যখন অরিজিৎ সিং প্রেম, বিচ্ছেদ বা নিঃশব্দ একাকীত্বের কথা গেয়েছেন, তা শুধু গান হয়ে থাকেনি—তা হয়ে উঠেছে অনুভূতির ভাষা। এমন এক শিল্পী যখন জানালেন যে তিনি বলিউডের প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে আর কাজ করবেন না, তখন সেই খবরটা নেমে এলো খুব ধীরে, কিন্তু গভীরভাবে—ঠিক যেমন আসে অপ্রত্যাশিত মনখারাপ।
জানুয়ারির শেষ দিকে দেওয়া এক ঘোষণায় অরিজিৎ জানান, হিন্দি ছবির জন্য আর নতুন গান রেকর্ড করবেন না। একে তিনি বলেছেন তাঁর “একটি সুন্দর যাত্রার” শেষ। প্রায় দেড় দশক ধরে যে কণ্ঠস্বর সিনেমা হল, হেডফোন, রাতের বাসযাত্রা আর নিঃসঙ্গ ঘরের নীরবতার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল, তার এই সিদ্ধান্ত তাই লক্ষ লক্ষ শ্রোতার কাছে ব্যক্তিগত হয়ে উঠেছে।
তবে এটি বিদায় নয়।
অরিজিৎ সিং স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি সঙ্গীত ছাড়ছেন না। নিজের সুরে, নিজের নিয়মে, তিনি গান তৈরি করবেন। স্বাধীন সঙ্গীত, নিজস্ব কম্পোজিশন ও নতুন সৃজনশীল পথে হাঁটার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ইতিমধ্যে রেকর্ড হওয়া কিছু সিনেমার গান ভবিষ্যতে মুক্তি পেতে পারে, কিন্তু ছবির শুরুতে তাঁর কণ্ঠে গান শোনার অভ্যাসটা ধীরে ধীরে স্মৃতিতে পরিণত হবে।
এই সিদ্ধান্তের সময়টাই তাকে আরও অর্থবহ করে তোলে। অরিজিৎ সিং সরে দাঁড়াচ্ছেন এমন এক মুহূর্তে, যখন তাঁর জনপ্রিয়তা চূড়ায়। তুম হি হো, চান্না মেরেয়া, আগর তুম সাথ হো, কেশরিয়া—এই গানগুলো কেবল হিট নয়, বহু মানুষের জীবনের আবেগী চিহ্ন হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই অরিজিৎ ছিলেন বলিউডের কোলাহল থেকে খানিকটা দূরে। আড়ম্বর, পার্টি বা চর্চার আলো নয়—তিনি বেছে নিয়েছিলেন নীরবতা আর কাজ। হয়তো এই সিদ্ধান্তও সেই একই প্রবৃত্তি থেকে জন্ম নিয়েছে—যেখানে শিল্পী নিজেকে শোনার সময় চান, সঙ্গীতকে রুটিনে পরিণত হতে দিতে চান না।
এই ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে ভেসে এসেছে আবেগের ঢেউ। কেউ স্মরণ করেছেন প্রথম প্রেম, কেউ শেষ বিদায়, কেউ আবার সেই রাতগুলো, যখন অরিজিতের গান ছিল একমাত্র সঙ্গী। সহশিল্পীরাও তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে বলেছেন—দিশা বদল মানেই শিল্পীর হারিয়ে যাওয়া নয়।
আগামী দিনে কী অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে ইঙ্গিত রয়েছে—স্বাধীন সঙ্গীত, সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ, এমনকি সঙ্গীতের বাইরের কিছু উদ্যোগও। তবে আপাতত এটি যেন এক ক্ষণিক বিরতি। এক নিঃশব্দ পাতা উল্টে দেওয়া।
বলিউড প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়িয়ে অরিজিৎ সিং তাঁর কণ্ঠকে থামাননি।
তিনি শুধু তাকে একটু দূরে পাঠিয়েছেন—কম ভিড়ের দিকে, হয়তো আরও সত্যের দিকে।
সিনেমা তাঁকে মিস করবে।
কিন্তু সঙ্গীত—আজও তাঁর সঙ্গেই আছে।