Home খবরা খবর গোল্ড রাশ

গোল্ড রাশ

0 comments 70 views

বাংলাস্ফিয়ার: খবরের দুনিয়ায় যা-ই ঘটুক না কেন, সোনা এখন কেবলই ‘সুখবর’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইউরোপীয় মিত্রদের হুমকি দিচ্ছিলেন, তখন বাড়ছিল সোনার দাম। আবার যখন তিনি হুমকি থেকে সরে এলেন, তখনও দাম কমার লক্ষণ নেই। চলতি বছরেই সোনার দাম ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রথমবারের মতো ৫,০০০ ডলার ছাড়িয়ে গেল। ২০২৬ সাল শেষ হতে এখনও ঢের দেরি, অথচ এখনই সমস্ত বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গিয়েছে সোনার গ্রাফ।

বিনিয়োগকারীরা এখন ‘ডিবেসমেন্ট ট্রেড’ বা মুদ্রার মান হ্রাসের আশঙ্কায় ভুগছেন। অনিয়ন্ত্রিত সরকারি খরচ, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মাবলির ভাঙন দেখে মানুষের আস্থা কমছে সরকারি বন্ড ও ডলারের ওপর। গত বছরের ২ এপ্রিল ট্রাম্প যখন বিশ্বব্যাপী শুল্ক প্রাচীর তৈরির কথা ঘোষণা করেন, তারপর থেকে অন্তত ২৭ বার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ (S&P 500) সূচক ১ শতাংশের বেশি পড়েছে। দেখা গিয়েছে, শেয়ার বাজারের সেই পতনের দিনগুলোতে সোনার দাম গড়ে ০.৬ শতাংশ হারে বেড়েছে। মজার কথা হলো, শেয়ার বাজার যখন চাঙ্গা থাকে, তখনও সোনা পিছিয়ে নেই। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ শতাংশ বাড়লে সোনার দামও গড়ে ০.২ শতাংশ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

চীনের নেতৃত্বে উদীয়মান দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো এই দাম বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কথা মাথায় রেখে এই অতি-রক্ষণশীল বিনিয়োগকারীরা সশরীরে সোনার মালিকানা (Physical Gold) পেতে মরিয়া। পাশাপাশি গোল্ড এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফ-এর (ETF) দিকেও ঝুঁকছেন নতুন প্রজন্মের বিনিয়োগকারীরা। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গোল্ড ইটিএফ-এর ভাণ্ডারে ৪,০০০ টনের বেশি সোনা রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬৫০ বিলিয়ন ডলার। এখানেও চালকের আসনে এশীয়রা। চীনের ‘হুয়ান ইফু’ গোল্ড ইটিএফ-এ এখন বিপুল পরিমাণ পুঁজি আসছে। এমনকি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বড় তহবিলগুলোও সোনা কেনায় জোর দিয়েছে।

এশিয়ার অন্যতম বড় সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘ভ্যালু পার্টনার্স’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিলিয়নেয়ার চেহ চেং হাই জানিয়েছেন, তিনি এখন তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের ২৫ শতাংশ সোনায় বিনিয়োগ করছেন, যা গত বছর ছিল মাত্র ১৫ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের দরজাও খুলে যাচ্ছে দ্রুত। ভারতের ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) এখন তাদের ১৭৫ বিলিয়ন ডলার সম্পদের ১ শতাংশ গোল্ড ইটিএফ-এ রাখার অনুমতি দিয়েছে। চীনও তাদের বিমা সংস্থাগুলোকে একই ধরনের সুযোগ দিয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ অবশ্য সোনায় বিনিয়োগ নিয়ে নাক সিঁটকান। তাঁদের যুক্তি, সোনা থেকে কোনো নিয়মিত নগদ আয় বা ‘ক্যাশ-ফ্লো’ আসে না। তবুও বিপদের দিনে যে সম্পদ রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়ায়, তাকে এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। গোল্ডম্যান স্যাকস-এর মতে, মার্কিনীদের মোট সম্পদের মাত্র ০.১৭ শতাংশ সোনায় রয়েছে। এই বিনিয়োগের হার যদি সামান্য ০.০১ শতাংশও বাড়ে, তবে সোনার দাম বাড়বে প্রায় ১.৪ শতাংশ। ফলে এশিয়ার মতো উন্মাদনা না থাকলেও, কেবল সামান্য মার্কিন বিনিয়োগ বাড়লেই সোনার দৌড় থামানো মুশকিল।

 

 

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles