5
বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এমনিতেই সর্বদা একটু বেশি উত্তাপের, একটু বেশি রসের এবং একটু বেশি নাটকীয়তার। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যা ঘটছে, তা নিছক রাজনীতি নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ভাতা-মহাভারত। দুই পক্ষ — একদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জার বিজেপি — এমনভাবে টাকার বস্তা নিয়ে মাঠে নেমেছে যে সাধারণ ভোটার হিসেব কষতে বসলে মাথা ঘুরে যাওয়ার কথা। প্রশ্নটা এখন আর “কে ভালো শাসন করবে” নয়, প্রশ্নটা হয়ে দাঁড়িয়েছে — “কে বেশি টাকা দেবে।” এবং এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দুটি দলই এমন এক প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে যা দেখতে অনেকটা সেই বাজারের নিলামের মতো, যেখানে ক্রেতা হচ্ছে ভোটার আর বিক্রেতারা হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। পার্থক্য শুধু একটাই — এই নিলামে যে জিনিসটা বিক্রি হচ্ছে, সেটা হল সরকারি কোষাগার থেকে তোলা জনগণেরই টাকা।
তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ইস্তেহারে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভাতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে — সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং SC/ST মহিলারা মাসে ১,৭০০ টাকা পাবেন। এটি তৃণমূলের সেই ঐতিহাসিক অস্ত্র, যা ২০২১ সালে ভোটের মাঠে এক অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দিয়েছিল। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার শুধু একটি প্রকল্পের নাম নয়, এটি তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি স্তম্ভ। লক্ষ লক্ষ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে টাকা পৌঁছে দেওয়ার এই কৌশলটি যে বাস্তবেই কার্যকর হয়েছে, সেটা তৃণমূলের আগের জয় প্রমাণ করেছে। কিন্তু বিজেপি এই অঙ্কের মাঠেই তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে — এবং চ্যালেঞ্জ করেছে পুরোপুরি সংখ্যার জোরে।
বিজেপি তাদের ‘সঙ্কল্প পত্র’-এ ঘোষণা করেছে, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে, যা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে এবং মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যেই পৌঁছে যাবে। অর্থাৎ তৃণমূলের ১,৫০০-র দ্বিগুণ। শুধু তাই নয়, শুভেন্দু অধিকারী নিজের জেলা পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ঘোষণা করেছেন যে ক্ষমতায় এলে ১ জুন থেকেই মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা পাঠানো শুরু হবে। তারিখ পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে — ১ জুন। যেন ডেলিভারি চার্ট দেখাচ্ছেন, আমাজনের প্যাকেজের মতো। শুধু পার্থক্য, এই প্যাকেজ পৌঁছাবে কিনা সেটা নির্ভর করছে ভোটে জিতলে কিনা তার উপর।
এই দৃশ্যটা একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলে কিছুটা হাস্যরসের, কিছুটা বেদনার। তৃণমূল ১,৫০০ টাকা দেয়, বিজেপি বলছে আমরা দেব ৩,০০০। পরদিন সকালে তৃণমূলের কোনো নেতা যদি মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন যে আমরা ৩,৫০০ দেব, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এটি একটি ভাতার নিলাম, একটি দরদাম প্রতিযোগিতা — এবং এতে দুই দলের কেউই একটু থেমে ভাবছেন না যে এই অর্থ আসবে কোথা থেকে। রাজ্যের কোষাগারের হালচাল যাঁরা জানেন, তাঁরা বলবেন এই প্রতিশ্রুতির গণিত মেলানো কার্যত অসাধ্য। কিন্তু নির্বাচনী মরশুমে গণিতের দরকার কে রাখে?
বিজেপির সঙ্কল্প পত্রে শুধু মহিলা ভাতা নয়, বেকার যুবকদের জন্য প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা ‘বেকার ভাতা’ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য এককালীন ১৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূল তাদের ইস্তেহারে ‘বাংলার যুব-সাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছে। অর্থাৎ যুব ভাতার ক্ষেত্রেও সেই একই ছাঁচ — তৃণমূল ১,৫০০, বিজেপি ৩,০০০। মনে হচ্ছে বিজেপি একটা সহজ সূত্র আবিষ্কার করেছে: তৃণমূল যা বলবে তার দ্বিগুণ বলো। গণিতটা যত সহজ, বাস্তবায়নটা তত কঠিন — কিন্তু ভোটের মঞ্চে সেই সত্যটা আর কেউ জানতে চায় না।
এখানে একটু থেমে বিজেপির কৌশলটা বিশ্লেষণ করা দরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণাগুলি শুধুমাত্র উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা হিসেবেই বিজেপি এই বড় অঙ্কের ভাতার ঘোষণা করেছে। তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে বিজেপি ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ ও ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পের কথা আগেই ঘোষণা করেছিল। নামের দিকে লক্ষ করুন। একদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, অন্যদিকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। যেন দেবীর পরিবর্তনের প্রতিযোগিতা চলছে। তৃণমূল লক্ষ্মীর নাম নিয়েছিল, বিজেপি নিল অন্নপূর্ণার। ধর্মীয় আবেগের সাথে অর্থনৈতিক প্রলোভনের এই অদ্ভুত মিশ্রণটি বাংলার নির্বাচনী রাজনীতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
কিন্তু আসল প্রশ্নটি হল — এই দুই দলের ভাতার প্রতিশ্রুতির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কোথায়? তৃণমূলের ক্ষেত্রে বলতে হয়, তারা অন্তত বাস্তবে কিছুটা হলেও দিয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার একটি চলমান প্রকল্প, ভোটারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা গেছে — এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু বিজেপির প্রতিশ্রুতিটা সম্পূর্ণ শর্তাধীন: “ক্ষমতায় এলে।” এটি ভবিষ্যতের একটি চেক, এবং সেই চেকটা কার্যকর হবে কিনা তা নির্ভর করছে একটি হাইপোথেটিক্যাল পরিস্থিতির উপর। এটা অনেকটা এমন যে কেউ বলছে — আমাকে বিয়ে করলে তোমাকে হীরার আংটি দেব। দেওয়ার প্রশ্ন পরে, আগে বিয়েটা সারতে হবে।
তৃণমূলের কৌশলটা অবশ্য আলাদা ধরনের। তারা একটি রানিং গভর্নমেন্ট হিসেবে বলছে — আমরা ইতিমধ্যেই দিচ্ছি, এবার আরও বাড়াব। এই বার্তাটার একটা বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত আছে। ভোটার যদি ইতিমধ্যেই টাকা পেয়ে থাকেন, তাহলে আরও পাওয়ার প্রতিশ্রুতিটা বিমূর্ত মনে হয় না। অন্যদিকে বিজেপির ৩,০০০ টাকার প্রতিশ্রুতিটা অনেক বেশি বড়, অনেক বেশি চমকপ্রদ, কিন্তু সেটার কোনো প্রমাণিত ট্র্যাক রেকর্ড পশ্চিমবঙ্গে নেই। বিজেপি কেন্দ্রে এনডিএ সরকার চালাচ্ছে, সেখানে পিএম কিষান বা অন্যান্য প্রকল্পের উদাহরণ দেখানো যেতে পারে — কিন্তু রাজ্যে এখনও তারা বিরোধী দল।
বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ভাতাও বাড়ানো হবে। এই ঘোষণাগুলো স্তরে স্তরে সাজানো। মহিলারা আছেন, যুবক-যুবতীরা আছেন, ছাত্ররা আছেন, বৃদ্ধরা আছেন, বিধবারা আছেন, প্রতিবন্ধীরা আছেন। কার্যত সমাজের এমন কোনো অংশ নেই যাদের জন্য কোনো না কোনো ভাতার প্রতিশ্রুতি নেই। এটা পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল এটা কি ইস্তেহার না দেউলিয়া হওয়ার রোডম্যাপ? পশ্চিমবঙ্গ এমনিতেই ঋণের বোঝায় ভারাক্রান্ত একটি রাজ্য। সেখানে এই পরিমাণ ভাতা চালু করলে রাজ্যের অর্থনীতির কী হবে — সেই প্রশ্নটা কোনো দলই তুলছে না।
বিজেপির সঙ্কল্প পত্রে মহিলাদের জন্য ১০০ শতাংশ বিনামূল্যে পরিবহণের সুবিধা চালু করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। এটাও তৃণমূলের একটি পুরনো প্রকল্পের অনুকরণ, কারণ মমতার সরকার মহিলাদের বাসে বিনামূল্যে চলাচলের সুবিধা অনেক আগেই দিয়েছে। অর্থাৎ বিজেপি এখানে একটি চালু প্রকল্পকেই নিজের নতুন প্রতিশ্রুতি হিসেবে পরিবেশন করছে। এটা অনেকটা রেস্তোরাঁর রান্না চুরি করে সেটা নিজের মেনুতে ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো।
তৃণমূলের দিক থেকে দেখলে, তাদের ইস্তেহারটা বিজেপির মতো এত লাউড নয়, তত চোখ ধাঁধানো নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তেহার প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন যে এটি কেবল কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, বরং আগামী পাঁচ বছরে বাংলার সুশাসন ও উন্নয়নের পথনকশা। কথাটা শুনতে ভালো। কিন্তু যখন দেখা যাচ্ছে যে সেই পথনকশারও মূল খুঁটিটা হল ভাতার সংখ্যা, তখন সুশাসনের দাবিটা একটু ফাঁকা মনে হয়। পাকা বাড়ির প্রতিশ্রুতি, বিশুদ্ধ পানীয় জলের প্রতিশ্রুতি, ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য ক্লিনিকের প্রতিশ্রুতি — এগুলো আছে বটে, কিন্তু মাঠে যে আলোচনা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে সেটা হল কে কত বেশি দেবে।
সবচেয়ে মজার দিকটা হল নামকরণের খেলা। তৃণমূলের আছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বাংলার যুব সাথী। বিজেপির আছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, যুবশক্তি। দুটো দলই বাংলার আবেগকে, বাংলার দেবদেবীকে, বাংলার ঐতিহ্যকে ব্যবহার করছে। দুটো দলই বাংলাকে ভালোবাসার দাবিদার। পার্থক্য শুধু একটাই — একটি দল বাংলা বলতে তৃণমূলের বাংলা বোঝে, অন্যটি বোঝে বিজেপির বাংলা। ভাতার বাইরে কার বাংলার স্বপ্নটা কেমন, সেই আলোচনা এই নির্বাচনে প্রায় হারিয়েই গেছে।
পশ্চিমবঙ্গের এই বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটিরও বেশি, যার মধ্যে মহিলা ভোটার প্রায় ৩ কোটি ৪৪ লক্ষ। মহিলা ভোটারদের এই বিশাল সংখ্যাটা মাথায় রাখলে বোঝা যায় কেন দুই দলই মহিলা ভাতার দিকে এত জোর দিচ্ছে। সাড়ে তিন কোটির বেশি মহিলা ভোটার — এই সংখ্যাটা কোনো দলের পক্ষেই উপেক্ষা করার মতো নয়। কিন্তু এই মহিলাদের প্রতি যদি সত্যিকারের সম্মান থাকত, তাহলে কি শুধু মাসিক ভাতার প্রলোভন দেওয়া হত? নাকি তাঁদের কর্মসংস্থানের কথা, নিরাপত্তার কথা, শিক্ষার কথা, স্বাস্থ্যসেবার কথা আরও গভীরভাবে আলোচনা হত? ভাতা দেওয়াটাকে যখন রাজনীতির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার করা হয়, তখন একটা অস্বস্তিকর প্রশ্ন উঠে আসে — মহিলা ভোটারকে কি আসলে নাগরিক মনে করা হচ্ছে, নাকি ভোট-ব্যাংক?
বিজেপির প্রতিশ্রুতির আরেকটি দিক লক্ষণীয়। তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলছে, নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে বঞ্চিতদের জন্য বয়সে ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগের কথা বলছে। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, কারণ পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি ইতিমধ্যেই ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতায় এই ইস্যুগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে ভাতার চটকদার সংখ্যার আড়ালে। ৩,০০০ টাকার ঘোষণাটা যেভাবে শিরোনাম হয়েছে, সেভাবে স্বচ্ছ নিয়োগের প্রতিশ্রুতিটা হয়নি। এটা মিডিয়ার দোষ না ভোটারের, না রাজনীতিবিদের — সেটা আলাদা বিতর্কের বিষয়। কিন্তু ঘটনাটা ঘটছে।
তৃণমূলের পক্ষে বলতে গেলে, তারা প্রথম থেকেই ভাতা-কেন্দ্রিক রাজনীতির উদ্গাতা। সমালোচকরা বলবেন এটা ভোটারদের নির্ভরশীল করে রাখার কৌশল, প্রকৃত উন্নয়নের বিকল্প হিসেবে ভাতা গছিয়ে দেওয়া। কিন্তু সমর্থকরা বলবেন, গরিব মানুষের হাতে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়াটাও তো একটা উন্নয়ন, এটাকে ছোট করে দেখার কী আছে? দুটো দৃষ্টিভঙ্গিরই যুক্তি আছে। কিন্তু বিজেপি এই ভাতার রাজনীতিকে সমালোচনা করতে করতে নিজেই সেই একই পথে হাঁটছে — তবে দ্বিগুণ গতিতে। এটাকে রাজনৈতিক ভণ্ডামি বলব, না বাস্তববাদিতা বলব, তা বিতর্কের বিষয়।
সবশেষে যে কথাটা না বললেই নয়, সেটা হল এই সমগ্র ভাতা-যুদ্ধের বাইরে পশ্চিমবঙ্গের একটা বড় এবং মৌলিক সমস্যা রয়েই গেছে, যেটা নিয়ে কোনো পক্ষই বিশেষ উত্তেজিত নয় — সেটা হল কর্মসংস্থান। বেকার যুবককে ৩,০০০ টাকার ভাতা দেওয়া আর বেকারত্ব দূর করা এক কথা নয়। একটা মানুষকে মাছ দেওয়া আর মাছ ধরা শেখানো — পুরনো প্রবাদটার মতোই এই পার্থক্যটা এখনও প্রাসঙ্গিক। রাজ্য থেকে শিল্প যাচ্ছে, কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না, মেধাবী ছেলেমেয়ে অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে — এই মৌলিক সমস্যার সমাধান কোনো ভাতায় নেই। কিন্তু সমাধানের কথা বলা কঠিন, সংখ্যা বলা সহজ। তাই ৩,০০০ বনাম ১,৫০০-র লড়াইয়েই এই নির্বাচনের মূল চরিত্র নির্ধারিত হয়ে গেছে।
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার শেষমেশ কোন ভাতার গন্ধে কোন দিকে হাঁটবেন, সেটা বলার ক্ষমতা কারো নেই। কিন্তু এটুকু বলা যায় — এই যুদ্ধে দুটো দলই জিতুক বা হারুক, আসল পরীক্ষাটা ভোটের পরে। যখন প্রতিশ্রুতির হিসাব মেলানোর সময় আসবে, তখন দেখা যাবে কার ভাণ্ডারে আসলে কতটুকু আছে — লক্ষ্মীর না অন্নপূর্ণার।
তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ইস্তেহারে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভাতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে — সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং SC/ST মহিলারা মাসে ১,৭০০ টাকা পাবেন। এটি তৃণমূলের সেই ঐতিহাসিক অস্ত্র, যা ২০২১ সালে ভোটের মাঠে এক অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দিয়েছিল। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার শুধু একটি প্রকল্পের নাম নয়, এটি তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি স্তম্ভ। লক্ষ লক্ষ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে টাকা পৌঁছে দেওয়ার এই কৌশলটি যে বাস্তবেই কার্যকর হয়েছে, সেটা তৃণমূলের আগের জয় প্রমাণ করেছে। কিন্তু বিজেপি এই অঙ্কের মাঠেই তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে — এবং চ্যালেঞ্জ করেছে পুরোপুরি সংখ্যার জোরে।
বিজেপি তাদের ‘সঙ্কল্প পত্র’-এ ঘোষণা করেছে, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে, যা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে এবং মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যেই পৌঁছে যাবে। অর্থাৎ তৃণমূলের ১,৫০০-র দ্বিগুণ। শুধু তাই নয়, শুভেন্দু অধিকারী নিজের জেলা পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ঘোষণা করেছেন যে ক্ষমতায় এলে ১ জুন থেকেই মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা পাঠানো শুরু হবে। তারিখ পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে — ১ জুন। যেন ডেলিভারি চার্ট দেখাচ্ছেন, আমাজনের প্যাকেজের মতো। শুধু পার্থক্য, এই প্যাকেজ পৌঁছাবে কিনা সেটা নির্ভর করছে ভোটে জিতলে কিনা তার উপর।
এই দৃশ্যটা একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলে কিছুটা হাস্যরসের, কিছুটা বেদনার। তৃণমূল ১,৫০০ টাকা দেয়, বিজেপি বলছে আমরা দেব ৩,০০০। পরদিন সকালে তৃণমূলের কোনো নেতা যদি মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন যে আমরা ৩,৫০০ দেব, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এটি একটি ভাতার নিলাম, একটি দরদাম প্রতিযোগিতা — এবং এতে দুই দলের কেউই একটু থেমে ভাবছেন না যে এই অর্থ আসবে কোথা থেকে। রাজ্যের কোষাগারের হালচাল যাঁরা জানেন, তাঁরা বলবেন এই প্রতিশ্রুতির গণিত মেলানো কার্যত অসাধ্য। কিন্তু নির্বাচনী মরশুমে গণিতের দরকার কে রাখে?
বিজেপির সঙ্কল্প পত্রে শুধু মহিলা ভাতা নয়, বেকার যুবকদের জন্য প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা ‘বেকার ভাতা’ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য এককালীন ১৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূল তাদের ইস্তেহারে ‘বাংলার যুব-সাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছে। অর্থাৎ যুব ভাতার ক্ষেত্রেও সেই একই ছাঁচ — তৃণমূল ১,৫০০, বিজেপি ৩,০০০। মনে হচ্ছে বিজেপি একটা সহজ সূত্র আবিষ্কার করেছে: তৃণমূল যা বলবে তার দ্বিগুণ বলো। গণিতটা যত সহজ, বাস্তবায়নটা তত কঠিন — কিন্তু ভোটের মঞ্চে সেই সত্যটা আর কেউ জানতে চায় না।
এখানে একটু থেমে বিজেপির কৌশলটা বিশ্লেষণ করা দরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণাগুলি শুধুমাত্র উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা হিসেবেই বিজেপি এই বড় অঙ্কের ভাতার ঘোষণা করেছে। তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে বিজেপি ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ ও ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পের কথা আগেই ঘোষণা করেছিল। নামের দিকে লক্ষ করুন। একদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, অন্যদিকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। যেন দেবীর পরিবর্তনের প্রতিযোগিতা চলছে। তৃণমূল লক্ষ্মীর নাম নিয়েছিল, বিজেপি নিল অন্নপূর্ণার। ধর্মীয় আবেগের সাথে অর্থনৈতিক প্রলোভনের এই অদ্ভুত মিশ্রণটি বাংলার নির্বাচনী রাজনীতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
কিন্তু আসল প্রশ্নটি হল — এই দুই দলের ভাতার প্রতিশ্রুতির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কোথায়? তৃণমূলের ক্ষেত্রে বলতে হয়, তারা অন্তত বাস্তবে কিছুটা হলেও দিয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার একটি চলমান প্রকল্প, ভোটারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা গেছে — এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু বিজেপির প্রতিশ্রুতিটা সম্পূর্ণ শর্তাধীন: “ক্ষমতায় এলে।” এটি ভবিষ্যতের একটি চেক, এবং সেই চেকটা কার্যকর হবে কিনা তা নির্ভর করছে একটি হাইপোথেটিক্যাল পরিস্থিতির উপর। এটা অনেকটা এমন যে কেউ বলছে — আমাকে বিয়ে করলে তোমাকে হীরার আংটি দেব। দেওয়ার প্রশ্ন পরে, আগে বিয়েটা সারতে হবে।
তৃণমূলের কৌশলটা অবশ্য আলাদা ধরনের। তারা একটি রানিং গভর্নমেন্ট হিসেবে বলছে — আমরা ইতিমধ্যেই দিচ্ছি, এবার আরও বাড়াব। এই বার্তাটার একটা বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত আছে। ভোটার যদি ইতিমধ্যেই টাকা পেয়ে থাকেন, তাহলে আরও পাওয়ার প্রতিশ্রুতিটা বিমূর্ত মনে হয় না। অন্যদিকে বিজেপির ৩,০০০ টাকার প্রতিশ্রুতিটা অনেক বেশি বড়, অনেক বেশি চমকপ্রদ, কিন্তু সেটার কোনো প্রমাণিত ট্র্যাক রেকর্ড পশ্চিমবঙ্গে নেই। বিজেপি কেন্দ্রে এনডিএ সরকার চালাচ্ছে, সেখানে পিএম কিষান বা অন্যান্য প্রকল্পের উদাহরণ দেখানো যেতে পারে — কিন্তু রাজ্যে এখনও তারা বিরোধী দল।
বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ভাতাও বাড়ানো হবে। এই ঘোষণাগুলো স্তরে স্তরে সাজানো। মহিলারা আছেন, যুবক-যুবতীরা আছেন, ছাত্ররা আছেন, বৃদ্ধরা আছেন, বিধবারা আছেন, প্রতিবন্ধীরা আছেন। কার্যত সমাজের এমন কোনো অংশ নেই যাদের জন্য কোনো না কোনো ভাতার প্রতিশ্রুতি নেই। এটা পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল এটা কি ইস্তেহার না দেউলিয়া হওয়ার রোডম্যাপ? পশ্চিমবঙ্গ এমনিতেই ঋণের বোঝায় ভারাক্রান্ত একটি রাজ্য। সেখানে এই পরিমাণ ভাতা চালু করলে রাজ্যের অর্থনীতির কী হবে — সেই প্রশ্নটা কোনো দলই তুলছে না।
বিজেপির সঙ্কল্প পত্রে মহিলাদের জন্য ১০০ শতাংশ বিনামূল্যে পরিবহণের সুবিধা চালু করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। এটাও তৃণমূলের একটি পুরনো প্রকল্পের অনুকরণ, কারণ মমতার সরকার মহিলাদের বাসে বিনামূল্যে চলাচলের সুবিধা অনেক আগেই দিয়েছে। অর্থাৎ বিজেপি এখানে একটি চালু প্রকল্পকেই নিজের নতুন প্রতিশ্রুতি হিসেবে পরিবেশন করছে। এটা অনেকটা রেস্তোরাঁর রান্না চুরি করে সেটা নিজের মেনুতে ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো।
তৃণমূলের দিক থেকে দেখলে, তাদের ইস্তেহারটা বিজেপির মতো এত লাউড নয়, তত চোখ ধাঁধানো নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তেহার প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন যে এটি কেবল কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, বরং আগামী পাঁচ বছরে বাংলার সুশাসন ও উন্নয়নের পথনকশা। কথাটা শুনতে ভালো। কিন্তু যখন দেখা যাচ্ছে যে সেই পথনকশারও মূল খুঁটিটা হল ভাতার সংখ্যা, তখন সুশাসনের দাবিটা একটু ফাঁকা মনে হয়। পাকা বাড়ির প্রতিশ্রুতি, বিশুদ্ধ পানীয় জলের প্রতিশ্রুতি, ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য ক্লিনিকের প্রতিশ্রুতি — এগুলো আছে বটে, কিন্তু মাঠে যে আলোচনা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে সেটা হল কে কত বেশি দেবে।
সবচেয়ে মজার দিকটা হল নামকরণের খেলা। তৃণমূলের আছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বাংলার যুব সাথী। বিজেপির আছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, যুবশক্তি। দুটো দলই বাংলার আবেগকে, বাংলার দেবদেবীকে, বাংলার ঐতিহ্যকে ব্যবহার করছে। দুটো দলই বাংলাকে ভালোবাসার দাবিদার। পার্থক্য শুধু একটাই — একটি দল বাংলা বলতে তৃণমূলের বাংলা বোঝে, অন্যটি বোঝে বিজেপির বাংলা। ভাতার বাইরে কার বাংলার স্বপ্নটা কেমন, সেই আলোচনা এই নির্বাচনে প্রায় হারিয়েই গেছে।
পশ্চিমবঙ্গের এই বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটিরও বেশি, যার মধ্যে মহিলা ভোটার প্রায় ৩ কোটি ৪৪ লক্ষ। মহিলা ভোটারদের এই বিশাল সংখ্যাটা মাথায় রাখলে বোঝা যায় কেন দুই দলই মহিলা ভাতার দিকে এত জোর দিচ্ছে। সাড়ে তিন কোটির বেশি মহিলা ভোটার — এই সংখ্যাটা কোনো দলের পক্ষেই উপেক্ষা করার মতো নয়। কিন্তু এই মহিলাদের প্রতি যদি সত্যিকারের সম্মান থাকত, তাহলে কি শুধু মাসিক ভাতার প্রলোভন দেওয়া হত? নাকি তাঁদের কর্মসংস্থানের কথা, নিরাপত্তার কথা, শিক্ষার কথা, স্বাস্থ্যসেবার কথা আরও গভীরভাবে আলোচনা হত? ভাতা দেওয়াটাকে যখন রাজনীতির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার করা হয়, তখন একটা অস্বস্তিকর প্রশ্ন উঠে আসে — মহিলা ভোটারকে কি আসলে নাগরিক মনে করা হচ্ছে, নাকি ভোট-ব্যাংক?
বিজেপির প্রতিশ্রুতির আরেকটি দিক লক্ষণীয়। তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলছে, নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে বঞ্চিতদের জন্য বয়সে ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগের কথা বলছে। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, কারণ পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি ইতিমধ্যেই ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতায় এই ইস্যুগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে ভাতার চটকদার সংখ্যার আড়ালে। ৩,০০০ টাকার ঘোষণাটা যেভাবে শিরোনাম হয়েছে, সেভাবে স্বচ্ছ নিয়োগের প্রতিশ্রুতিটা হয়নি। এটা মিডিয়ার দোষ না ভোটারের, না রাজনীতিবিদের — সেটা আলাদা বিতর্কের বিষয়। কিন্তু ঘটনাটা ঘটছে।
তৃণমূলের পক্ষে বলতে গেলে, তারা প্রথম থেকেই ভাতা-কেন্দ্রিক রাজনীতির উদ্গাতা। সমালোচকরা বলবেন এটা ভোটারদের নির্ভরশীল করে রাখার কৌশল, প্রকৃত উন্নয়নের বিকল্প হিসেবে ভাতা গছিয়ে দেওয়া। কিন্তু সমর্থকরা বলবেন, গরিব মানুষের হাতে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়াটাও তো একটা উন্নয়ন, এটাকে ছোট করে দেখার কী আছে? দুটো দৃষ্টিভঙ্গিরই যুক্তি আছে। কিন্তু বিজেপি এই ভাতার রাজনীতিকে সমালোচনা করতে করতে নিজেই সেই একই পথে হাঁটছে — তবে দ্বিগুণ গতিতে। এটাকে রাজনৈতিক ভণ্ডামি বলব, না বাস্তববাদিতা বলব, তা বিতর্কের বিষয়।
সবশেষে যে কথাটা না বললেই নয়, সেটা হল এই সমগ্র ভাতা-যুদ্ধের বাইরে পশ্চিমবঙ্গের একটা বড় এবং মৌলিক সমস্যা রয়েই গেছে, যেটা নিয়ে কোনো পক্ষই বিশেষ উত্তেজিত নয় — সেটা হল কর্মসংস্থান। বেকার যুবককে ৩,০০০ টাকার ভাতা দেওয়া আর বেকারত্ব দূর করা এক কথা নয়। একটা মানুষকে মাছ দেওয়া আর মাছ ধরা শেখানো — পুরনো প্রবাদটার মতোই এই পার্থক্যটা এখনও প্রাসঙ্গিক। রাজ্য থেকে শিল্প যাচ্ছে, কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না, মেধাবী ছেলেমেয়ে অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে — এই মৌলিক সমস্যার সমাধান কোনো ভাতায় নেই। কিন্তু সমাধানের কথা বলা কঠিন, সংখ্যা বলা সহজ। তাই ৩,০০০ বনাম ১,৫০০-র লড়াইয়েই এই নির্বাচনের মূল চরিত্র নির্ধারিত হয়ে গেছে।
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার শেষমেশ কোন ভাতার গন্ধে কোন দিকে হাঁটবেন, সেটা বলার ক্ষমতা কারো নেই। কিন্তু এটুকু বলা যায় — এই যুদ্ধে দুটো দলই জিতুক বা হারুক, আসল পরীক্ষাটা ভোটের পরে। যখন প্রতিশ্রুতির হিসাব মেলানোর সময় আসবে, তখন দেখা যাবে কার ভাণ্ডারে আসলে কতটুকু আছে — লক্ষ্মীর না অন্নপূর্ণার।