বাংলাস্ফিয়ার: ইরানের আকাশসীমা ঘিরে যুদ্ধের দামামা! বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এক বিশাল নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ এখন ইরানের দিকে এগোচ্ছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে ইরানি আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েও কিছুটা পিছু হটেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ইরানি জমানার রক্তক্ষয়ী দমনপীড়নের ভয়াবহ ছবি স্পষ্ট হতেই ভোলবদল করেছে হোয়াইট হাউস। মানবাধিকার সংস্থা ‘হরানা’র (HRANA) মতে নিহতের সংখ্যা ৬,২২১ হলেও বিরোধী শিবিরের দাবি, সংখ্যাটা ৩০ হাজার ছুঁইছুঁই। এই আবহে ট্রাম্পের নজর এখন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, মিসাইল উৎপাদন এবং বিদেশনীতির দিকে। সাফ কথা, চুক্তি না করলে গত বছরের পরমাণু কেন্দ্রে হামলার চেয়েও ‘ভয়াবহ’ পরিণতির জন্য তৈরি থাকুক ইরান।
মার্কিন এই হুঁশিয়ারি যে নিছক ফাঁকা আওয়াজ নয়, তার প্রমাণ ওমান উপসাগরে পৌঁছে যাওয়া বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’। এই রণতরি থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান অনায়াসেই ইরানে আঘাত হানতে সক্ষম। সঙ্গে রয়েছে ইলেকট্রনিক-ওয়্যারফেয়ার এয়ারক্রাফট, যা ইরানের রেডার ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেবে। এর পাশাপাশি রয়েছে তিনটি ডেস্ট্রয়ার, যা ক্রুজ মিসাইল হামলা চালানোর পাশাপাশি ইরানের পাল্টা মিসাইল রুখে দিতে পারদর্শী।
উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে কাতারের আল-উদেইদ বায়ুসেনা ঘাঁটিতে নতুন এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করেছে আমেরিকা। জর্ডানে পাঠানো হয়েছে এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমান। ইসরায়েল প্রথমে হামলা নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত থাকলেও, বর্তমানে আমেরিকার এই সামরিক বিন্যাস যে কোনো ইরানি প্রত্যাঘাত রুখতে সক্ষম। যদিও কার্গো বিমানে করে প্যাট্রিয়ট বা থাড (THAAD) ব্যাটারি পাঠানোর প্রকাশ্য খবর মেলেনি, তবে আল-উদেইদ ঘাঁটিতে জ্বালানি ভরার বিমান (রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার) এবং নিখোঁজ পাইলটদের খোঁজার জন্য ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ (SAR) বিমানের আনাগোনা এক অশুভ ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিমান বিশেষজ্ঞ স্টিফেন ওয়াটকিনসের মতে, নজরদারি বিমানের এই অতি সক্রিয়তা আসলে ‘খুব শীঘ্রই বোমাবর্ষণের’ নিশ্চিত লক্ষণ।
ট্রাম্পের লক্ষ্য নিয়ে কূটনৈতিক মহলে তিনটি সম্ভাবনা ঘুরছে। অনেকেই অনুমান করছেন এটি নিছক প্রতীকী হামলা। মার্কিন শাসন রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের ওপর হামলা চালিয়ে নিজের লাল ফৌজের শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে। পাশাপাশি, এটি এক পুরোদস্তুর যুদ্ধের পরিকল্পনা হিসেবেও ধরা হচ্ছে। ইরানি নেতাদের খতম করে তখত উল্টে দেওয়ার চাল। তবে আরব ও ইউরোপীয় দেশগুলো এতে সন্দিহান, কারণ এতে দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হতে পারে। সৌদি ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ইতিমধ্যেই তাদের আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। তৃতীয় আনুমানই রয়েছে খানিক ধোঁয়াশা। অনেকেই বলছেন, এটি একটি অদ্ভুত হাইব্রিড অপারেশনের আকার ধারণ করেছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেইনিসহ শীর্ষ নেতাদের সরিয়ে দিয়ে ভেনিজুয়েলার মতো একটি সমঝোতা সরকার বসানোর চেষ্টা করছে।
শেষবেলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনার কথা বললেও, জুন মাসের সেই রেকর্ড তেহরান ভোলেনি। সেবার আলোচনার জন্য দু’সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প, আর তার ঠিক তিন দিনের মাথাতেই নেমেছিল মার্কিন বোমা। এবারও কি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে? নজর রাখছে বিশ্ব।