বাংলাস্ফিয়ার: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বসার কথা থাকলেও, টেবিলে বসার আগেই দুই পক্ষের মধ্যে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সাময়িকভাবে থামানো হয়েছিল আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান। সেই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতেই আজকের আলোচনার আয়োজন। মার্কিন প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হয়েছে এবং ইরানও নিশ্চিত করেছে যে তাদের প্রতিনিধিরা পৌঁছে গেছেন।
ইরানের শর্ত, আলোচনা অনিশ্চিত
তবে আলোচনা শুরুর আগেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ জানিয়েছেন, দুটি শর্ত এখনও পূরণ হয়নি — লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং আলোচনা শুরুর আগে ইরানের জমানো বৈদেশিক সম্পদ মুক্ত করা। এই দুটি শর্ত পূরণ না হলে কোনো আলোচনাই সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ঘালিবাফ, যিনি নিজেই ইসলামাবাদ আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
এর পাশাপাশি ইরানের সামরিক বাহিনীর যৌথ কমান্ড সতর্কবার্তা দিয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েল বারবার “বিশ্বাস ভঙ্গ” করায় তাদের আঙুল “ট্রিগারের উপর” রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ট্রাম্পের হুমকি
ওয়াশিংটনের তরফেও কড়া বার্তা এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক পোস্টকে বলেছেন, “আমরা জাহাজে সেরা অস্ত্র তুলছি। চুক্তি না হলে আমরা সেগুলো ব্যবহার করব, এবং খুব কার্যকরভাবে করব।”
ট্রুথ সোশ্যালেও তিনি লিখেছেন, “ইরানিরা বুঝতে পারছে না যে তাদের কাছে কোনো তাস নেই, শুধু হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বকে সাময়িক চাপ দেওয়া ছাড়া।”
বিরোধের মূল বিষয়গুলো
দুই পক্ষের মধ্যে প্রধান বিরোধের বিষয় হলো হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, ইরানের জমানো বিদেশি সম্পদ, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং লেবাননে ইজরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান।
লেবাননের প্রশ্নে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। আমেরিকা ও ইজরায়েল বলছে লেবানন ইস্যু এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ নয়, অন্যদিকে ইরান ও পাকিস্তান বলছে এটি অবশ্যই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। এই মতবিরোধ আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে, কারণ শুক্রবারও লেবাননে ইজরায়েলের আক্রমণ অব্যাহত ছিল। গত বুধবার সবচেয়ে ভয়াবহ দিনে অন্তত ৩০০ জন নিহত হয়েছেন।
ভ্যান্সের আশাবাদ
এত উত্তেজনার মধ্যেও আশার কথা শুনিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় তিনি বলেন, আলোচনায় “ইতিবাচক” ফলের আশা রাখছেন। তবে সতর্কও করেছেন তিনি — ইরান যদি সদিচ্ছায় আলোচনায় বসে তাহলে ভালো, কিন্তু কোনো চালাকি বরদাশত করা হবে না।
পূর্বের ব্যর্থতার ছায়া
এই আলোচনার পেছনে রয়েছে একাধিক ব্যর্থতার ইতিহাস। এর আগে পরমাণু আলোচনার দুটি দফা পণ্ড হয়ে গিয়েছিল — প্রথমবার ২০২৫ সালের জুনে ইজরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে, এবং দ্বিতীয়বার চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ আক্রমণের ফলে। সেই ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে আজকের আলোচনা কতটা এগোবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।