অভিযোগ উঠল এক জওয়ানের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে হাবড়ার কুমড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিষা বেলের মাঠ এলাকায়। অভিযোগের ভিত্তিতে মনোরঞ্জন সরকার নামে ওই জওয়ানকে গ্রেফতার করেছে হাবড়া থানার পুলিশ।
২০১৭ সালে মনোরঞ্জনের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল পূজা সরকারের। পণের দাবি মিটিয়ে নগদ টাকা, সোনার গয়না ও আসবাবপত্র দিয়ে বিয়ে হলেও পূজা দেবীর অভিযোগ, সন্তান জন্মের পর থেকেই শুরু হয় চরম অত্যাচার। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। নির্যাতিতার দাবি, স্বামী মনোরঞ্জন, শ্বশুর মুকুন্দ সরকার, শাশুড়ি অঞ্জলী সরকার ও দুই প্রতিবেশী মহিলা মিলে চক্রবুহ্য তৈরি করে ক্রমাগত তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। পারিবারিক নানা তুচ্ছ অজুহাতে চলত অকথ্য মারধর। নির্যাতিতা জানান, গত ২৯ জানুয়ারি সকালে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি একজোট হয়ে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারেন এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। কোনওক্রমে সেখান থেকে পালিয়ে তিনি হাবড়া থানার দ্বারস্থ হন।
পুলিশের কাছে পূজা দেবী আরও এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, আজ থেকে মাস ছয়েক আগে তাঁকে একটি ঘরে জোরপূর্বক আটকে রেখে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দিয়েছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর গৃহবধূ হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ জওয়ান মনোরঞ্জন সরকারকে গ্রেফতার করেছে। নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ধৃতকে বারাসাত আদালতে তোলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক শ্বশুর-শাশুড়ি সহ বাকি অভিযুক্তরা। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।